দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে রয়েছে শূন্যে ঝুলন্ত এক হোটেল। এই হোটেলে যেতে হলে আপনাকে আরোহন করতে হবে খাড়া পাহাড়।
ন্যাটুরা ভিভ স্কাইলজ নামের হোটেলটি
পেরুর কুসকো অঞ্চলের উপত্যকায় অবস্থিত। পাহাড়ের খাদের ধারে ভূপৃষ্ট থেকে তেরোশো ফুট উপরে অবস্থিত এটি।
পর্যটকদের সেখানে যেতে হয় জিপ লাইনের সাহায্যে। তবে এডভেঞ্চার প্রেমীদের এডভেঞ্চারের মাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দিতে হাইকিং করে যাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
হোটেলের স্যুট গুলো দেখতে অনেকটা ক্যাপসুলের মত। চব্বিশ ফুট দৈর্ঘ্য এবং আট ফুট প্রস্থের এক একটি এক্সক্লুসিভ ক্যাপসুল স্যুটে রয়েছে আট জনের বেডরুম, একটি ডাইনিং রুম এবং একটি ব্যক্তিগত বাথরুম।
ক্যাপসুল গুলো পুরোটাই স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়ালের তৈরি। যার ফলে খাদের ওপর থেকে দিন কিংবা রাতের অপরূপ প্রকৃতি সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারেন পর্যটকরা।
স্যুটের ভিতরে আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছয়টি জানালার পাশাপাশি বায়ু চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উল্লম্ব ভাবে ঝুলতে থাকা স্বচ্ছ কাঁচের তৈরি ক্যাপসুল স্যুট গুলি অ্যারোস্পেস অ্যালুমিনিয়াম এবং আবহাওয়া প্রতিরোধী পলিকার্বোনেট দিয়ে তৈরি।
পাহাড়ি অঞ্চলে ঘরবাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেগুলোকে শূন্যের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। হোটেলেটি তৈরির ক্ষেত্রেও নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
প্রত্যেকটি ক্যাপসুল স্যুটকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশেষ ভাবে পাহারের উপর ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
ক্যাপসুলে প্রবেশদ্বারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে উপরের দিকে। ভিতরে আলোকিত রাখতে সোলার প্যানেলের সাহায্যে চলতে পারে এরকম বেশ কয়েকটি বাতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পর্যটকরা এখান থেকে সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। রাতের বেলায় বেডরুম থেকেই স্বচ্ছ কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে উপত্যকার অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন প্রকৃতি প্রেমীরা।
বিকেল বেলায় চা পানীয় পানের জন্য পাহাড়ের খাঁজে বসার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেখানে বসে চায়ের পাশাপাশি চারপাশের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ উপভোগ করতে পারবে তারা।
স্বচ্ছ কাচের দেয়ালের তৈরি হরেও কক্ষ গুলোর গোপনীয়তার রক্ষার জন্য পর্দার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা পর্যটকদের ব্যক্তিগত মুহুর্ত সুরক্ষিত করে রাখবে।
পর্যটকদের আরাম আয়েশের জন্য কোনো কমতি রাখা হয়নি। আরামদায়ক বিছানা থেকে শুরু করে বালিশ এবং কাথার ব্যবস্থাও রাখা হযেছে।
রোমাঞ্চকর এই হোটেলের কক্ষ গুলোতে এক রাত থাকতে হলে সেবার মান ভেদে জনপ্রতি চৌদ্দশো পঁচাশি থেকে পনেরোশো পচাত্তর পেরুভিয়ান সোল গুনতে হয়। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় চল্লিশ থেকে বিয়াল্লিশ হাজার টাকার মত।
পেরুর মত বিশ্বের অনেক দেশেই এমন ঝুলন্ত হোটেল রযেছে। বিশ্বের সবচাইতে বড় ঝুলন্ত হোটেল রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়।
দেশটির পুরওয়াকার্তায় ভূমি থেকে প্রায় পাঁচশো মিটার উপরে পাহাড়ের গায়ে অবস্থিত হোটেলটি।
যেখানে যেতে প্রায় এক ঘন্টা হাইকিং করতে হয় পর্যটকদের। মাঝে দুই বার যাত্রাবিরতি দেয়া হয়।
হোটেলটিতে মোট চারজন পর্যটক একসাথে থাকতে পারেন। বুলেটপ্রুভ পলিকার্বোনেটে দিয়ে তৈরি হোটেলটি দুই টন পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি এর চাইতেও প্রায় দশ গুন বেশি ওজন বহনেও এর কিছু হবে না।
এখানে প্রতি রাত থাকার পর্যটকদের জনপ্রতি প্রায় তিনশো ডলার খরচ করতে হয়। প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য উপভোগের জন্য প্রতিদিনই পর্যটকরা ভিড় করেন এই হোটেলে।