দু বছর আগে বাগদান! অবশেষে বিয়ের সানাই বাজলো আফ্রিদি কন্যা আনশার! এখন থেকে শাহীন আফ্রিদির নতুন পরিচয় বুম বুম আফ্রিদির মেয়ে জামাই!
হালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার সুদর্শন শাহীন আফ্রিদির সাথে সুসম্পন্ন হলো আফ্রিদি কন্যা আনশার শুভ বিবাহ! গত দোসরা ফেব্রুয়ারী তাদের মেহেদী এবং পরদিনই বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
তবে বিয়েতে ছিলো না কোনো জাঁকজমক হাঁকডাক! করাচির একটি মসজিদে আকদ এবং কাবিনের অনুষ্ঠান অনেকটা ঘরোয়াভাবেই আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, আফ্রিদি কন্যা আনশা এখনো পড়াশোনা করছেন। তার লেখাপড়া শেষ হবার পরই বড় পরিসরে এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
বিয়েতে পরিবারের বাইরে একদমই ঘনিষ্ঠ সতীর্থরা ছাড়া কাউকেই আমন্ত্রণ জানাননি আফ্রিদি! বাবর আজম, সরফরাজ খান, সাদাব খান, নাসিম শাহ- এরাই ছিলেন বিয়ের অতিথি!
এদিকে বিপিএলে থাকায় বিয়ের দাওয়াত মিস করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান! তবে সতীর্থ শাহীনকে টুইটারে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাতে ভোলেননি মোহাম্মদ রিজওয়ান।
বিয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে শাহীন বলেন, 'আসলে শহীদ আফ্রিদির মেয়েকে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিলো আমার। আলহামদুলিল্লাহ সেটা পূরণ হয়েছে।'
এদিকে সুদর্শন শাহীন আফ্রিদির বিয়েতে সবচেয়ে বেশি মনক্ষুন্ন হয়েছেন নারী ভক্তগণ! বিয়ের খবরে তাদের দুঃখ প্রকাশ কিংবা আনশার প্রতি কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করাও বেশ স্বাভাবিক।
এই ব্যাপারে স্ত্রী আনশা কি ভাবছেন সেটি জানতে চাইলে শাহীন বলেন, 'আমি আসলে জানিনা। তবে আমার মনে হয় আনশাও এমন কিছুই ভাবছে।'
নারী ভক্তদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আমি আমার ভালোবাসাকে হৃদয় দিয়ে খুঁজে পেয়েছি এখন এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।'
২০১৮ সালে পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলে অভিষেক হবার পরই সকলে খুঁজতে থাকে এই শাহীন শাহ আফ্রিদির সাথে শহীদ আফ্রিদির কোন যোগ সূত্র রয়েছে কিনা?
খেলোয়াড় আর নামের উপাধি ছাড়া তাদের মাঝে কোন যোগাযোগ তখন না থাকলেও প্রায় এক বছর আগে শ্বশুর জামাই সম্পর্কের সূচনা করেন শাহীন আফ্রিদি।
নিজের বাসা থেকে শহীদ আফ্রিদির বড় মেয়েকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠান এই তরুণ ক্রিকেটার। পাত্র সুদর্শন এবং প্রতিভাবান! দেরী না প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান শহীদ আফ্রিদি।
তখন তাদের বিয়ে অনেকটা পাকা হয়ে গেলেও কিছু দিক বিবেচনা করে সেটি পিছিয়ে যায়। তখন শাহীন ২২ গজে কেবলই নিজের যাত্রা শুরু করেছেন আর আনশাও কেবলমাত্র উচ্চতর পড়াশুনা শুরু করেছেন।
এদিকে বিয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে মেয়ে এবং মেয়ের জামাইকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন শহীদ আফ্রিদি।
নবাগত শ্বশুর লিখেছেন, 'কন্যা আপনার বাগানের সবচেয়ে সুন্দর ফুল। কারণ তারা মহান আশীর্বাদের সাথে ফোটে। কন্যা এমন একজন যাকে নিয়ে আপনি স্বপ্ন দেখেন, হাসেন এবং সমস্ত হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন। অভিভাবক হিসেবে আমি আমার মেয়েকে শাহীন আফ্রিদির হাতে তুলে দিয়েছি। তাদের দুজন কে অভিনন্দন।'
পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটারের পাঁচ কন্যা আনশা, আকসা, আজওয়া, আসমারা এবং আরওয়া। তদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি ছোট বেলা থেকেই টান অনুভব করতেন আনশা।
বাবার খেলা দেখতে মাঠেও দেখা যেত তাকে। তাই হয়তো তিনি জীবন সঙ্গী হিসেবেও ক্রিকেটার কেই পছন্দ করেছেন।
সাত ভাইয়ের মাঝে সর্ব কনিষ্ঠ শাহীন আফ্রিদি বেশ ছোট বেলা থেকেই ক্রিকেটে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন।
২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৬ এশিয়া কাপে অংশ গ্রহণের জন্য প্রথম বারের মত পাকিস্তান দলের খাতায় নাম লেখান তিনি।
ফাস্ট বোলার হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ ঘটান ২০১৭ সালে। ঘন্টায় নব্বই মাইল বেগে বোলিং করার পারদর্শীতা দেখিয়েছেন এই তরুণ।
বর্তমানে নিজেকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় আছেন শাহীন। সবশেষে নবদম্পতির জন্য শুভ কামনা জানিয়েন শেষ করছি আমাদের আজকের খবর!