জাতীয়
করোনায় পুঁজি হারিয়ে ই-কমার্স প্রতারণা
অ্যামাজন-আলীবাবার মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দেখে ই-কমার্স ব্যবসায় নামেন মো. মশিউর রহমান (২৮) ও ইফতেখাইরুজ্জামান রনি (৩২)। ‘আকাশ নীল’ নামে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে শুরু করেন সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা-বেচার ব্যবসা। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে ব্যবসা সচল রাখতে পারেননি। হারিয়ে ফেলেন পুঁজি। আবার ঘুরে দাঁড়াতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যে লোভনীয় অফার দিয়ে শুরু করেন গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা। হাতিয়ে নেন ৩২ কোটি টাকা।
প্রতারণার মাধ্যমে এভাবে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আকাশ নীলে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মশিউর রহমান ও পরিচালক ইফতেখাইরুজ্জামান রনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ২০ মার্চ রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-২ ও র্যাব-৮। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন, দুইটি ল্যাপটপ ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
সোমবার (২১ মার্চ) কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১৮ মার্চ এক ভুক্তভোগী ‘আকাশ নীলে’র এমডি ও পরিচালকসহ নয় জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া আরো কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ করে এবং এ সংক্রান্ত মানববন্ধন করে। এর প্রেক্ষিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে মশিউর ও রনিকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তিনি আরো জানান, মশিউর ও রনি দুইজন বন্ধু। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ বিষয়ে পড়াশুনার সময় তারা ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে। প্রথমে তারা গার্মেন্টসের রিজেক্ট টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য কিনে নিউমার্কেটে বিক্রি করত। পরে ২০১৯ সালে তারা অ্যামাজন ও আলীবাবার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দেখে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করে। ‘আকাশ নীল’ নামে ফেসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং ট্রেড লাইসেন্সও নেয়। রাজধানীর কাঁঠাল বাগান এলাকায় একটি অফিস নিয়ে শুরু করেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজি হোম ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবসা। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সেই ব্যবসায় হোঁচট খেয়ে পুঁজি হারিয়ে ফেলেন তারা। পরবর্তীতে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে বেশি মুনাফার লোভ দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেন এবং ‘আকাশ নীল’কে লিমিডেট কোম্পানিতে রূপান্তর করেন। কাঁঠাল বাগান থেকে অফিস স্থানান্তর করেন পান্থপথে।
র্যাবের এই পরিচালক আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানান ইভ্যালিসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মোটরসাইকেলে অফার দিয়ে রমরমা ব্যবসা করা দেখে ২০২১ সালে তারাও মোটরসাইকেলের বিভিন্ন অফার দেওয়া শুরু করে। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য তারা প্রথম ক্যাম্পেইনে মোটরসাইকেলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড় দেয়। এই লোভনীয় অফারে আকৃষ্ট হয়ে দুই শতাধিক গ্রাহক মোটরসাইকেল অর্ডার দেয়। সেবার কয়েকজন গ্রাহককে মোটরসাইকেল সরবরাহও করে তারা। পরবর্তী ক্যাম্পেইনে ২৫ শতাংশ মূল্যছাড়ে ৪৫ দিনের ভেতর মোটরসাইকেল ডেলিভারি আশ্বাস দেয় তারা। সেবার এক হাজার মোটরসাইকেলের অর্ডার পায় ‘আকাশ নীল’। তৃতীয় ক্যাম্পেইনে ২৩ শতাংশ ছাড়ে মোটরসাইকেল ডেলিভারির অফার দিলে ৯ হাজার গ্রাহক অর্ডার করে। এছাড়া মোবাইল, ইলেক্ট্রনিকসহ গৃহস্থালি অন্যান্য পণ্য বিক্রিতেও অফার দিত তারা।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরো জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে ইভ্যালিসহ অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে ‘আকাশ নীলে’র কাছে প্রদানকৃত অর্থ ফেরত চায় গ্রাহকরা। চাপ বাড়তে থাকলে গত নভেম্বরে অফিস বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে যায় মশিউর। মশিউরের এই কোম্পানি ছিল পারিবারিক ব্যবসা কেন্দ্রিক। এতে তার নিজের নামে শেয়ার ছিল ৭৭ শতাংশ, বোনের নামে ১০ শতাংশ, মায়ের নামে ৮ শতাংশ এবং স্ত্রীর নামে ৫ শতাংশ। তার মা ছিলেন এই কোম্পানীর চেয়ারম্যান। গ্রেপ্তারকৃত মশিউর ডিলার থেকে নগদ টাকায় মালামাল কিনে সরাসরি তাদের অফিসে নিয়ে আসত। তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো গোডাউন ছিল না। তারা অফিস থেকে কুরিয়ারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করত। গ্রাহকদের টাকা সরাসরি তার ব্যাংক একাউন্টে জমা হত।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব আরও জানতে পারে, ‘আকাশ নীল’ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন অস্থায়ী কর্মচারী ছিল। যাদের মাসিক বেতন ছিল ৪-৫ লাখ টাকা। কোম্পানির অর্থে তারা ধানমন্ডিতে তিন কোটি টাকা মূল্যে একটি ফ্ল্যাট, প্রিয়াশ ও সিএইচআর ব্র্যান্ডের দুটি দামি গাড়ি কেনেন। এছাড়া চারটি পিকআপও কেনেন। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্যবসায়িক কোনো লাভ করতে পারেনি। বর্তমানে গ্রাহকের কাছে তাদের দেনা প্রায় ৩২ কোটি টাকা।
গ্রেপ্তার মশিউর প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পর দুবাই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তার কাছ থেকে দুবাইয়ের একটি বিমান টিকেট পাওয়া গেছে। মশিউর ও রনির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে হওয়া প্রতারণার মামলায় অন্যান্য আসামিদের ধরতেও অভিযান চলছে বলে জানায় র্যাব।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ নেই: কোথাও কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে- সড়কমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হলেও বাস টার্মিনালগুলোতে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আওয়ামী লীগ আমলের ভাতাভোগীদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি সংসদে
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি ভাতা ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাইয়ের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। কুষ্টিয়া–১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ এ দাবি জানান।

‘মাননীয় স্পিকার’-এর বদলে ‘মাই লর্ড’, তবু সংসদে প্রাণবন্ত জবাব দিলেন প্রতিমন্ত্রী শারমিন পুতুল
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্বোধন করতে গিয়ে ‘মাননীয় স্পিকার’-এর পরিবর্তে কয়েকবার ‘মাই লর্ড’ বলে ফেলেন সমাজকল্যাণ ও নারীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তবে পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবিধান অনুযায়ী ‘সংস্কার পরিষদ’-এর অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো বিচারাধীন এবং এটি আইনে পরিণত হলে তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

.jpg)
.jpg)





