জাতীয়


অবসরের পর যেসব সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

অবসরের পর যেসব সুবিধা পাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ


অবসরের পরও কোটি টাকা পেতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। সেই সাথে পাচ্ছেন এমন সব সুবিধা, যা সাধারণ মানুষ তো ভালো, অনেক রাঘব বোয়ালেরাও এসব কেবল কল্পনায় ভাবতে পারেন! 

কূটনৈতিক পাসপোর্ট, দাপ্তরিক ও টেলিফোন ব্যয়, চিকিৎসা সেবা সহ, আরো অনেক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন দু বারের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ! 

আগামী ২৩ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেও, দেশীয় আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবেন বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা।

এরমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মাসিক ভাতা। অন্য সাধারণ প্রজানন্ত্রের কর্মচারীরা অবসরের পর সীমিত হারে ভাতা পেলেও, মহামান্য রাষ্ট্রপতি পাবেন বেতনের ৭৫ শতাংশ! 

এটা অবশ্য প্রেসিডেন্ট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ীই তিনি পাবেন। বর্তমানে একজন বাংলাদেশী প্রেসিডেন্টের মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। 

এর ৭৫ পার্সেন্ট হিসেবে, আব্দুল হামিদ মাস শেষে রাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো রকমের কাজ ছাড়াই পাবেন ৯০ হাজার টাকা।

আমৃত্যু একই হারে অর্থ পেয়ে যাবেন তিনি। অবশ্য তার মৃত্যুর পর এই অর্থের ভাগীদার হবেন স্ত্রী। কিন্তু এক্ষেত্রে টাকার অঙ্ক ৯০ এর ঘর থেকে নেমে ৬০ হাজারের ঘরে আসবে।  

রাষ্ট্রের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বেতনের দুই তৃতীয়াংশ পাবেন। সে হিসেবে তা দাঁড়াবে ৬০ হাজার টাকায়।  

তবে আব্দুল হামিদ চাইলে পুরো টাকাটা একসাথে পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্য কিছু শর্ত মানতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এই আবেদন জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে! 

একবারে টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে, ক্ষমতায় থাকা সময়কাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এক বছরের প্রাপ্ত অবসর ভাতার পরিমাণ যত আসবে, তা দিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় থাকার সময়কে গুন করে যত টাকা আসবে, তিনি তত টাকাই পাবেন। 

মাসিক ৯০ হাজার টাকা হলে, এক বছরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রাপ্ত অর্থের পরিমান হবে, ১০ লক্ষ ৮০ হাজার। অর্থাৎ,  এককালীন অর্থের পরিমান, কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

সাবেক এই স্পিকার দুই মেয়াদে মোট ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। সেই হিসেবে, এককালীন নিতে চাইলে আবদুল হামিদ পাবেন, ১ কোটি ৮ লাখ টাকা।

এ তো গেল শুধুমাত্র টাকার অংক। একজন রাষ্ট্রপতি অবসরের পর অন্যান্য আরো অনেক সুবিধা পেয়ে থাকেন। আব্দুল হামিদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

রাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন তিনি। তার স্ত্রীও পাবেন একই সুবিধা। এর মাধ্যমে বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগের পাশাপাশি, দেশের যে কোন সার্কিট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন।

বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ছাড়াও পাবেন সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যয়। একজন ক্ষমতাসীন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের চিকিৎসা সুবিধা পাবেন তিনি। 

অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে সার্বক্ষনিক সহযোগিতার জন্য নিয়োজিত থাকবে, একজন করে ব্যক্তিগত সহকারী ও এটেনডেন্ট। দৈনন্দিন জীবনের সকল কাজে তাদের সহযোগিতা পাবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি! 

সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য, অবসরের পরেও রাষ্ট্রীয় যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন আবদুল হামিদ। এক্ষেত্রে তাকে পরিশোধ করতে হবে না কোন অর্থ।

তার পরবর্তী আবাসস্থলে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি টেলিফোন সংযোগ দেয়া হবে। এর খরচও যাবে সরকারী কোষাগার থেকেই। 

তবে কেউ শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি হলেই বিপুল পরিমান অর্থ ও এত সুযোগ সুবিধা পাবে না। এর জন্য বৈধভাবে ক্ষমতায় এসে, কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতি হলে, অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার জন্য বিবেচিত হবে না। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি হলে, সকল কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হবে। 

রাষ্ট্রপতির অবসর পরবর্তী সুযোগ সুবিধা নিয়ে, উচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত হিসেবে গন্য হবে।
তাই সেখান থেকে যদি সুযোগ সুবিধা বন্ধের ঘোষণা আসে, সাথে সাথেই সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে। 

অবসর গ্রহনের পর, একই ধরনের কোন দপ্তরে নিয়োজিত থেকে যদি, সেখানকার বেতন ও অন্যান্য বিষয় ভোগ করেন, তাহলে অবসরপ্রাপ্ত জীবনে এসব সুযোগ সুবিধা পাবেন না রাষ্ট্রপতি। 

তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোন চাকরিতে নিয়োজিত থাকলে, ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোন একটির সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। 




জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বিল পাস

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংসদে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ ঘোষণার দাবি

জাতীয় সংসদে তারেক রহমান ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে তাদের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বদলি বাণিজ্যে শতকোটি টাকার অভিযোগ: আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

অবৈধ প্রক্রিয়ায় সাব-রেজিস্ট্রারদের ব্যাপক বদলির মাধ্যমে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।