হঠাৎ করেই দেশে বাড়ছে অতিধনীদের সংখ্যা! ৫ হাজার কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক এমন ব্যক্তি রয়েছেন অন্তত ২১ জন!
সম্প্রতি, সুইজারল্যান্ডের ক্রেডিট সুইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকাশিত Global Wealth Databook 2022-এ উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তিন ধাপে তৈরি করা এই ডাটাবেজে- সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চল গুলোর গড় সম্পদের বন্টন, সম্পদের মালিকানার ধরন এবং বিভিন্ন দেশের অতিধনীদের সম্পদের পরিমান ইত্যাদি বিষয় গুলো উঠে এসেছে।
ক্রেডিট সুইসের রিপোর্ট অনুযায়ী- করোনা মহামারি চলা স্বত্তেও ২০২১ সালে বাংলাদেশে ১০ কোটি বা তার বেশি টাকার সম্পদ আছে এমন ব্যাক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ।
২০২০ সালে মহামারি শুরুর আগে যেখানে ১ মিলিয়ন ডলার বা ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে এমন ব্যাক্তির সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৩৯৯ জন, তা মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৫৫৯ জনে।
একই বছর ১০ থেকে ৫০ কোটি ডলার বা ১ হাজার কোটি থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক এমন ব্যাক্তির সংখ্যা ছিল ৪৩ জন।
৩৯ জন ব্যাক্তির হাতে ছিলো ৫ থেকে ১০ কোটি ডলার বা ৫০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পদ।
এছাড়াও, ১০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ছিলো ৪০০ জন। আর ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ছিলো ১ হাজার ১২৫ জন ব্যাক্তির কাছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কোটিপতি ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৬ হাজার ৫২০ টি।
মহামারি শুরুর আগে ২০২০ সালে যার সংখ্যা ছিলো ৮২,৬২৫ টি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু দেশের শ্রমশক্তির ৮০ শতাংশেরও বেশি অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে তাই দেশের প্রকৃত কোটিপতির সংখ্যা কত সেটা জানা প্রায় অসম্ভব।
হতাশাজনক ব্যাপার হলো- দেশে অতিধনীর সংখ্যা দিনদিন বাড়লেও সেই হারে রাজস্ব আদায়ের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে না।
এমনিতেই বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে কম কর-জিডিপির অনুপাতের দেশ গুলোর মধ্যে অন্যতম।
২০২১ সালে ১০ কোটি টাকার বেশি সম্পদধারীর সংখ্যা ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ২০-২১ অর্থ বছরে দেশে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধির পরিমান ছিলো ১৯ শতাংশ।
অর্থাৎ, দেশে ধনীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু জিডিপির সাপেক্ষে রাজস্বের অনুপাত বাড়ছে না।
যেটিকে শঙ্কার বিষয় হিসেবে মনে করছেন অনেকে।
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দূর্বল করভিত্তির দেশ বাংলাদেশ। তার উপর ধনীদের অধিকাংশই ঠিকমত কর পরিশোধ করেন না।
উল্টো দেশ থেকে বিদেশে বিপুল পরিমান সম্পদ পাচার করেন। যার কারনে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ধনীদের অনেকেই অন্যদেশে নাগরিকত্ব গ্রহনের জন্য গোল্ডেন ভিসায় রেসিডেন্স পারমিট নিচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে পাচার করা বিপুল পরিমান সম্পদ জমা রাখছেন অন্য দেশ গুলোতে।
সেই সাথে কানাডা, দুবাই এবং লন্ডনে উচ্চমূল্যে বাড়ি কিনছেন অনেকেই যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ তৈরি করেছে।
অবশ্য ধনীদের অতি সম্পদের অধিকারী হওয়া এবং সম্পদের বৈষম্যকে নীতিনির্ধারকরা উন্নয়নের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন।