সব স্কুল-কলেজে নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশ মাউশিরঃ ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা।
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিন সকালে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে র্যালি করতে হবে। গত ২৮ মার্চ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।পহেলা বৈশাখে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে জাতীয় সংগীত “এসো হে বৈশাখ” গান পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।আর মাউশির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষেপেছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক-অভিভাবকেরা। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকেই। ছুটি পেয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনেকেই চলে গেছেন নিজ নিজ বাড়িতে। বাকীরাও ছুটছেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে। কিন্তু এই ছুটির মধ্যেই পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক উপস্থিত হয়ে র্যালি করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা।রোজার মধ্যে এতো গরম আবহাওয়া মাথায় রেখে মাউশির এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন অনেকেই। তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি হয়ে গেছে মধ্য রজমানে। এর মধ্যে অনেকেই ঈদ উদযাপন করতে যার যার গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। বাকীরাও চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চলে যাবেন। এমন অবস্থায় ১৪ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক উপস্থিত হয়ে র্যালি করা কিভাবে সম্ভব? তাহলে কি শিক্ষার্থীরা সেই র্যালির জন্য আবার ফিরে আসবেন?মাদারাসার একাধিক শিক্ষক বলেন, দেশের বেশিরভাগ মাদরাসায় শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসে। মাদরাসার হোস্টেল, বোডিং কিংবা আশপাশে ভাড়া বাসায় থেকে তারা ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। রমজানে ছুটি ঘোষণার পর তারা সকলেই বাড়িতে চলে গেছে। এখন বাধ্যতামূলক র্যালি করার সিদ্ধান্তে তারা বিপাকে পড়েছেন। একদিকে শিক্ষার্থীরা নেই, অন্যদিকে র্যালি না করলে মাদরাসা নিয়ে নানারকম বিরূপ মন্তব্য করা হবে।



