২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তখন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পাশাপাশি, তিনি পেয়েছেন অসংখ্য বিলাসবহুল সুবিধা ভোগ করার সুযোগ।
নতুন রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যেই বরাদ্দ পেয়েছেন একটি সরকারি বাসভবন। যা আমাদের কাছে বঙ্গভবন নামে পরিচিত। নতুন করে এটি সাজানো এবং রক্ষনাবেক্ষনের জন্য, প্রয়োজনীয় সকল খরচ বহন করবে সরকার।
পছন্দ অনুযায়ী বাসস্থানের সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তুলতে যত অর্থই খরচ হোক না কেন, সদ্য দায়িত্বে আসা রাষ্ট্রপতির নিজের পকেট থেকে এর পেছনে এক টাকাও ব্যয় করতে হবে না।
তবে শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জন্য বঙ্গভবনে থাকার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি চাইলে নিজের বাড়ি অথবা অন্য কোথাও বাসা ভাড়া নিয়েও থাকতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতির নিজের বাড়ি হলেও সেটি সাজিয়ে দেয়া হবে সরকারি অর্থায়নে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংযুক্ত করা হবে বিলাসবহুল ও আধুনিক সুযোগ সুবিধা।
প্রেসিডেন্ট হওয়ায় নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে তাকে। তবে বিনামূল্যে এসব কাজ করবেন না তিনি। এর জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতন পাবেন।
আইন অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হলেন, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। কারো কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি।
তার বিরুদ্ধে দেশের কোন আদালতে ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা যাবে না। এমনকি গ্রেফতার কিংবা কারাদন্ডের জন্য, কোন আদালত পরোয়ানা জারি করতে পারবে না।
এছাড়াও তিনি এবং তার পরিবার পাবেন এমন অনেক সুবিধা, যা আপনার আমার পক্ষে কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়।
একজন সাধারণ নাগরিক দোকান থেকে সিগারেট কিনতে গেলে, ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স দিতে হয়। অন্য যে কোন ধরনের তামাকজাত দ্রব্য নিয়েও রয়েছে কঠোর আইন।
তবে এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। তার সেবনকৃত তামাকজাত দ্রব্য ও দেশে উৎপাদিত যে কোন সিগারেটকে, ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা দিবে সরকার।
শুধু রাষ্ট্রপতি একাই নন, বঙ্গভবনে থাকা অতিথি সহ, সকলেই এই সুবিধা পাবেন। এমনকি অফিসিয়াল গেস্ট ছাড়া অন্য কেউ আসলেও, একই ধরনের আইন প্রযোজ্য হবে।
যাতায়াত খরচ, ইনসুরেন্স সুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট, দাপ্তরিক ও টেলিফোন ব্যয়, চিকিৎসা সেবা সহ, আরো অনেক কিছু পাবেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
বঙ্গভবনে সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবে সরকার। এসব নিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতিকে বিন্দু পরিমান চিন্তা করতে হবে না।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন ও পানি বিল সহ, সমপর্যায়ের সুবিধার জন্য যত টাকা প্রয়োজন হোক না কেন, সবকিছু ব্যয় হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।
দেশের সাধারণ নাগরিকের মতোই, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনও যে কোন সময় অসুস্থ হতে পারেন। তবে চিকিৎসার পিছনে আমাদেরকে অর্থ ব্যয় করতে হলেও, তিনি বিনামূল্যে সেটি পেয়ে যাবেন।
দেশের যে কোন হাসপাতালে প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের সদস্যরা ফ্রি ট্রিটমেন্ট নিতে পারবেন। এর জন্য কোন অর্থ ব্যয় করতে হবে না তাদেরকে। বাসভবনে বসেও, একই ধরনের সুবিধা নিতে পারবেন তারা।
শুধু তাই নয়, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য, সরকারি খরচে বিদেশেও পাড়ি দিতে পারবেন, রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা।
বছর জুড়েই বঙ্গভবনে আসেন বিদেশী অনেক অতিথী। তাদেরকে আপ্যায়নের উপর নির্ভর করে দেশের ভাবমূর্তি। রাজকীয় আপ্যায়নের জন্য ব্যয় হয় বিপুল পরিমান অর্থ।
ইদ, পূজা ও রমজানের সময়, বঙ্গভবনে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও থাকে বিভিন্ন বিনোদনমূলক ফেস্টিভ্যাল। এসব কাজে ইচ্ছামতো টাকা খরচ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এখন থেকে দেশ ও দেশের বাইরে নিয়মিত ভ্রমন করতে হবে তাকে। অবস্থান করতে হবে পাচ তারকা হোটেলে। এসব কাজে ব্যয় হবে প্রচুর পরিমান অর্থ।
তবে এ নিয়ে কোন ধরনের চিন্তা করতে হবে না তাকে। যত অর্থই খরচ হোক না কেন, সবকিছু বহন করবে সরকার। উল্টো তার জন্য বরাদ্দ থাকবে বিশেষ কিছু এলাউন্স।
দেশের ভিতরে যাতায়াতের জন্য, চাহিদা অনুযায়ী যে কোন ধরনের ট্রান্সপোর্ট সুবিধা, বিনামূল্যে পাবেন নতুন রাষ্ট্রপতি। একই সুবিধা পাবে তার পরিবারের সদস্যরা।
তাকে বহনকৃত গাড়ি, নৌযান কিংবা উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানির ক্ষেত্রে রয়েছে আলাদা আইন। এসব বাহনের জন্য পেট্রোল ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য পাবে ফ্রি ট্যাক্স সুবিধা।
দেশের বাইরে যাওয়ার সময় মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের জন্য কোন ভিসার প্রয়োজন হবে না। কারন তার জন্য বরাদ্দ থাকবে একটি লাল রঙের কূটনৈতিক পাসপোর্ট।
এটি থাকলে বিদেশ ভ্রমণের জন্য কোনো ভিসা লাগে না। সংশ্লিষ্ট দেশে অবতরণের পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেয়ে যাবেন।
এখন থেকে আকাশপথে ভ্রমনের সময়, রাষ্ট্রীয়ভাবে বাৎসরিক ২৭ লক্ষ টাকার ইন্সুইরেন্স কাভারেজ পাবেন, বাংলাদেশের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।