দাতা সংস্থা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপি যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবন জীবিকার পুষ্টিমান নিশ্চিতকরণে ‘পার্টনারশিপ ফর রেজিল্যান্ট লাইভলিহুডস ইন সিএইচটি রিজিওন -পিআরএলসি’ প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে।
আজ ১৪ জুন বুধবার সকাল ১০:৩০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
জাঁকজমকপুর্ণ অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব মিশন মি: চার্লস হোয়াইটলি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো: মশিউর রহমান এনডিসি, ইউএনডিপি'র ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি মিস ভ্যান নুয়েন। অনুষ্ঠানটির সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য মিস নিরুপা দেওয়ান।
পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় দারিদ্র্যতা অনেক বেশী, এখানকার শিশুরা অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় নিয়মিতই। এ ছাড়াও দিনে দিনে নিরাপদ পানির সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পিআরএলসি প্রকল্প পাহাড়ের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
পুরো প্রকল্পটির মাধ্যমে পার্বত্য তিন জেলার প্রায় ৯৮ হাজারের মানুষের জীবন-জীবিকার মান পরিবর্তন হবে। পুরো প্রকল্পটি অতি দরিদ্র, বিধবা, প্রতিবন্ধি ও মহিলাকেন্দ্রিক পরিবারগুলোকে লাইভলিহুড, সামাজিক সুরক্ষা, পুষ্টি সংক্রান্ত সহযোগিতা দিবে।
বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, সে লক্ষ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে SDG 1, SDG 2 ও SDG 5 অর্জিত হবে। এছাড়াও চার বছর মেয়াদী এ প্রকল্পটি সরকারের চলমান ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাথে সামাঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হবে।
পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ ও এর কৌশলগত সহায়তা দিবে ইউএনডিপি, বাংলাদেশ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ মিলিয়ন ইউরো যা কি না ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহন করবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি তাঁর বক্ত্যব্যে বেসরকারী এই সংস্থা গুলোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও পুরো অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন ঘোষণা করেন।
উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাদের সরকারের বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যেখানে সহযোগিতা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারবে না, সেখানে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাদের আরও এগিয়ে আসা উচিত‘।
এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে রাস্তা ঘাট নির্মাণ, স্কুল কলেজ নির্মাণ, কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সহ সরকারের নানা উন্নয়নশীল কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ইউএনডিপি'র ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি মিস ভ্যান নুয়েন তাঁর বক্তব্যে বলেন, পুরো বাংলাদেশের দারিদ্রতার হার ১৮.৭ শতাংশে নেমে এলেও শুধুমাত্র পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে ৫২ শতাংশ মানুষ এখনো দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছে। এই দারিদ্র্যতা থেকে রক্ষা করতে সরকারী, বেসরকারী এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাকে একজোটে কাজ করতে হবে।
এছাড়াও পণ্য উৎপাদনে শুধুমাত্র ধানের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শস্য ফলানোর প্রতি জোর দেন তিনি। আর পার্বত্য চট্রগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে আছে বলেও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো: মশিউর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার জন্য ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউএনডিপিকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় এক লাখ পরিবারগুলোকে জীবন-জীবিকা উন্নয়নে জলবায়ু সহনশীল কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, সহায়তা উৎপাদিত কৃষি পণা বাজারজাতকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা, পানি সংকটে সহায়তা সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হবে।
আমি মনে করি এ প্রকল্পটি একদিকে অতি দ্ররিদ্র পরিবারগুলোকে দারিদ্র মুক্ত করতে যেমন সহায়তা করবে, ঠিক তেমনি সরকারের এসডিজি লক্ষ মাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।