জাতীয়


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবিক কাজ করছে এলিট ফোর্স


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৭ মার্চ ২০২২, ০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মানবিক কাজ করছে এলিট ফোর্স

সুব্রত চন্দঃ


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার, মাদক বিরোধী অভিযান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং মানবপাচার রোধে দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন মহলের প্রসংশা কুঁড়িয়েছে বিশেষ এই বাহিনীটি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমেও রয়েছে র্যাবের অনন্য ভূমিকা।


সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত বিশেষ এই বাহিনীটির আজ শনিবার (২৬ মার্চ) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আগামী ২৮ মার্চ এ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন। বাহিনীটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এবারের স্লোগান ‘নিরাপত্তা রক্ষায় গণমানুষের আস্থায়’।


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজেদের গত এক বছরের কার্যক্রম তুলে ধরেছে র্যাব। শুক্রবার (২৫ মার্চ) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেসব কার্যক্রম গণমাধ্যমকে পাঠায় বাহিনীটি। সেসব কার্যক্রম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:


সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল:


প্রতিষ্ঠানলগ্ন থেকে জঙ্গিবাদ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে র্যাব। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে রোল মডেল। বাহিনীটির অভিযানে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আব্দুর রহমানের ভাই আতাউর রহমান সানি,বাংলা ভাইয়ের জামাতা আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন মামুন ও খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে ফারুকসহ বিভিন্ন জঙ্গিনেতা গ্রেপ্তার হয়। তাদের অনেকেরই ইতোমধ্যে ফাঁসি’র রায় কার্যকর হয়েছে। এতে জঙ্গি সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপরও পুরোপুরি দমে যায়নি তারা। র্যাবও তাদের গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রাখে।


গত এক বছরে র্যাবের অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সহ জঙ্গি গোষ্ঠির তিন শতাধকি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এর মধ্যে গত বছর ১৬ জুলাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন 'আনসার আল ইসলাম' এর আধ্যাত্মিক নেতা মাহমুদ হাসান গুনবিকে রাজধানীর ঢাকার শাহ আলী থানাধীন বেড়িবাধ সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ময়মনসিংহের কোতয়ালী থানাধীন খাগডহর এলাকা থেকে জেএমবির চার জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভক্ত জেএমবির একটি গ্রুপের কর্ণধার জঙ্গি নেতা এমদাদুল হক ওরফে উজ্জ্বল মাস্টারকে গ্রেপ্তার করা হয় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর। জঙ্গি দমনে র্যাবের নিরলস প্রচেষ্টার কারণে দেশের অভ্যন্তরে জঙ্গিবাদ এখন প্রায় পুরোপুরি নিষ্প্রাণ ও নিষ্ক্রিয়।


দস্যুমুক্ত সুন্দরবন:


‘ওয়ার্ল্ড হেরিট্যাজ’খ্যাত সুন্দরবন এক সময় অপরাধের স্বর্গরাজ্য ছিল। জলদস্যুরা খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছিল। জলদস্যু দমনে র্যাবের টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে এখন শান্তি ফিরেছে। জলদস্যুরা অপরাধ জগৎ ত্যাগ করে ফিরে এসেছে স্বাভাবিক জীবনে। এখন পর্যন্ত ৩২৮ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে এই বাহিনীর কাছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর জলদস্যুদলের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দস্যুমমুক্ত হয় সুন্দরবন। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা যাতে স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করতে পারে তাই তাদের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। ২০২১ সালে সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত হওয়ার তিন বছর পূর্তি উপলক্ষে র‍্যাব পুনর্বাসন চাহিদা সমীক্ষা চালিয়ে আত্মসমর্পণ করা জলসদস্যুদের মাঝে ঘর, দোকান, নৌকা, জাল ও গবাদি পশু হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু করে। শুধুমাত্র ২০২১ সালেই এই কার্যক্রমের আওতায় আত্মসমর্পণকারীদের মাঝে ১০২টি ঘর, মালামালসহ ৯০টি মুদি দোকান, জালসহ মাছ ধরার নৌকা ১২টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ০৮ টি এবং ২২৮টি গবাদি পশু প্রদান করা হয়।


অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার:


অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা র‍্যাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এবং চলমান কার্যক্রম। এই কার্যক্রমে র্যাবের ভূমিকা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এই বাহিনীটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মোট ৮৫৩ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয় এক হাজার ৩৪৪টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র, ২৮৫টি ম্যাগাজিন, আট হাজার ৭৪৮ রাউন্ড গোলাবারুদ ও দুই হাজার ১২৫টি বিভিন্ন ধরণের বিস্ফোরক।


মাদক বিরোধী অভিযান:


মাদক বিরোধী অভিযানেও র্যাবের ভূমিকা অপরিসীম। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগান নিয়ে মাঠে নামে এলিট এই বাহিনীটি। এই কার্যক্রমেও র্যাবের সাফল্য কম নয়। গত এক বছরে মাদক বিরোধী অভিযানে ১৫ হাজার ৫৯৪ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। উদ্ধার করা হয় এক কোটি ৬৩ লাখ পাঁচ হাজার ৪৮৩ পিস ইয়াবা, প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কেজি গাঁজা, এক লাখ ৩৯ হাজার ১৯৪ বোতল ফেনসিডিল, ০.৫৮ কেজি কোকেন, ৫৮.৮৭৬ কেজি আফিম এবং ১৪৯.২৪৭ কেজি হেরোইন।


চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ এবং দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেপ্তার:


র‍্যাবের গোয়েন্দা ও সাইবার মনিটরিং দল বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং ক্রু-লেস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সবসময় সজাগ থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক বছরে এমন ৬৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা:


দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে প্রায়ই কিছু কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্কানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা করে। বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ায়। এদের গ্রেপ্তারে র্যাব বলিষ্ট ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে সম্প্রতি নরসিংদীর ভেলানগরে মধ্যযুগীয় কায়দায় ঘোড়ায় চড়ে উষ্কানীমূলক শ্লোগান দেয়, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে সৈকত হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করে র্যাব। এছাড়া গত বছর দুর্গাপূজার সময় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে মন্দিরে হামলা ও লুটতরাজ করা জনকেও গ্রেপ্তার করে এই বাহিনীটি। উদ্ধার করা হয় লুট করা সরঞ্জাম। রংপুরের পীরগঞ্জের বড় করিমপুর গ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার মূলহোতাকেও গ্রেপ্তার র্যাবের অনন্য অর্জন।


প্রতারণা সংক্রান্ত:


বর্তমান সময়ে প্রতারণা এক ধরনের সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অর্থলোভী কিছু প্রতারকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ছে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে র্যাব। গত এক বছরে এমন ৭৮৭ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে বাহিনীটি।


মানবপাচার রোধ:


দেশের স্বল্প শিক্ষিত মানুষদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করে আসছে বেশ কয়েকটি মানবপাচারকারী চক্র। এসব চক্রের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে র্যাব। গত এক বছরে এমন ১১৪টি অভিযানে ৪৯৪ জন মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৯৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৪৭ জন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে র্যাব।


কিশোর গ্যাং নির্মূল:


২০১৭ সালে উত্তরার স্কুল ছাত্র আদনান হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং অপসংস্কৃতি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর থেকে নিয়মিত কিশোর গ্যাং নির্মূণে অভিযান পরিচালনা করে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এই বাহিনীটি। গত বছরের ২২ নভেম্বর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ০৫ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা প্রত্যেকে "ভাইব্বা ল কিং” নামক একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য। এছাড়া গত ০৫ জুন টঙ্গী ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ‘ডি কোম্পানী’ ও ‘ডেয়ারিং কোম্পানী’ গ্রুপের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গত ২৮ জুন ঢাকা জেলার আশুলিয়ায় আলোচিত খাদেম নজরুলের পায়ের রগ কাটা মামলার প্রধান আসামি কিশোর গ্যাং ‘রাকিব গ্রুপ’ এর প্রধান রাকিব ও তার সহযোগী ইমনকে সাভার ও আশুলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশী পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও মাদক জব্দ করে র‍্যাব। গত এক বছরে এমন ৩৩টি অভিযানে ২৭টি কিশোর গ্যাং গ্রুপের মোট ৪৫৪ জন সদস্যকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।


অনিবন্ধিত সিম ও অবৈধ ভিওআইপি বিরোধী অভিযান:


অনিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম করা অপরাধীদের বিরুদ্ধেও সর্বদা সক্রিয় র্যাব। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির সহযোগিতায় অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চার জনকে আন্তর্জাতিক কলিং কার্ডসহ গ্রেপ্তার করে র্যাব। গত এক বছরে এমন ৩৮টি অভিযানে মোট ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করে বাহিনীটি।


সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা:


খুন, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে র্যাব। গত এক বছরে চুরি ছিনতাই এবং ডাকাতি কাজে জড়িত দুই হাজার ৫৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এছাড়া বিগত এক বছরে নারী ও শিশু সংক্রান্ত অপরাধে ৪২১ জন, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির সদস্য ১০২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এই বাহিনীটি। র‍্যাবের এমন নিয়মিত অভিযানে প্রায় ৮০০ এর অধিক চোরাকারবারী ও ১০০ এর অধিক জাল নোট প্রস্তুতকারী গ্রেপ্তার হয়েছে গত এক বছরে।


ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা:


সুস্থ দেহ, প্রশান্ত মন কর্মব্যস্ত সুখী জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এই ক্ষেত্রে যে সকল উপাদান মূল ভূমিকা পালন করে তার অন্যতম বিশুদ্ধ খাবার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা। কিছু মুনাফালোভীর কারণে এই খাতেও অনিয়ম হচ্ছে। র্যাব এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা সর্ব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। গত এক বছরে র্যাব এমন দুই হাজার ৪১৫টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ৯৮১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। মামলা করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৪২টি, আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার ৩১৯ টাকা।


র‍্যাবের মানবিক উদ্যোগ:


দুস্থ ও নিপীড়িত মানুষের পাশে এবং দেশের যে কোন আপদকালীন মুহূর্তে র‍্যাব সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সব ধরণের সহায়তা প্রদান করে আসছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বহু শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটার পর র‍্যাব মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ পাঁচ শতাধিক পরিবারের মাঝে সহায়তা প্রদান করে। এছাড়াও ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান ১০ নামক লঞ্চ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর আহত অগ্নিদগ্ধদের বার্ণ ইউনিটের সু-চিকিৎসার জন্য র‍্যাব নিজস্ব হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় পাঠায়। এছাড়া প্রতি বছরের মত এই বছরেও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করে র‍্যাব।


২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে আত্মপ্রকাশ করে র‍্যাব। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর এই দিনকে ‘রেইজিং ডে’ হিসেবে পালন করে আসছে এই বাহিনীটি। বর্তমানে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।



জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

শপথের প্রয়োজন নেই, ‘হ্যাঁ’ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এ বিষয়ে আলাদা কোনো শপথের প্রয়োজন নেই; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।

মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জনস্রোত

ভোরের আলো ফুটতেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে সেখানে।

তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম কর্মদিবস তারেক রহমানের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে পৌঁছালে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে বাণী প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।