জাতীয়


রক্তপাতময় রাজনীতি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ এপ্রিল ২০২২, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার

রক্তপাতময় রাজনীতি

মাসুদ সুমনঃ


যুদ্ধ হচ্ছে রক্তপাতময় রাজনীতি। আর রাজনীতি হচ্ছে রক্তপাতহীন যুদ্ধ। স্বাধীনতা পরবর্তী পঞ্চাশ বছরের বাংলাদেশ কি তাহলে একটি ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্র? কেননা রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির নামে এদেশে ঘটেছে অসংখ্য লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এদেশের রাজনৈতিক ধারা প্রবাহে নিরন্তর হত্যাকাণ্ডের ইতিবৃত্ত যে কোন মানুষকেই বেদনার্ত করে।


কখনও কখনও সহজ আবার কখনো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। জাতিরাষ্ট্রের সামনে সবসময় সহজ পথ খোলা থাকে না। তাকে অনেক সময় কঠিন পথেই হাঁটতে হয়। দেশের প্রেক্ষাপটে সেই পথে হাঁটতে হিম্মত লাগে। সবাই সেই হিম্মত ধারণও করেন না। কিন্তু অনেক মানুষ আছেন, যারা রাজনীতিতে পোড় খাওয়া, অনেক কঠিন পথে হেঁটেছেন, অনেক মৃত্যু-রক্ত দেখেছেন, জীবনভর রাজনীতির অলিগলি হেঁটে থিতু হয়েছেন। আবার অনেকেই হত্যার স্বীকার হয়েছেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে জিয়ার শাসনামল থেকেই মূলত এই হত্যার রাজনীতি শুরু হয়। বেড়েছে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে হত্যা।


আর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে। নিজেদের মধ্যেও দ্বন্দ্বের কারণেও ঘটছে হত্যাকাণ্ড, গুপ্ত হত্যা।


সম্প্রতি মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ড, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মো. সোহেল এবং তার সহকারী হরিপদ সাহাকে হত্যা, সোহেল ১৩ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। পুলিশ এবং তার পরিবারের ধারণা তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এই প্রতিপক্ষ নিজের দলের। তবে হত্যাকাণ্ডে ভাড়াটে খুনিরা অংশ নিয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। 


পিরোজপুরের গুলিবিদ্ধ যুবলীগ নেতা ফয়সাল মাহবুব গত ১৬ নভেম্বরে মারা যান চিকিৎসাধীন অবস্থায়। তিনি পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৭ নভেম্বর পিরোজপুরের শংকরপাশা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বড় একটি অংশ ঘটে বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। 


সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনে এপর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের(আসক) হিসাব অনুযায়ী ২০২১ সালের প্রথম ১০ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয় ৭৪জন। এরমধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় মারা গেছেন ৪৩ জন। এরমধ্যে ইউপি নির্বাচনে ৩১ জন। পৌর নির্বাচনে ১০ জন এবং সংসদীয় উপনির্বাচনে সহিংসতায় মারা গেছেন তিন জন।


চলতি বছরে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পেছনে দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা। আর এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। বিএনপি নির্বাচনে না আসায়, আওয়ামী লীগের হাতেই আওয়ামী লীগের লোকজন বেশি খুন হয়েছে।


অপরাধ বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক খুনে দেশের ছাত্র রাজনীতি সব সময়ই উপরে অবস্থান করে। এমন অবস্থায় একটু শান্ত ছিল দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট। তবে তিন বছর আগে এখানেও ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে নিঃসংশ হত্যা। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। সেই মামলার রায় সম্প্রতি ঘোষিত হয়েছে নিম্ন আদালতে। এ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাঁজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শিবির সন্দেহে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের নামে দফায় দফায় ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে আঘাত করে ছাত্র লীগের কর্মীরা তাকে হত্যা করে।


এছাড়াও বলেন, একটা সময় ছাত্রদের আন্দোলন ছিল ছাত্রদেরই আন্দোলন। তবে দখলের রাজনীতির দাপটে মূল দলের অনেক নেতার মদদে সেই জায়গা দখল করেছে গুণ্ডা-মস্তানরা। সামগ্রিক ছাত্র আন্দোলনের অবস্থা নিতান্ত করুণ। আগে গুণ্ডারা ছাত্রদের সমঝে চলত, এখন ছাত্ররা গুণ্ডাদের সমঝে চলে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, এ থেকে মুক্তি পেতে হলে রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। রাজনীতি শুধুমাত্র সমাজ সেবার উত্তম পথ তা বিশ্বাস করতে হবে। দেশের প্রত্যেক মানুষকে দেশ সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।  


জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণসভা শনিবার, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

ইরান সফরে গালিবাফের সঙ্গে স্পিকারের বৈঠক, খামেনি হত্যার নিন্দা

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে জাতীয় শোকের এ সময়ে ইরান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় নাগরিক হয়েও প্রধান শিক্ষকের পদে দীপক চন্দ্র, রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক তদন্ত প্রতিবেদনে দ্বৈত নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করা হলেও এখনো তিনি দায়িত্বে বহাল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।