জাতীয়


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পর কী কী সংস্কার, বিজয়ীরা কতটা বাধ্য?


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পর কী কী সংস্কার, বিজয়ীরা কতটা বাধ্য?

ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। গণভোটের প্রশ্ন ছিল জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংশোধন প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি দেওয়া হবে কি না। এ প্রশ্নের পক্ষে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোট পড়েছে।

 

ফলে জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখিত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন শুরু হবে। সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী এমপিরা অধিবেশন শুরুর পর ১৮০ দিন পর্যন্ত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। সনদে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর আলোকে সংবিধান সংশোধন করাই হবে তাঁদের দায়িত্ব।

 

কোন কোন বিষয়ে সংস্কার

গণভোটের আওতায় থাকা বিষয়গুলো চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত- 

 

১. নির্বাচনকালীন কাঠামো:
তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন।

 

২. দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ:
জাতীয় সংসদের পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠন। দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সদস্য বণ্টন হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।

 

৩. ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন:
নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ এসব বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংশোধন।

 

৪. অন্যান্য প্রতিশ্রুত সংস্কার:
সনদে উল্লিখিত অতিরিক্ত সংস্কারসমূহ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন।

 

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা

বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট নয়। তবে সনদ অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এমন বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের ফলে এ ধরনের সংশোধনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

 

পরিষদ কি বাধ্য?

হ্যাঁ। জাতীয় ভাষণে প্রধান উপদেষ্টাও বলেছেন, গণভোটে অনুমোদিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী দল বাধ্য থাকবে। অর্থাৎ রাজনৈতিক ঐকমত্যে নির্ধারিত ৩০টি প্রস্তাব কার্যকর করতে সংসদকে উদ্যোগ নিতে হবে।

 

উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে

উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সদস্য নির্ধারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি মোট ভোটের ৫০ শতাংশ পায়, তবে উচ্চকক্ষে তাদের প্রতিনিধি হবে ৫০ জন। ১ শতাংশের কম ভোট পাওয়া দল উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব পাবে না।

 

উচ্চকক্ষ সরাসরি আইন প্রণয়ন করবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রস্তাব দিতে পারবে। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া বিল (অর্থবিল ও আস্থা ভোট বাদে) উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। দুই মাসের বেশি আটকে থাকলে বিল পাস হয়েছে বলে গণ্য হবে। তবে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিল উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন ছাড়া কার্যকর হবে না।

 

গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ফলাফলের মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এখন নজর সংসদের পদক্ষেপ ও সংস্কার বাস্তবায়নের গতিপথের দিকে।


সম্পর্কিত

জাতীয়গণভোটসংস্কার

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে, ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে বাস্তবায়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

৫ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় হামের ঝুঁকি বেড়েছে: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও টিকার সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যার ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বেড়েছে।

হামের টিকা বিতর্কে ড. ইউনূসসহ ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং টিকাদান কর্মসূচি ঘিরে বিতর্কের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ জন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার নতুন সময় জানালেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে। রোববার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।