জাতীয়


এমপি–মন্ত্রীদের বেতন কত? গাড়ি, বাড়ি ও নানা ভাতাসহ রাষ্ট্র থেকে কত সুবিধা পান তারা


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার

এমপি–মন্ত্রীদের বেতন কত? গাড়ি, বাড়ি ও নানা ভাতাসহ রাষ্ট্র থেকে কত সুবিধা পান তারা

ছবি: দূরবিন নিউজ


রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রীরা। কিন্তু তাদের চলাফেরা, সরকারি গাড়ি কিংবা সরকারি বাসভবন দেখে সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন জাগে রাষ্ট্র থেকে তারা আসলে কত টাকা বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান?

 

বাংলাদেশে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী। এই আইনের আওতায় তাদের মাসিক বেতন, চিকিৎসা, ভ্রমণ, পরিবহন ও আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রী পান ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং একজন সংসদ সদস্যের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা।

 

বেতনের বাইরে মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করে। সরকারি কাজে বিদেশ সফরের সময় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভ্রমণভাতা পেয়ে থাকেন।

 

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি ব্যবহার করার সুযোগ পান। অন্যদিকে সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা পেয়ে থাকেন।

 

জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা দৈনিক ১৮ লিটার তেলের সমপরিমাণ অর্থ পান। এছাড়া পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসে ৭০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনী এলাকায় যাতায়াতের জন্য মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

 

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সাধারণত সরকারি বাসভবন পান। এসব বাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের খরচও সরকার বহন করে। কেউ সরকারি বাসায় না থাকলে মন্ত্রী মাসে ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৭০ হাজার টাকা করে বাড়িভাড়া পান।

 

এ ছাড়া সরকারি বাসভবনের সাজসজ্জার জন্য মন্ত্রী বছরে ৫ লাখ টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ৪ লাখ টাকা করে পান।

 

সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে আবাসনের জন্য সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের জন্য আরও কিছু নিয়মিত ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সম্মানী ভাতা: মাসে ৫ হাজার টাকা, টেলিফোন ভাতা: ৭ হাজার ৮০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা: ১ হাজার ৫০০ টাকা, ক্রোকারিজ ও টয়লেট্রিজ খরচ: মাসে ৬ হাজার টাকা, নির্বাচনী এলাকার অফিস খরচ (এমপি): মাসে ১৫ হাজার টাকা।

 

এ ছাড়া আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ৫ হাজার টাকা করে পান।

 

নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ লাখ টাকা, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা ৫ লাখ টাকা করে পান। পাশাপাশি স্বেচ্ছাধীন তহবিল হিসেবে বছরে আরও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এসব বেতন ও সুবিধা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত হলেও, এগুলো জনগণের করের অর্থ থেকেই আসে। তাই এই ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।


সম্পর্কিত

জাতীয়এমপিমন্ত্রীমন্ত্রীদের বেতন কত

জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পদায়ন না পাওয়া প্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের দশম সভা চলছে

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশম সভা শুরু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তরুণ উদ্ভাবকের স্বপ্নযাত্রা: নিজ হাতে বানানো ‘গো-কার্ট’ চালিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে কলেজছাত্র রিজওয়ান রশীদের উদ্ভাবনী প্রতিভা সরাসরি দেখলেন এবং উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজ হাতে তৈরি ‘গো-কার্ট’ (রেসিং কার) চালিয়ে তরুণ উদ্ভাবককে অনুপ্রাণিত করেন তিনি।

হামের পর সংকট এবার জলাতঙ্ক টিকার!

হামের প্রাদুর্ভাবের পর দেশে এবার জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি এই টিকার অভাব দেখা দেওয়ায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সরকারি পর্যায়ে টিকার মজুদ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।