জাতীয়


পাঁচ বছর পর ‘রিসোর্টকাণ্ড’ নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক, দিলেন বিস্তারিত ব্যাখ্যা


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার

পাঁচ বছর পর ‘রিসোর্টকাণ্ড’ নিয়ে মুখ খুললেন মামুনুল হক, দিলেন বিস্তারিত ব্যাখ্যা

পাঁচ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টকে কেন্দ্র করে আলোচিত ঘটনার পর এবার প্রথমবারের মতো বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ‘রিসোর্টকাণ্ড’, ‘মুতা বিয়ে’ বিতর্ক, ব্যক্তিগত জীবন এবং ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

 

সম্প্রতি বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক জাতীয় সংসদে মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ড এবং কথিত ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এর প্রেক্ষিতেই শনিবার (২০ জুন) নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ ব্যাখ্যামূলক পোস্ট প্রকাশ করেন তিনি।

 

পোস্টে মামুনুল হক দাবি করেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল তৎকালীন সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য ছিল তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা।

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরাকে সঙ্গে নিয়ে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, কিছু সাংবাদিক এবং অন্যান্য ব্যক্তি রিসোর্টে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন।

 

মামুনুল হক দাবি করেন, রিসোর্টের রিসেপশন থেকে তাকে জানানো হয়েছিল যে পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরে কক্ষের দরজা খোলার পর কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক কক্ষে প্রবেশ করে এবং মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন।

 

তিনি অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি থেকে স্ত্রীকে নিরাপদ রাখতে তাকে ওয়াশরুমে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নারী পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করে এবং সেখান থেকেও ভিডিও ধারণ ও সম্প্রচার চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।

 

বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে ব্যাখ্যা

 

পোস্টে মামুনুল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি এবং জান্নাত আরা উভয়েই নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি ঘটনাস্থলেই স্পষ্ট করা হয়েছিল এবং তা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছিল।

 

তিনি জানান, জান্নাত আরা পূর্বে তার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হাফেজ শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর জান্নাত আরার সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে শরিয়তসম্মতভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

 

তবে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক জটিলতা এবং রাষ্ট্রীয় আইনের কিছু বিষয় বিবেচনায় রেখে বিয়েটি প্রকাশ্যে আনেননি বলে দাবি করেন তিনি।

 

‘মুতা বিয়ে’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

 

মামুনুল হক তার বিরুদ্ধে প্রচারিত ‘মুতা বিয়ে’ বা চুক্তিভিত্তিক সাময়িক বিয়ের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

 

তিনি বলেন, জান্নাত আরার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল একটি বৈধ ও স্থায়ী ইসলামি বৈবাহিক সম্পর্ক। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটিকে ‘মুতা বিয়ে’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। তবে পারস্পরিক মতপার্থক্য ও বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আলোচনার মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

 

অন্য নাম ব্যবহারের কারণ

 

রিসোর্টে নিবন্ধনের সময় অন্য পরিচয় ব্যবহারের বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন মামুনুল হক।

 

তার দাবি, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রথম স্ত্রী আমিনা তাইয়েবার নাম এবং জান্নাত আরার পরিচয়পত্রে সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলামের নাম উল্লেখ ছিল। এ কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে প্রথম স্ত্রীর নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

একই কারণে প্রথম স্ত্রীকে ফোনে জান্নাত আরাকে ‘শহিদুল ইসলামের স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ

 

ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক প্রশ্ন তোলেন, তিনি কিংবা তার সঙ্গে থাকা নারী কোনো আইন ভঙ্গ করেছিলেন কি না।

 

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ, ভিডিও ধারণ, ফোন জব্দ এবং পরবর্তীতে ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ করা নাগরিক গোপনীয়তার পরিপন্থী ছিল। এসব ঘটনার বৈধতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

 

তার দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় আইন কিংবা শরিয়তের কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। এরপরও তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল।

 

গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ

 

মামুনুল হক আরও দাবি করেন, ঘটনার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

 

তার ভাষ্যমতে, তৎকালীন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে তাকে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

 

এছাড়া জান্নাত আরা, তার পরিবার এবং সাবেক স্বামীর ওপরও বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আদালত, মামলা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ

 

দীর্ঘ পোস্টে মামুনুল হক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণা ছিল চরিত্রহননের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়াতেও তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

 

তার মতে, রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে তাকে বিতর্কিত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে অনেক অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

‘৫০১’কে বিজয়ের প্রতীক বললেন মামুনুল

 

পোস্টের শেষ অংশে মামুনুল হক বলেন, ‘৫০১’ তার কাছে কোনো বিতর্ক বা কলঙ্কের প্রতীক নয়। বরং এটি তার ভাষায় তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনার ব্যর্থতার স্মারক।

 

তিনি দাবি করেন, ‘৫০১’ এখন তাদের কাছে বিজয়ের প্রতীক। ভবিষ্যতেও এ প্রসঙ্গ সামনে এলে তারা সেটিকে রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরবেন।

 

পোস্টের শেষাংশে তিনি নিজের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং আল্লাহর কাছে সবার জন্য হেদায়েত ও কল্যাণ কামনা করেন।

 

তবে মামুনুল হকের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা কিংবা অভিযুক্ত পক্ষগুলোর কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 


জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে দুবাইয়ে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

‘৩ মাসে যে কাজ হয়েছে, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরেও হয়নি’: মুন্সীগঞ্জে মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশজুড়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। মাত্র তিন মাসে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলেও দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে সই হতে পারে ১৫-১৭টি চুক্তি, আলোচনায় থাকবে তিস্তা প্রকল্পও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী প্রকল্পসহ অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক সংযোগের বিভিন্ন বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার উন্মুক্তের আশা, চীনের কাছে অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা চাইবে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা। আগামীকাল রোববার রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।