

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবিত নতুন ইলেকট্রিক বাইসাইকেল R22 Everest এ চড়ে পাড়ি দেয়া যাবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ভিত্তিক কোম্পানি অপ্টবাইক এমন একটি চমকপ্রদ মাউন্টেন বাইসাইকেল তৈরি করেছে, যা যেকোন শক্তিশালী বৈদ্যুতিক গাড়িকেও গতির দিক দিয়ে হার মানাতে সক্ষম। R22 Everest নামের এই ইলেকট্রিক বাইসাইকেলটি একবার সম্পূর্ণ চার্জ করে নিলে একটানা ৫১০ কি মি ছুটতে পারবে।এটি মূলত একটি অফরোড মাউন্টেন ই-বাইক। বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশ্বের আর সব সাইকেলকে ছাড়িয়ে যেতে সক্ষম এই বাহন। এমনকি সাইকেল কোম্পানিটি দাবি করেছে, সাধারণ চলাচলের পাশাপাশি এই বাইক যেকোন পর্বতসহ পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের জন্যও উপযোগী! ২২,০০০ ফুট পাহাড়ি ঢাল ও খাড়া পথে অনায়াসে চলতে পারে এটি। একারণেই নাম রাখা হয়েছে R22 Everest বাইসাইকেল। সমতল রাস্তায় সাইকেলটি পেডাল অ্যাসিস্ট মোডে ঘন্টায় ২৫ কি মি গতিবেগে চলতে পারে। তবে সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৫৮ থেকে ৬০ কি মি। একটানা প্রায় ২০ ঘন্টা চালিয়ে পাড়ি দেয়া সম্ভব ৫১০ কি মি পথ।ই-সাইকেলটিতে মোটর এবং ইলেকট্রিক ব্যাটারি রয়েছে। মোটরটি ১.৭ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। ব্যাটারির ওজন ১৬ কেজি হলেও চার্জ খরচ খুবই কম। এতে এমন শক্তিশালী এবং বড় আকারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে যা আধুনিক ইলেকট্রিক স্কুটারে বা মোটরসাইকেলেও থাকে না। ব্যাটারির একটি সুবিধা হচ্ছে, এটি দুটি আলাদা প্যাকে ডিজাইন করা। ফলে, দুই দিক থেকে খুলেই চার্জে বসান যায়। আরেকটি বিশেষ সুবিধা হল, চলতে চলতে মাঝ রাস্তায় ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে আর সব সাধারণ বাইসাইকেলের মতো এটিকেও প্যাডেল চেপে চালানো যাবে। সাইকেলটির রেঞ্জ খুবই সাধারণ হলেও ব্যাটারির ওজন বেশী হওয়ায় এটিও বেশ ভারী। তবে তাতে চলার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবে না। আঁকাবাঁকা এবং উঁচু নিচু রাস্তায় এটি সাবলীলভাবে চলতে পারে।বিপদজনক পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ব্রেকিং সিস্টেমে সাইকেলের চাকায় লাগানো থাকে ডিস্কব্রেক। দুর্গম পথ পাড়ি দেয়ার উপযোগী পুরু কার্বন ফাইবারের তৈরি ফ্রেম এবং সুইংআর্ম রয়েছে এতে। আর ২০০ মি.মি লং ট্রাভেল সাসপেনশন থাকায় চলার সময় পাহাড়ি রাস্তার ঝাঁকুনি বোঝা যায় না। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে দীর্ঘ পথ ভ্রমণের জন্য এটি তাই বিশেষ আরামদায়ক। বাইকের সামনে রয়েছে একটি এলসিডি স্ক্রিন। ব্যাটারির চার্জের পরিমাণ, গতিবেগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শন ব্যবস্থার রয়েছে সেখানে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে বর্তমানে মানুষ আগ্রহী হয়ে উঠছে ইলেকট্রিক যানবাহনের প্রতি। ইতোপূর্বে এসেছে ইলেকট্রিক মোটরগাড়ি এবং বাইক। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ইলেকট্রিক সাইকেলও। পরিবেশবান্ধব হওয়ার বিশ্বের সব উন্নত দেশেই সাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন। কিন্তু গাড়ির তুলনায় সাইকেলের গতি কম হওয়ায় দূরপাল্লার ভ্রমণে সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। এভারেস্ট সাইকেল সেই সমস্যা থেকেও মুক্ত। এটি একদিকে যেমন ছুটে চলবে গাড়ির মতো গতিতে, তেমনি পরিবেশকে রাখবে নির্মল ও দূষণ মুক্ত।তাছাড়া গাড়ির তুলনায় সাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণও সহজ, রাখতে জায়গাও কম লাগে। ইলেকট্রিক হওয়ায় জ্বালানীর খরচও নেই।ব্যাটারি আর মোটর দুটির সম্মিলিত শক্তিতে চলে বিধায়, চালাতে বেশী শারীরিক পরিশ্রমও হয় না। দুরন্ত গতিসম্পন্ন এই অত্যাধুনিক মাউন্ট বাইসাইকেলের দাম ১৮, ৯০০ ডলার। আপাতত সীমিত সংখ্যায় বাজারে আনা হবে। কারণ আকর্ষণীয় হলেও অতিরিক্ত দামের জন্য সাধারণের নাগালের বাইরে এটি। তবে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের মতো দুর্দান্ত স্বপ্ন থাকলে, দীর্ঘ বন্ধুর পথ নিশ্চিন্তে পাড়ি দিতে এই সাইকেল হয়ে উঠবে চমৎকার এক সঙ্গী।



