অন্যান্য


বুলগেরিয়ায় বিয়ের বাজারে টাকায় মেলে কুমারী বউ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ আগস্ট ২০২২, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার

বুলগেরিয়ায় বিয়ের বাজারে টাকায় মেলে কুমারী বউ

ইউরোপের দেশ বুলগেরিয়ায় খোলা হাটে বিক্রি হয় বিয়ের পাত্রী।

দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির যাযাবর সম্প্রদায় ক্যালাইডঝি। যুগযুগ ধরে এই সম্প্রদায়ের কুমারী মেয়েরা ঋতুমতী হলেই তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। 

তাদের জীবনযাত্রার আরো একটি বিচিত্র বৈশিষ্ট্য হল, ‘বিয়ের বাজার’। সেই বাজারে পুরুষরা হাজির হয় বউ খুঁজার আশায়। মন মতো সুন্দরী বউ মিললে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কিনে নেয়া হয় তাকে।

দুই লাখ ৩০ হাজার থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বউ কেনা বেচা হয়ে থাকে এই বাজারে। বছরে চার বার বসে এই বাজার।  

সারা বুলগেরিয়ায় ছড়িয়ে থাকা ক্যালাইডঝি সম্প্রদায় এসে মিলিত হন এই বিয়ের মেলায়।
সেখানে গাউন পরে কুমারীরা একে একে লাল রঙা কার্পেটের উপর দিয়ে হাঁটে।

অনেক সময় লাইন ধরে দাড়িয়ে থাকে। কেউ রূপচর্চা করেন। কেউ আবার পোশাক-আশাকের সঙ্গে স্বর্ণালংকারগুলো আরেক বার ঠিক করে নেন। 

যুবক-যুবতীরা এই বাজারে একে অন্যকে ধরে নাচেন, গান গায় ও নানা ফুর্তিতে মেতে ওঠেন। এমনকি হালকা পানীয়ও পান করে। আবার কেউ কেউ খোশগল্পে মশগুল হয়ে সময় কাটায়।

নতুন সঙ্গী খোঁজার জন্য তাদেরকে এই ‘কনে বাজারে’ তুলে মা-বাবারা। তারপর তারা নিজেদের জীবনসঙ্গী এবং জীবনসঙ্গিনী নির্বাচন করে। 

পাত্রপাত্রী পছন্দের পরে শুরু হয় আসল পর্ব। এবার আসরে অবতীর্ণ হন অভিভাবকরা। দু’পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে শুরু হয় দর কষাকষি। 

রীতিমতো পণ পাওয়ার আশ্বাস থাকলে তবেই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হন অভিভাবকরা।

সাধারণত কুমারীদের রূপ ও গুণের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হয় কন্যার ‘মূল্য’ বা কন্যাপণ। তিনশো থেকে পাঁচশো ডলার দাম পেয়ে থাকে কুমারীরা। 

কে কতো কন্যাপণ দিল, বা কতো কন্যাপণ পেল, সেটা এই সমাজে সামাজিক পরিচয়ের মাপকাঠিও বটে। 

আরও একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে কন্যাপণ। তা হলো, কুমারিত্ব। বিবাহযোগ্য কন্যার কুমারী থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এতে মিলবে বেশি পণ।

দাম দিয়ে কিনে আনার পর ছেলের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ করা হয় পাত্রীকে। 

যাযাবর এই সমাজে কন্যাপণ যে কোনো পরিবারের কাছে উপার্জনের উৎস। তবে ইদানিং এ বিয়ের রীতি কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। 

এর আগে পাত্রীদের তাদের নিজেদের পাত্র নির্বাচন করার সুযোগও থাকত না। পুরোটাই হতো তাদের অভিভাবকদের নির্দেশে।  

বুলগেরিয়ার বড় একটি অংশ ক্যালাইডঝি সম্প্রদায়। এই সম্প্রদায়ের মধ্যে এশীয় ও ইউরোপীয়, দুই জনজাতির বৈশিষ্ট্য বর্তমান। 

নৃতত্ত্ববিদদের ধারণা, সুদূর অতীতে আজকের রাজস্থান, হরিয়ানা ও পঞ্জাব এই অঞ্চলগুলো থেকে এই জিপসিদের উৎপত্তি। তারপর তারা ছড়িয়ে পড়েন সারা বিশ্বে।

‘ক্যালাইডঝি’ সম্প্রদায় সতর্কভাবে ইউরোপের খোলা হাওয়া থেকে নিজেদের সনাতন ও রক্ষণশীল রীতিনীতিকে রক্ষা করে এসেছে।

তারা যে এখনও কঠোরভাবে যাযাবর জীবন যাপন করে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই লোপ পেয়েছে যাযাবরি ঘরানার বৈশিষ্ট্য। 

কিন্তু ‘বিয়ের বাজার’ এখনও পালিত রীতি। আধুনিক প্রজন্মের কাছে তা নিষ্ঠুরতম প্রথা।

তারা এখন নিজেদের জীবনকে এক অভিশাপ হিসেবেই ভাবে। এসব নারীরা স্বাধীন হতে চায়।

যদিও কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন এই রীতি এখনও মেনে নিচ্ছে ক্যালাইডঝি সম্প্রদায়ের বিয়ের ভাগ্য। 



জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।