কুকুরের চেয়েও আজকাল বাঘের মালিক হওয়া বেশ সহজ হয়ে গেছে। ইচ্ছে করলেই যখন তখন বাঘের কোলে মালিক ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।
কিংবা একান্তে সময় কাটানো যাবে গৃহপালিত পশুর মতো। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।
কুকুরের চেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে বাঘ পালন কে সহজ মনে করা হয়। গবেষণা বলছে, সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে গৃহপালিত পশুদের মাঝে বাঘের সংখ্যাই বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের কাছে যত পালিত বাঘ রয়েছে, সারা দুনিয়ার সব জঙ্গলেও এত বাঘ নেই।
সেখানে মানুষের বাড়ির আঙিনায় বাঘের দেখা পাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। হরহামেশাই মানুষের বাড়িতে কিংবা উঠোনে বাঘ দেখা যায়।
আমেরিকার তেরটি রাজ্যে বাঘ পালনে কোন বাধা নেই। তাই সুযোগ কাজে লাগাতে কিংবা শখের বসেই অনেকে পালছেন হিংস্র এই প্রাণিটি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বিচরনকারী বাঘের সংখ্যা চার হাজারের কম। আর যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে পালিত বাঘের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি।
২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বাঘ বানিজ্য থেক সবচেয়ে বেশি আয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মানুষের মতো প্রত্যেক প্রাণীরই সঠিক ভাবে বেড়ে উঠার জন্য পর্যাপ্ত খাবার, সঠিক বাসস্থান এবং চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে। তার সাথে দরকার নিরাপত্তা।
বনাঞ্চলে বিচরণ করা বাঘেরা পর্যাপ্ত এবং সঠিক খাবারের অভাব বোধ করে। তার সাথে চিকিৎসা কিংবা পরিচর্যার অভাব তো রয়েছেই। এতে দেখা যায়, অনেক শাবক জন্ম নিলেও পরিচর্যার অভাবে বেড়ে উঠতে পারেনা।
আমেরিকায় যেসব বাঘ বাড়িতে পালন করা হয় তারা বেশ যত্নেই বেড়ে উঠে। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার, চিকিৎসা, যত্ন দেওয়া হয় তাদেরকে।
এতে তারা ছোট থেকেই সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠে এবং আয়ুষ্কাল বেশি হয়। বাঘিনিদের গর্ভধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
তাই অসুস্থ হয়ে খুব কম বাঘকেই মারা যেতে দেখা যায়। সেখানে গৃহপালিত বেশির ভাগ বাঘের মৃত্যু হয় বার্ধক্যজনিত কারনে।
সর্বপরি তাদের বেড়ে ওঠার জন্য যাবতীয় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কারনেই সেখানে বাঘের সংখ্যা এত বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি বাঘ দেখা যায় টেক্সাসে। কেবল এই রাজ্যেই বাঘের সংখ্যা প্রায় পাচ হাজারের কাছাকাছি।
তবে বাঘ পালনের আগে কিছু নিয়ম পালন করতে হয় মালিককে। একটি ফর্ম পূরনের মাধ্যমে বাঘ পালনের অনুমতি নিতে হয়।
আজকাল অনলাইনেও বিক্রি হচ্ছে বাঘের শাবক কিংবা বড় বাঘ। অনেক যত্নে বাঘ লালন পালন করা হলেও মাঝে মধ্যে সেখানে বিনোদনের জন্য বাঘের অপব্যবহার করা হয়।
তবে বর্তমানে প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাপে খাচায় কিংবা বাড়িতে বাঘকে বন্দী করে রাখার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
যতই যত্ন করা হোক, প্রানীর আসল বাসস্থান কিংবা বিচরণ ক্ষেত্র হলো সবুজে ঘেরা বনাঞ্চল।
নিরাপদ পরিবেশ এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে বনাঞ্চলেই বাঘের বাসস্থান তৈরি করা উচিত।
তবে শুধু বাঘই নয়, আমেরিকার বেশ কিছু অঞ্চলে অজগর সাপকেও অনেকে পোষ মানিয়েছেন। অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মতোই লালন পালন করা হয় একে।