বাণিজ্যিক বিশ্বে লাল সোনা হিসেবে পরিচিত মসলা জাফরান। বাজারে অন্যান্য মসলার চেয়ে এর দাম অনেক বেশি।
বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকায় মাত্র ১কেজি জাফরান পাওয়া যায়। স্বর্ণের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এর মূল্য।
প্রতি 450 গ্রাম জাফরান বিক্রি হয় 500 থেকে 5000 ডলার দামে। এক পাউন্ড জাফরানে থাকতে পারে দুই লক্ষ কেশর।
এর দাম নির্ভর করে কোয়ালিটির উপরে। যে জাফরানে যত সুবাস এবং যত ভালো কালার আসে সেটার মূল্য ততো বেশি। ফলে নির্দিষ্ট করে মূল্য বলা অসম্ভব।
বংশ বিস্তারের জন্য এরা মানুষের সাহায্যের উপর নির্ভর করে। চার বছর পর পর একটি জাফরান উদ্ভিদের মূলে টিউবার সৃষ্টি হয়।
অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা খুব সাবধানে এই বালব সংগ্রহ করে তা রোপন করেন, যা থেকে পরবর্তী সময়ে নতুন জাফরান উদ্ভিদের জন্ম হয়।
এ গাছ লম্বায় প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার হয়। রোপনের প্রথম বছর সাধারণত গাছে ফুল আসে না। একটি গাছ পরপর তিন থেকে চার বছর ফুল দেয়।
জাফরান চাষ ব্যয়বহুল ও অত্যন্ত ধৈর্য্যের কাজ বিধায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ এর চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
১৫০ টি ফুল থেকে মাত্র ১গ্রাম জাফরান পাওয়া যায়। ৪৫০ গ্রাম জাফরান তৈরির জন্য প্রায় ৭৫ হাজার ফুল প্রয়োজন।
এক কেজি জাফরান তৈরিতে এক লাখ সত্তর হাজার ফুল লাগে।১ কেজি জাফরানের জন্য ফুল সংগ্রহ করতে ৪০ ঘন্টা সময় লাগে কর্মীদের।
সীমিত সময়ের মধ্যে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে এই মসলা সংগ্রহ করতে হয়। মূলত এর চাষ এবং সংগ্রহ পদ্ধতির কারণেই এটি অনেক বেশি দামি।
এটি প্রধানত খাবারের স্বাদ এবং রঙের জন্য ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে বিরিয়ানি, জরদা ও পায়েস তৈরিতে এই মশলা ব্যাবহার করা হয়।
সবচেয়ে ভালো মানের জাফরান উৎপাদিত হয় স্পেনে। এর নানা রকম প্রকারভেদ আছে। জম্মু ও কাশ্মীর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, ইরান এবং চীনেও এর চাষ হয়।
সারাবিশ্বে ইরানি জাফরানের জনপ্রিয়তা বেশি। দামি মসলা বলে আমেরিকাতেও এর কদর রয়েছে।
জাফরান ফুল সংগ্রহ করা হয় ভোর বেলায়। ভোর ৫-৬টার মধ্যে শুরু এবং বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয় সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মীদের।
স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী এই মসলা। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও অন্যান্য অনেক শারীরিক সমস্যা নির্মূলে ঔষধের মতো কাজ করে।
এর ভেষজ গুণ এতই সমৃদ্ধ যে, এটি মানবদেহে অন্ততপক্ষে ১৫টি সমস্যা দূর করতে সক্ষম। ভিটামিন এ, বি, সি, জিংক, পটাসিয়াম ও সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যায় এতে।
রূপচর্চায়ও ব্যবহৃত হয় জাফরান। এটি অবসাদের চিহ্নকে দূরে ঠেলে দিয়ে ত্বককে সতেজ ও সজীব করে তোলে।
এছাড়াও এটি স্মরণশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।ঠান্ডা লাগা ও জ্বরের হাত থেকে বাঁচায় । এতে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্পিণ্ডের সমসা দূর হয়।
নিয়মিত খেলে ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ নিরাময় করে। নিদ্রহীনতা ও যেকোনো ধরণের ব্যাথা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী।
এ দেশের আবহাওয়া জাফরান চাষের জন্য অনুকূল বলে মনে করেন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদরা।
গাজীপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা, রংপুর, খুলনা ও বান্দরবানে কিছু এলাকায় স্বল্প পরিসরে এর চাষ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশও আগমীতে এই মূল্যবান মসলা উৎপাদন ও রপ্তানি করবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছে কৃষিবিদরা।