অন্যান্য


যে পার্কে প্রতিদিন দুটো করে হীরা পাওয়া যায়


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার

যে পার্কে প্রতিদিন দুটো করে হীরা পাওয়া যায়

মাটি খুড়লেই পাওয়া যায় হীরা। সেজন্য প্রয়োজন নেই কোন লাইসেন্স। ভাগ্যে থাকলে যে কেউ হয়ে যেতে পারেন হীরার মতো মূল্যবান সম্পদের মালিক। 

অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তবে এমন একটি জায়গার অস্তিত্ব আছে।  যেটির নাম আরকানসাস স্টেট পার্ক। আমেরিকায় অবস্থিত এই পার্কের মাটি খুড়ে পাওয়া যায় হীরার টুকরা। 

অনেকেই রীতিমতো বড়লোক হয়ে গেছেন এই পার্কের হীরা দিয়ে। গত চার বছরে একজন ব্যক্তিই খুজে পেয়েছেন ৮০ টি হীরা। এর মাঝে ৫০ টি হীরাই পেয়েছেন চলতি বছর। এর থেকেই ধারণা পাওয়া যায় এখানকার প্রাচুর্যের!

আমেরিকার বিস্ময়কর এই পার্কটি ডায়মন্ড স্টেট পার্ক নামেও পরিচিত।  দেশটির আরকানসাস কাউন্টির ৯১১ একর জমি নিয়ে গড়ে উঠেছে এই পার্ক। এর মধ্যে ৩৭ একর জমির বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে হীরার খনি। 

বর্তমানে পুরো পৃথিবীর মধ্যে এটিই একমাত্র হীরার খনি, যেখানে প্রবেশের জন্য কোন সরকারি দরপত্র কিংবা লাইসেন্স নিয়ে ভাবতে হয় না। বরং যেকোন সাধারন মানুষ হীরা খুজতে পারেন এখানে। 

সেজন্য বেশি কিছু করতে হয় না কারো। শুধুমাত্র পার্কে প্রবেশের জন্য একটি টিকেট কাটতে হয় অনলাইনে অথবা সরাসরি। এরপর ইচ্ছামতো হীরা খোজা যায় পার্কের ভেতরে। 

আমেরিকার এই খনিতে হীরা পাওয়ার রেকর্ড ও অবিশ্বাস্য। গত প্রায় পঞ্চাশ ধরে গড়ে প্রতিদিন দুইটি করে হীরা পাওয়া গেছে এখানে। ১৯৭২ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিলো পার্কটি। 

চলতি মাসের শুরুতে একটি হীরা খুজে পান স্কট ক্রেইকস নামের এক ব্যক্তি। যেটি ছিলো এই পার্কের মধ্যে পাওয়া ৩৫ হাজার তম হীরা। তিনি  ৫০ টি হীরা খুজে পেয়েছেন চলতি বছরে।  

এখানকার ৩৭ একর জমিতে পাওয়া যায় হীরা সহ বিভিন্ন ধরণের শিলা এবং রত্নপাথর। ঘুরতে আসা কেউ রত্নপাথর খুজে পেলে নিজের কাছে রাখতে পারেন সেটি। 

বিস্ময়কর এই পার্কে হীরার খোজ চলছে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে। গত শতকের শুরুর দিকে এখানে পাওয়া যেতো ত্রিশ ক্যারাট বা তারও বেশি ওজনের প্রচুর সংখ্যক হীরা। 

১৯২৪ সালে ওয়েসলি  নামের এক শ্রমিক এখানে খুজে পান ‘আঙ্কল স্যাম’ নামের বিখ্যাত হীরা। যেটির ওজন ছিলো ৪০ ক্যারেটের বেশি। এখন পর্যন্ত পুরো আমেরিকায় পাওয়া সকল হীরার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। 

১৯৫৬ সালে এই পার্ক থেকে আরো একটি বিখ্যাত হীরা খুজে পান জন পোলক নামের এক ব্যক্তি। নীল রঙের চোখ ধাঁধানো সেই হীরার ওজন ছিলো  ৩৪  ক্যারাটের বেশি। 

নিয়মিত এরকম হীরা পাওয়ার খবরে বিখ্যাত হয়ে উঠে জায়গাটি। তাই হীরা খোজার জন্য দূর দুরান্ত থেকে আসতে থাকেন পর্যটকরা। 

এরপর ১৯৭২ সালে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় হীরা সমৃদ্ধ এ জায়গাটি। তখন থেকে চলতি মাস পর্যন্ত ৩৫ হাজার হীরা খুজে পেয়েছেন সাধারন মানুষ।

ডায়মন্ডস স্টেট পার্ক নামের এই জায়গায় মূলত সাদা, পিঙ্গল এবং হলদে রঙের হীরা পাওয়া যায়। এখানে প্রবেশের জন্য শুধুমাত্র একটি টিকেট কাটতে হয় দর্শনার্থীদের। এরপর হীরার খুজে ইচ্ছামত খোঁড়াখুঁড়ি করতে পারেন যে কেউ। 

তবে হীরা খোজা ছাড়াও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে ডায়মন্ড স্টেট পার্কে। পিকনিক করার জন্য আদর্শ এক গন্তব্য আমেরিকার এই পার্ক। 

তাবু টানিয়ে সময় কাটানোর জন্য ৪৭ টি জায়গা রয়েছে এখানে। এছাড়া গিফট শপ, ওয়াটার পার্ক সহ বিনোদনের অনেক ব্যবস্থাই করে রেখেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

তবে বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে নয় বরং হীরার জন্যই পরিচিতি পেয়েছে আমেরিকার স্টেট পার্ক। 



জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।