লং ড্রাইভের জন্য চমৎকার রাস্তা ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে। এটিই দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে।
ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এই মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার, আর মাওয়ার দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার।
সড়কটিতে ৫টি ফ্লাইওভার, ১৯টি আন্ডারপাস এবং প্রায় ১০০টি সেতু ও কালভার্ট রয়েছে। মূল সড়কে চারটি লেন এবং দুই পাশে সাড়ে ৫ মিটার করে দুটি সার্ভিস লেন আছে।
এই এক্সপ্রেসওয়েটি এশীয় মহাসড়কের অংশ। এতে গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য রাখা হয়েছে আটটি পথ।
এক্সপ্রেসওয়ে এবং পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়েছে।
বর্তমান পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ হলো কক্সবাজার হতে টেকনাফগামী রাস্তা। ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘের রাস্তাটি ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার জন্য অনন্য।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত একদিকে সাগর এবং অপরদিকে স্থলভাগে নিরবচ্ছিন্ন পাহাড়ে ঘেরা অসাধারণ প্রকৃতির মাঝে পিচ ঢালা পথ।
চলতি পথে বিশ্রাম নেয়ার জন্য রয়েছে কাঠের তৈরী রেস্তোরাঁ। দুপুরের খাবার বা হালকা নাস্তারও ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে। আর ছবি তোলার মতো মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী তো রয়েছেই।
হাওরের বুক চিড়ে বয়ে চলেছে মিঠামইন-অষ্টগ্রাম রোড। নিকলি হাওরের পাশে ৩০ কি.মি. দীর্ঘ এই রাস্তাটির উদ্বোধন করা হয় ২০২০ সালে। এটি কিশোরগঞ্জের তিনটি উপজেলা অষ্টগ্রাম, মিঠামইন এবং ইটনাকে যুক্ত করেছে।
রাস্তাটি থেকে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এই জায়গাটি ভ্রমনের উপযুক্ত সময় হলো জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর।
পানিস্তর নিচে নেমে গেলে মনপুরা চর জেগে উঠে। রৌদ্রোজ্জ্বল সুন্দর দিন, নীল আকাশে তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়, এমন আবহাওয়ায় ড্রাইভিং করে দারুন অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।
লং ড্রাইভের জন্য মনোরম রাস্তা চট্টগ্রাম-বান্দরবান রোড। চট্টগ্রাম হতে বান্দরবান অবধি ৭৫ কি.মি. ব্যাপী রাস্তাটির দুই পাশে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমাহার।
গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম করার মতো জায়গা না থাকলেও চারদিকের সবুজ শ্যামলিমা ও শান্ত নির্জন প্রকৃতি মন-প্রাণ জুড়িয়ে দেয়ার মতো।
পাহাড়ের গায়ে নানা জাতের পাহাড়ি সবজির ক্ষেত একমাত্র বান্দরবানেই দেখার সুযোগ মেলে। তবে বর্ষা মৌসুমে এখানে গাড়ি চালানো তেমন সুবিধাজনক নয়।
লং ড্রাইভের জন্য উপযোগী লেবুখালি থেকে কুয়াকাটার রাস্তা। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটা বেশ জনপ্রিয়।
গত বছর উদ্বোধনের পর লেবুখালি সেতুটি কুয়াকাটার সাথে বরিশালকে সংযুক্ত করায় এখন যাতায়াতও সহজ হয়ে গেছে।
লেবুখালি থেকে কুয়াকাটার দূরত্ব ৮২ কি.মি.। যেতে লাগে মাত্র দুই ঘন্টা। এই পুরো রাস্তাটি লং ড্রাইভের উপযোগী। আরামে দুই ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে সহজেই পৌঁছানো যায় "সাগর কন্যা" নামে খ্যাত কুয়াকাটায়।
রাজশাহী শহর থেকে বনপাড়া অবধি প্রায় ৬৫ কি.মি. এর চমৎকার রাস্তাটি দিতে পারে ড্রাইভিং এর এক সুন্দর অভিজ্ঞতা। প্রশস্ত না হলেও দুইপাশের সবুজ সবজির ক্ষেত চোখে প্রশান্তি এনে দিবে।
এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য মনকে শান্ত রাখে। পথিমধ্যে চাইলে নাটোরে থেমে সেখানকার ঐতিহাসিক স্থানগুলো একবার ঘুরে আসা যেতে পারে।
নাটোর থেকে বগুড়া পর্যন্ত ৭০ কি.মি. ব্যাপী রাস্তা লং ড্রাইভের জন্য জনপ্রিয়।