হাজার হাজার ফুট উচু খাড়া আকৃতির পাহাড়, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও যেগুলোতে চড়া কঠিন হয় মানুষের জন্য। কিন্তু একটি ছাগল অনায়াসে বেয়ে উঠতে পারে সেগুলোতে।
এমন অবিশ্বাস্য একটি ছাগলের প্রজাতি রয়েছে পৃথিবীতে, যারা মাউন্টেন গোট বা পাহাড়ি ছাগল নামে পরিচিত।
সাধারণত আর দশটা ছাগলের মতোই একই রকম দেখতে মাউন্টেন গট। কিন্তু আচরন এবং বৈশিষ্টের দিক দিয়ে মোটেও সাধারন নয় এগুলো।
পাহাড়ি ছাগল বিচরন করে স্বাধীন ভাবে। গবাদি পশু হিসাবে পালিত না হবার কারণে
আত্মরক্ষা এবং খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয় নিজেদের। যা পুরন করতে গিয়ে সারাজীবন অবিশ্বাস্য সংগ্রাম আর দক্ষতার পরিচয় দেয় পাহাড়ি ছাগল।
অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে এই প্রানী। সাধারণত পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করার কারণে পাহাড়ের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল এগুলো।
নিজেদের খাবার সংগ্রহের জন্য পাহাড়ের গায়ে চরে বেড়ায় তারা। এমনকি খাবারের খোঁজে প্রতিদিন ভুমি থেকে প্রায় ১৩ হাজার ফুট উঁচু পাহাড়েও অনায়াসে উঠে যেতে পারে এই প্রানী!
বিস্ময়কর দক্ষতার এ ছাগল প্রজাতি মূলত উত্তর আমেরিকার পার্বত্য অঞ্চলে দেখা যায়। তবে হিমালয়ের পার্বত্য এলাকা এবং আফগানিস্থানেও বসবাস করে মাউন্টেন গোট ছাগল।
আমাদের দেশের সাধারন ছাগলের চেয়ে আকার এবং আয়তনের দিক দিয়ে অনেকটাই বড় হয় এগুলো। একটি সদ্য জন্মানো পাহাড়ি ছাগল ছানার ওজন হয় প্রায় তিন কেজির কাছাকাছি।
অবিশ্বাস্য এই প্রানীর পুরো জীবনটাই হয়ে থাকে সংগ্রামে পরিপুর্ন। মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয়ার চার পাঁচ ঘন্টার মধ্যেই পাহাড়ে চড়ার চেষ্টা শুরু করে শাবক।
কারণ দুর্গম এসব পাহাড়ই তাদের আশ্রয় এবং খাবারের উৎস। সেজন্য জন্মের পর থেকে শুরু হওয়া চেষ্টার মাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ পর্বতারোহী তে পরিনত হয় এই প্রানী।
মাউন্টেন গোট মূলত ছাগলের প্রজাতি হলেও এদের আকার হয়ে থাকে ছোটখাটো গরুর মতো। সাধারণত ৪৫ কেজি থেকে ১৪০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয় একেকটি পাহাড়ি ছাগলের।
তবে গবাদিপশু হিসাবে পালন করা সম্ভব নয় এগুলো। কারণ স্বাধীন চেতা পাহাড়ি ছাগলের প্রজাতি পোষ মানে না কখনোই।
বিস্ময়কর দক্ষ এই ছাগলের জীবন কাটে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে। তাদের শরীরের গঠনও হয়ে থাকে সকল পরিবেশে টিকে থাকার উপযোগী।
পাহাড়ি ছাগলের পুরো শরীর ঢাকা থাকে ঘন পশম দ্বারা। পার্বত্য অঞ্চলে অনেক সময় বিরাজ করে মাইনাস ৪০ ডিগ্রির মতো শীতল তাপমাত্রা। আবার অনেক সময় বয়ে চলে ১৪০ কিলোমিটার গতিবেগের ঝড়ো বাতাস।
কিন্তু আবহাওয়া যেমনই হোক, এ সব ঝড়-ঝাপটা মোকাবেলা করে টিকে থাকতে পারে মাউন্টেন গোট। সাধারণত ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেচে থাকে এই প্রানী। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এগুলোর মৃত্যু হয় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় পড়ে।
পাহাড়ি ছাগল প্রজাতির বেশ কিছু আচরণ অন্যান্য প্রজাতির থেকে আলাদা। সাধারণত পুরুষ এবং স্ত্রী ছাগল চলাফেরা করে আলাদা আলদা দলে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। বছরের শুধু এই সময়টাতেই একসাথে মিলিত হয় পুরুষ এবং স্ত্রী পাহাড়ি ছাগল।
অপরদিকে একেকটি পূর্ণ বয়স্ক পাহাড়ি ছাগলের শরীর থেকে বছরে প্রায় ৪০ কেজি উল পাওয়া যায়। কিন্তু বাণিজ্যিক ভাবে লাভজনক হলেও পালন করা হয় না এগুলো। কারণ মাউন্টেইন গোট পোষ মানে না কোন ভাবেই।