১২ কিলোমিটার দৈর্ঘের হাইওয়ে ব্রিজ বানিয়েছে চীন, যার সাড়ে চার কিলোমিটার অংশ সমুদ্রের উপর দিয়ে গেছে। অভিনব এই সেতুটি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেশটি।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ফুজিয়ান প্রদেশে দেশটির দ্বিতীয় "প্রিফেবরিকেটেড" সেতুর কাজ শেষ হয়েছে।
এটি ফুজিয়ান প্রদেশের জিয়াম্যান দ্বীপকে মূল ভূখন্ডের সাথে যুক্ত করবে। চীনের যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের একটি প্রকল্প জিয়াং এন সেতু।
প্রায় সাড়ে বারো কিলোমিটার দৈর্ঘের ব্রীজটি তৈরী করতে প্রয়োজন পড়েছে মোট ৩৬ টি বক্স গার্ডার।
ফুজিয়ানা প্রদেশের ছয়টি Vertical roads এবং দশটি আনুভূমিক মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার অংশবিশেষ হিসেবে জিয়াং এন ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়।
ব্রিজটি নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নত মানের নকশা এবং জটিল ধরনের নির্মাণ প্রযুক্তি। এমনকি এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নও ছিল যথেষ্ট কঠিন।
এটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। স্থাপনা নির্মাণে দুই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। একটি হলো "বিল্ডিং অন সাইট" এবং অপরটি "প্রিফেবরিকেটেড"।
সাধারনত কোন স্থাপনার অংশগুলো যদি ভিন্ন জায়গায় তৈরী করে পরবর্তীতে নির্ধারিত স্থানে ক্রেনের সহায়তায় বসিয়ে দেয়া হয় তাহলে সে সেটিকে "প্রিফেবরিকেটেড" স্থাপনা বলা হয়।
সেতুটিতে ব্যবহৃত লোহার গার্ডারগুলো দেখতে বাক্সের মতো, এগুলোকে "বক্স গার্ডার" বলা হয়। এগুলো প্রায় ৭২ মিটার লম্বা, ৫৩ মিটার চওড়া এবং সাড়ে তিন মিটার উঁচু।
প্রতিটির ওজন ২১৯৭.২ টন। চীনের অন্যান্য সেতুগুলোতে এর আগে কখনো এতো চওড়া গার্ডার ব্যবহার করা হয়নি।
জিয়াং এন ব্রীজটি পুরোপুরি চালু হলে ফুজিয়ান প্রদেশের হেইজি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং জিয়াম্যান শহরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হবে।
শুধু তাই নয়, জাতীয় পর্যায়ের লজিস্টিক চ্যানেলও নির্মিত হবে। পাশাপাশি জিয়াম্যান শহরের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ত্বরান্বিত হবে।
ব্রিজটি ফুজিয়ানা প্রদেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০২৩ এর বসন্ত উৎসবে এটি জনসাধারনের জন্য খুলে দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের প্রথম সমুদ্র সেতু হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাও সেতুটি উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০১৮ সালের অক্টোবরে।
এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। ৫৫ কি.মি. দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণে চার লাখ ২০ হাজার ২০০ টন ইস্পাত ব্যবহার করা হয়েছে, যা দিয়ে ৬০টি আইফেল টাওয়ার বানানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ১৪টি দেশ থেকে বিখ্যাত প্রকৌশলীদের নিয়ে ২০০৯ সালে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করে চীন সরকার।
ইংরেজি বর্ণমালা ‘ওয়াই’ আকৃতির মতো দেখতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। সেতুটি ব্যবহার করে এখন হংকং থেকে ঝুহাই যেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। যেখানে আগে সময় লাগত ৩ ঘণ্টার বেশি।
এই সেতু দিয়ে ম্যাকাও এবং হংকংয়ের যাত্রী ও যানবাহনগুলো সরাসরি এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়া-আসা করতে পারে।
শক্তিশালী মাত্রার টাইফুন কিংবা ভূমিকম্প প্রতিরোধী সেতুটি ১২০ বছর কোনো মেরামত ছাড়া অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে। রিখটার স্কেলে ৮ তীব্রতার ভূমিকম্পতেও এই সেতু ভেঙে পড়বে না।
সমুদ্র সেতুটি দিয়ে দৈনিক প্রায় ত্রিশ হাজার গাড়ি চলাচল করতে পারে। তবে কেউ চাইলেই এই পথ অতিক্রম করতে পারবে না।
যারা সেতু পাড়ি দিতে চায় তাদের বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। আর সব যানবাহনকেই টোল দেয়া বাধ্যতামূলক। সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, দিনে প্রায় ৯,২০০ যান এই পথে চলাচল করে।
টোল থেকে বছরে আয় হয় আট কোটি ৬০ লাখ ডলার। সেতুটিতে কোন গণ পরিবহণ নেই। তবে যাত্রী ও পর্যটকদের জন্য শাটল বাসের ব্যবস্থা আছে।