-2412.jpg&w=3840&q=75)

স্থল প্রাণীদের মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড় হাতি। তাদের মস্তিষ্কও সবচেয়ে বড়। হাতি যে কতটা বুদ্ধিমান সেটা তার কাজ দেখেই বুঝা যায়। যৌথভাবে সমস্যা সমাধান, বস্তুর ব্যবহার, দিক নির্দেশনা বুঝতে পারা কিংবা সমবেদনাও প্রকাশ করতে পারে তারা।চীনের একদল হাতি এক বছরের বেশি সময় নিয়ে, পাঁচশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনায়, তাদের স্বভাব, বুদ্ধি ও আচার-আচরণের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল আরও বেড়েছে।এই সময়ে দেশটির বেশ কিছু গ্রাম, নগর ও শহরের মধ্যে দিয়ে তারা হেঁটে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশ্বের কোথাও কোনো হাতির দল এতো লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে বলে আগে কখনো জানা যায়নি।হাতি খুবই সামাজিক, স্নেহশীল ও বুদ্ধিমান প্রাণি। বহু বছর যাবত এরা নিজেদের এলাকা ও পানির উৎস অবিশ্বাস্যভাবে মনে রাখতে পারে। শুধু তাই নয় নিজেদের খাবার নিজেরাই পরিষ্কার করার পাশাপাশি যন্ত্রপাতিও ব্যবহার করতে জানে। হাতিরা আয়না দেখে নিজেদের কে চিনতে পারে। এমনকি মানুষের মতো হাতিদের জীবনেও আছে হাসি কান্না।কোনো হাতি মারা যাওয়ার পর অন্য হাতিরা মানুষের মতোই শোক প্রকাশ করে। তাদের একজন তখন শব্দ করে শোক জানায় এবং বাকিরা নিরবে দাঁড়িয়ে থাকে।আবার আনন্দ উৎসবেও তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। হাতি পরোপকারী একটি প্রাণী। তাদের ভেতরে একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করার আগ্রহ অত্যন্ত প্রবল।মানুষের যতো নিউরন আছে তার চেয়েও তিনগুণ বেশি আছে হাতির। মানুষ সহ অন্যান্য প্রাণীদের ক্যানসার হলেও হাতিদের হয় না। এমনকি হাতিদের ক্যানসার হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।বিশাল এই প্রাণীদের পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল, ক্যানসার হওয়ার হার অন্যান্য প্রাণীদের থেকে কম। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিই নেই হাতিদের। এর কারণ হল শরীরে থাকা দুটি জিন।একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পি-৫৩ নামের একটি বাড়তি জিনের কারণেই হাতির শরীরে ক্যান্সার দানা বাঁধার সুযোগ পায়না।মানুষের শরীরে পি৫৩ জিনের একটি মাত্র কপি থাকে, আর ওই এক কপি জিনই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। কিন্তু হাতির শরীরে এই জিনের ২০টি কপি থাকে।আর এ বাড়তি জিন হাতিকে সুরক্ষা দেয় ক্যান্সারের জীবাণু থেকে।কোনো কোষের ডিএনএ যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন পি৫৩ জিনের প্রোটিন কোষের সেই ক্ষতি সারিয়ে তোলে অথবা কোষটিকে মেরে ফেলে।এই জিনের কারণে ক্যান্সার সেলগুলো বিপজ্জনক টিউমারে পরিণত হওয়ার আগেই নিজেই ধ্বংস হয়ে যায়।গবেষণায় পি৫৩ জিন ছাড়াও হাতিদের কোষে খুজে পাওয়া গেছে এলআইএফ বা লিউকেমিয়া ইনহিবিটরি ফ্যাক্টর।মজার ব্যাপার হলো প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে হাতিদের শরীরে এলআইএফ-৬ জিনটি ছিল। কিন্তু এক সময় নিষ্কিয় হয়ে যায় এই এটি। কিন্তু এখন জিনটি আবারও জেগে উঠেছে। এই জেনেটিক ফ্যাক্টরগুলো হাতিদের অন্যান্য প্রাণীদের থেকে আলাদা করেছে। এক একটা পুরুষ হাতি সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বাচে। তবে বন্য হাতি ৬০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত বেচে থাকতে পারে। আতঙ্কের বিষয় হল দেশে অবাধে হাতি নিধন চলছে। আগামী দিনে হাতি সংরক্ষণ না করলে এবং মানুষের হাতে হাতি নিধন বন্ধ করতে না পারলে বিশাল দেহের ডাইনোসরের মতো এই প্রাণীটিও এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।



