বিশ্বের সবথেকে বেশি সোনা সংরক্ষিত আছে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে। অন্তত ১০০টি দেশ সোনা মজুদ রেখেছে এখানে।
স্বর্ণের মজুদকরন নিউ ওয়ার্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অন্যতম একটি পরিসেবা। ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমূহ, বিভিন্ন দেশের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে এই সেবা দেওয়া হয়।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ম্যানহাটনে অবস্থিত। প্রধান কার্যালয়ের মাটির নিচে রয়েছে সোনার ভোল্ট। ১৯২০ সালের শুরুতে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
তার মধ্যে সোনার বারের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার । এসরের মোট ওজন ৬ হাজার ১৯০ টন। ভোল্টটি শহরের মূল রাস্তা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে থেকে ৮০ ও ৫০ ফুট নিচে নির্মিত ।
ম্যানহাটন আইল্যান্ডের মজবুত বেডরকের উপরে এটির অবস্থান বিধায় এতো ওজন বহন করা সম্ভব হয়েছে।
এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভীষণ কড়া। এলিভেটরের মাধ্যমে সোনার বার গুলো মাটির নিচের ভল্টে আনা হয়।
ভল্টে ঢোকার সাথে সাথে বার গুলোর সমস্ত দায়িত্ব বর্তায় তিন সদস্যের একটি ছোট্ট দলের উপর। দু জন নিউ ইয়র্ক ফেডারেল গোল্ড ভোল্টের কর্মকর্তা এবং একজন নিউ ইয়র্ক ফেডারেলের নিজস্ব পরিদর্শক।
এরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকেন। এমনকি ভল্টের সামান্য বাল্ব পরিবর্তন করার সময়ও এদের উপস্থিত থাকতে হয়।
এরপর সোনার বারগুলো ১২২ নম্বর কম্পার্টমেন্টে চলে যায়। নির্দিষ্ট কক্ষে রাখার আগে বারের ওজন, পরিমাণ রেকর্ড করে রাখা হয়, যাতে স্বচ্ছতার ব্যাপারে কোন প্রশ্ন না উঠে।
প্রত্যেকটি কম্পার্টমেন্ট একটি প্যাডলক, দুটো কম্বিনেশন লক এবং পরিদর্শকের সিল দ্বারা বন্ধ করে দেয়া হয়।
মজার ব্যাপার হলো, বারগুলোর কোনটিই ১০০ শতাংশ সোনা দ্বারা তৈরী নয়। পুরো সোনা দিয়ে তৈরী বারগুলো সংরক্ষন করা বেশ ঝামেলার।
কারন সোনায় খাদ মিশ্রিত না থাকলে তার আকার নষ্ট হয়ে যায়। তাই সোনার পাশাপাশি খাদ হিসেবে তামা, রুপা, লোহা, প্লাটিনাম ধাতু ব্যবহার করা হয়।
সোনা রাখার পুরো জায়গাটি বহুস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনি দ্বারা আবদ্ধ। ভল্টের একমাত্র প্রবেশ পথে রয়েছে ৯০ টনের একটি লোহার সিলিন্ডার।
৯ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই সিলিন্ডারটি ১৪০ টনের লোহা এবং কনক্রিট দিয়ে বানানো ফ্রেমের গা বরাবর তৈরী।
সিলিন্ডারটি ফ্রেমের সাথে আটকে যখন প্রবেশ পথ বন্ধ করা হয় তখন এটি বায়ু ও পানি নিরোধক হয়ে উঠে। এখানে বিশেষ ধরনের ঘড়ি ব্যবহার হয়।
এটি অ্যালার্ম ক্লকের মতো কাজ করে। ঘড়িতে একটি নির্দিষ্ট সময় সেট করে দেয়া হলে সেই নির্দিষ্ট সময়ের আগ পর্যন্ত প্রবেশ পথের দরজা কোন মতেই খোলা যায় না।
কোনো চোর যদি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ড্রিল মেশিন দিয়েও গর্ত করা শুরু করে তবুও ভল্টের কাছে আসতে সময় লাগবে দুই মাস।
পাশাপাশি ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছে। তাদেরকে টানা এক বছর ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তাদের কাছে থাকে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এছাড়া ক্যামেরা, অ্যালার্ম ও তালা তো রয়েছেই।
প্রতি বছর প্রায় ১০, ০০০ পর্যটক সোনার ভল্টটি দেখতে ভীড় জমায়। বিনামূল্যে জায়গাটির সীমিত অংশ ঘুরে দেখা যায়।
এটি এক ধরনের শিক্ষা ভ্রমন হিসেবে ধরা হয়, যা নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংকের কাজ সম্পর্কে ধারনা পেতে সাহায্য করে।