সূর্য কে কেন্দ্র একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে পৃথিবী। এই ঘূর্নন গতির কারণেই রাত এবং দিন হয় পৃথিবীতে।
কখনো এই ঘুর্ণন বন্ধ হয়ে গেলে তার পরিনতি হবে অকল্পনীয়।
হঠাৎ করে পৃথিবীর ঘূর্ণন যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর পৃষ্ঠে থাকা সব কিছু ছিটকে পূর্বদিকে উড়তে শুরু করবে ঘন্টায় ১৬৭০ কিলোমিটার বেগে। মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি, জীব জন্তু, রাস্তাঘাট, বিল্ডিং, পাহাড় পর্বত এমনকি মাউন্ট এভারেস্ট ও সহ্য করতে পারবে না এই ধাক্কা।
পৃথিবীর ঘূর্ণন বেগ কমে গিয়ে যদি 100 থেকে 11 কিলোমিটার এর মধ্যে চলে আসে, তাহলে পৃথিবীর আবহাওয়া সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যবে। সব সাগর মহাসাগর দুই ভাগ হয়ে চলে যাবে উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুতে।
কেন্দ্রাতিগ বলের এই গতিবিধির জন্য দুই মেরুতে দুটি সাগর তৈরি হবে। আর এই দুই মেরুর মাঝখানে তৈরি হবে হাজার হাজার মাইলের বিস্তীর্ণ স্থলভূমি।
পৃথিবী ঘুর্ণনের বেগ 0 থেকে 11 কিলোমিটার এ চলে আসলে পৃথিবী সম্পূর্ণ স্থির থাকবে, কিন্তু তবুও ঘুরবে সূর্যের চারিদিকে। ফলে ২৪ ঘন্টার হিসাব পালটে গিয়ে ৬ মাস রাত আর ৬ মাস দিন থাকবে।
বিষুবরেখার দিকে তাপমাত্রা থাকবে মেরু অঞ্চলের চেয়ে অনেকাংশে বেশি। ৬ মাস প্রচণ্ড উত্তাপ আর ৬ মাস তাপমাত্রা মাইনাস ৫৫ ডিগ্রী থেকেও নিচে থাকবে। এভাবে চলতে থাকবে , যত দিন না সূর্য “লাল দানবে” পরিণত হয়।
আর পৃথিবীর ঘূর্ণন একবারেই বন্ধ হয়ে গেলে 1600 থেকে 1700 কিলোমিটার বেগে একটি প্রচন্ড শক্তিশালী বায়ু সৃষ্টি হবে। এই শক্তিশালী বায়ুর নিষ্ঠুর রুপ থেকে প্রথম কয়েক সেকেন্ডের জন্য দুটি জায়গার মানুষ নিরাপদে থাকবে। তারা হলো ওই সময় উড়ন্ত প্লেনে থাকা মানুষ এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে থাকা মানুষগুলো। কারণ মেরু অঞ্চল গুলোতে পৃথিবীর ঘূর্ণন সবচেয়ে কম।
ঘূর্ণন থেমে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড পর শুরু হবে প্রচন্ড ঝড় ও বজ্রপাত, যা বিদ্যুতায়নের সৃষ্টি করবে। এর সংস্পর্শে আসলে উড়ন্ত বিমানগুলোও ভস্ম হয়ে যাবে।
হঠাৎ পৃথিবীর ঘূর্ণন থেমে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হবে বিশাল আকারের সামুদ্রিক ঢেউ। সমুদ্রের সমস্ত পানি উঠে এসে স্থলভাগ ভাসিয়ে নিয়ে মেরুর দিকে চলতে থাকবে কারণ পৃথিবীর গোলাকার নয়।
ঘূর্ণন গতি থেমে যাওয়ায় ১৬০০ কিলোমিটার বেগে বহমান বায়ুর সাথে ঘর্ষনের ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে আগুন লেগে যাবে, আর এই আগুনের জ্বালানি হবে অক্সিজেন।
পৃথিবীর ঘূর্ণন বন্ধ হওয়ার ফলে সূর্য পৃথিবীর সাপেক্ষে স্থির হয়ে যাবে ফলে যেখানে দিন সেখানে চিরকাল দিন এবং যেখানে রাত সেখানে চিরকাল রাতই থাকবে। যে অংশে রাত সেখানে উত্তাপের অভাবে সব কিছু বরফে পরিনত হবে।
পৃথিবীর নিচে একটি উত্তপ্ত ধাতব অংশ রয়েছে যা পৃথিবীকে একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ডে আবদ্ধ রেখেছে। পৃথিবীর গতির এই হঠাৎ পরিবর্তনে ম্যাগনেটিক ফিল্ডও মুহুর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে।
ম্যাগনেটিক ফিল্ড বায়ুমন্ডলের ওজন স্তরকে ধরে রেখেছে ফলে এই ম্যাগনেটিক ফিল্ড না থাকলে ওজোন স্তর ও নিঃশেষ হয়ে যাবে।
আমাদের পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র বিলীন হয়ে যাবে এবং মহাশূন্য থেকে তেজস্ক্রিয় রশ্মি প্রবেশ করবে পৃথিবীতে।
সব থেকে মজার বিষয় এই ঘটনার ফলে পৃথিবী আর কমলালেবুর মতো চ্যাপ্টা থাকবে না, বরং টেনিস বলের মতো গোলাকার হয়ে যাবে।