ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ভরপুর ইউরোপের প্রাচীন একটি দেশ পর্তুগাল। সুন্দর সৈকত, প্রাচীন স্থাপত্য, সুস্বাদু রন্ধনপ্রণালীর মত আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যগুলো সারা বিশ্বের পর্যটকদের পর্তুগালে টেনে নিয়ে আসে।
বসবাসের জন্য পশ্চিম ইউরোপের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এখানে খরচ কম। শিল্প ও নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ এ দেশটিতে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
পর্তুগালে বেড়াতে আসা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলো এর রাজধানী শহর লিসবন। বড় বড় সাতটি পাহাড় নিয়ে গঠিত মনোরম এ শহরটি পুরাতনের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনের প্রতীক।
অনেকের কাছে এটি সেভেন হিল সিটি নামেও পরিচিত। লিসবনের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়টি গ্রাসায় অবস্থিত, যেখান থেকে পুরো শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
এই শহরে হাঁটা ও ব্যায়াম অনুশীলনের জন্য অসংখ্য পার্ক রয়েছে। লিসবনের আলফামা ঝরনা দর্শনার্থীদের জন্য বেশ আনন্দদায়ক। সানসেট পয়েন্টটিও দারুণ জনপ্রিয়।
জেরোমাস মনস্ট্রার নামক ভাস্কো দ্য গামার সমাধীস্থল রয়েছে এখানে, যেটিকে এখন বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন মঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া লিসবন ওশেনারিয়াম, বেলেম টাওয়ার, ডিসকভারি মনুমেন্টও এখানকার জনপ্রিয় পর্যটন স্থান।
পর্তুগালের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর হচ্ছে পোর্তো। বিশ্ববিখ্যাত পোর্ট ওয়াইন ছাড়াও সেখানে প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যের অনেক নিদর্শন রয়েছে৷
এখানকার ‘ফুন্ডাসাঁউ দে সেরালভিশ’ নামের মিউজিয়াম পর্তুগালের সমসাময়িক শিল্পের সেরা সংগ্রহ হিসেবে পরিচিত৷
এই শহরে অনেক রঙিন ভবন রয়েছে, যা পর্যটকদের বিমোহিত করে। ওবিডোস ক্যাসেল নামের একটি দুর্গ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
রয়েছে শতবর্ষী এবং ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর লেলো বইয়ের দোকান, সাও বেন্টো রেলস্টেশন এবং লিটারেরি ম্যান হোটেল নামে একটি বৃহৎ লাইব্রেরি।
পোর্তোর খুব কাছেই রয়েছে 'পর্তুগালের ভেনিস' নামে পরিচিত আভেইরো শহরটি। শহরের মাঝে দিয়ে বয়ে চলা খালগুলোতে নানা উজ্জ্বল রঙের নৌকা চলে।
এগুলোই এখানকার যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নৌ ভ্রমণের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার কারণেই শহরটিতে সারাবছর পর্যটকদের ভীড় থাকে।
উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত শহরটি পর্তুগালের অন্যতম রোমান্টিক জায়গা হিসেবেও বিবেচিত। আভেইরোর সমুদ্র সৈকতটি মধুচন্দ্রিমার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এখানকার ঐতিহ্য ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতি সবসময়ই মানুষকে আকর্ষণ করে।
পর্তুগিজের এরিকোইরা নামক শহরটি সামুদ্রিক খাবারের জন্য বিখ্যাত। এখানে মাছ ধরার ঐতিহ্য রয়েছে। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন নিখুঁত তেমনি রয়েছে মানুষের তৈরি নানা দর্শনীয় শিল্পকলা।
টাইলস করা ছাদ, পাথরের রাস্তা, ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার নৌকা এখানকার উল্লেখযোগ্য শিল্প। পর্যটকরা এখানে তাজা সামুদ্রিক খাবার, বিশেষ করে লবস্টারের লোভে আসে।
পর্তুগালের মাদেরিয়া দ্বীপটি বোটানিক্যাল গার্ডেন, ওয়াইন, এবং নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর জন্য জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে কালো বালির বিচ ও পোর্ট সান্তো বন্দর।
এছাড়া মাদেরিয়ার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মিউজিয়াম ফুটবলপ্রেমী পর্যটকদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় জায়গা।
এখানকার অন্য একটি মিউজিয়াম হচ্ছে মাদেরিয়া ওয়াইন। এসব মিউজিয়ামে মানুষ সকাল থেকে সন্ধ্যায় প্রচুর পর্যটক আসেন।
পর্তুগালের আরো একটি উল্লেখযোগ্য টুরিস্ট আকর্ষণ হচ্ছে ছবির মতো সাজানো গ্রাম সিন্ত্রা। এই গ্রামটির আবহাওয়া, পর্তুগালের অন্যান্য জায়গার তুলনায় একটু ঠাণ্ডা।
তাই প্রাচীন সময়ে মুরিশ থেকে শুরু করে, পর্তুগালের রাজপরিবার এবং অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি জায়গাটিতে প্রাসাদ থেকে শুরু করে বিশাল বাড়ী তৈরি করেছিলেন।
গ্রামটি সবুজের চাদর দিয়ে মোড়ানো এবং বেশ শান্ত। এখানকার মধ্যযুগীয় ন্যাশনাল প্যালেস ঘিরে পর্যটকদের ভিড় গ্রামবাসীর জীবন যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেকটাই সরব হয়ে উঠেছে সিন্ত্রা।
পর্তুগালের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত কইম্ব্রা শহর নিয়েও পর্যটকদের আগ্রহের কমতি নেই। এই শহরে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক স্থাপনা।
এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ইউনিভার্সিটি অব কইম্ব্রা। এটি দেশটির অনেক পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া গোটা পর্তুগালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসম্ভব সুন্দর কিছু সেতু, যেগুলো দেশটিকে ইউরোপের মধ্যে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।