বর্তমান দুনিয়ায় সাড়া জাগানো কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যান্ড গুলোর মধ্যে এটি একটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে একের পর এক নতুন এ্যালবাম প্রকাশ করে রেকর্ডবুক উলট-পালট করে দিয়েছে বিটিএস। গ্র্যামি থেকে বিলবোর্ড অ্যাওয়ার্ডস, জাতিসংঘ সদর দপ্তর সবখানেই পৌছে গেছে কোরিয়ান এই ব্যান্ড।
এবারের কাতার বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন বিটিএসের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য জাংকুক। বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ড্রিমারস’ গেয়ে তুমুল আলোচিত হয়েছেন তিনি।
তাঁর গানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিলবোর্ড চার্টে ১ নম্বরে উঠে এসেছে। এর আগে ফিফার অফিশিয়াল কোনো গান বিলবোর্ডের চূড়ায় আসেনি, এটিই প্রথম।
জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকলেও তাদের যাত্রাটা অতটা সুখকর ছিল না। নানা চড়াই-উতরাই পার করে আসতে হয়েছে তাদের।
২০১৩ সালে প্রায় দেউলিয়া হয়ে যাওয়া একটি কোম্পানির অধীনে আত্নপ্রকাশ করে বিটিএস। একদিকে তহবিলে অর্থের পরিমান কম, অন্যদিকে মিডিয়ার নেতিবাচক সংবাদ, অভ্যন্তরীণ কলহের কারণে দলটি একাধিকবার ভেঙে দিতে বাধ্য হয়েছিল তারা।
তাদের চেহারা ও নাচ নিয়েও যথেষ্ট সমালোচনায় পড়তে হয়েছে। মেয়েদল, হিজড়া ইত্যাদি নানা কিছু বলে উপহাস করা হতো। অথচ সেই দল আজ সঙ্গীত দুনিয়া শাসন করছে।
সাতজন তরুণ মিলে কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের যাত্রা মোটেও সহজ ছিলো না। শুরুর দিকে তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে লিফলেট বিতরন করে মানুষকে নিজেদের কনসার্টে আমন্ত্রণ করতেন।
একরুমে সাতজন গাদাগাদি করে বসবাস করেছেন। তবুও হাল ছাড়েনি। নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করেই ছেড়েছেন।
জিন, সুগা, জে-হোপ, আরএম, জিমিন, ভি এবং জাংকুক এই সাত তরুণকে নিয়ে বিটিএস ব্যান্ড। বিটিএসের জনপ্রিয়তার মূল কারণ হচ্ছে তাদের স্বতন্ত্রতা।
৭ সদস্য নিয়ে গঠিত এই দলটি নিজেদের লেখা গানে নিজেরাই নেচে, গেয়ে সারা বিশ্বের দর্শক হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।
তারা মূলত হিপ হপ সঙ্গীতের গ্রুপ হলেও তাদের গানগুলোতে বিভিন্ন সঙ্গীতের ধরন প্রকাশ পায়। তারা তাদের গানের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা এবং মানসিক সমস্যা তুলে এনেছে।
মানসিক স্বাস্থ্য, সমস্যা, বয়োসন্ধিকাল এবং নিজেকে ভালবাসার দিক নিয়ে বিটিএস ব্যান্ডের গানগুলো তরুণ প্রজন্মের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছে। এর মাধ্যমে সহজেই ভক্তদের বিশ্বাস অর্জন করে নিয়েছে তারা।
তরুণ প্রজন্মের পছন্দের শীর্ষে থাকা এই এই ব্যান্ড বাংতান বয়েজ নামেও পরিচিত। ২০১০ সালে ৭ জন তরুন বালককে নিয়ে এই ব্র্যান্ডটি সংগঠিত হয়। ২০১৩ সালে বিটিএসের প্রথম অ্যালবাম 'টু কুল ফোর স্কুল' প্রকাশিত হয়।
এরপর থেকেই তাদের তারকাখ্যাতি বাড়তে থাকে। পুরো বিশ্বের সামনে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করতে থাকে বিটিএসরা।।
২০১৭ সালে বিশ্বের সঙ্গীত জগতে নিজেদের স্থান করে নেয় তারা। বিটিএসের 'লাভ ইয়োরসেল্ফ: হার' অ্যালবামটি আলোড়ন তুলে পুরো বিশ্বে।
বিটিএসই প্রথম এবং একমাত্র এশীয় মিউজিক ব্যান্ড, যাদের অ্যালবাম বিশ্বের বড় পাঁচটি মিউজিক মার্কেটে শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে।
এখন বিশ্বজুড়েই তাদের বিশাল ফ্যানবেইজ তৈরি হয়েছে। বিটিএস ভক্তরা নিজেদের আর্মি বলে পরিচয় দিয়ে থাকে । যার অর্থ হল 'যুবদের জন্য আরাধ্য প্রতিনিধি।'
১৩ জুন ছিলো ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে ১০ জুন মুক্তি পেয়েছে বিটিএসের নতুন অ্যালবাম 'প্রুফ'।
যারা পপ ধাঁচের সঙ্গীত পছন্দ করেন তাদের কাছে বিটিএস আলাদা এক আবেগের জায়গা।
সাত সদস্যের এই পপ গ্রুপটি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করেছে খুব অল্প সময়ে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিটিএস–উন্মাদনা ক্রমেই বেড়ে চলছে।