সদ্য বিবাবিত অথবা ইতিমধ্যে একসাথে কাটিয়েছেন অনেক গুলো বছর এমন অনেক দম্পতিই পরিকল্পনা করেন একবারের জন্য হলেও ঘুরতে যাবেন থ্যাইল্যান্ডের পাতায়ায়। কিন্তু সেখানকার পরিবেশ কতখানি উপযোগী সেই ভাবনা কাটিয়ে উঠতে পারেন না কেউ
পাতায়া থ্যাইল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট এরিয়া। তবে সঙ্গিনী সহ যাওয়ার ব্যাপারে অনেকেই সংকোচবোধ করে। আর সেটা করার পেছনে কিছু কারনও রয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভ্রমন পিপাসু মানুষ সারা বছর পাতায়ায় ঘুরতে আসেন।সেখানে পশ্চিমা দেশ গুলো থেকে আগত দর্শনার্থীদের খোলামেলা পোশাকের কারনে অনেকেই বিব্রত হয়ে যান।
তবে বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণে যাওয়া অনেকেই সেটা এখন সহজ ভাবে নিতে শুরু করেছে। যার ফলে স্বাধীন ভাবে ভ্রমনের জন্য পাতায়া এখন অনেকটাই উপযোগী হয়ে উঠেছে।
কিছু নির্দিষ্ট এরিয়া আছে শুধুমাত্র ঐই স্থানগুলো এড়িয়ে যে কোন কাপলের জন্যেই পাতায়া হতে পারে ভ্রমনের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন স্থান।এর মধ্যে উল্লেখিত‘’পাতায়া ওয়াকিং স্ট্রীট’’সহ বেশ কিছু রেড লাইট জোন আছে যা আগে থেকেই জেনে নিতে পারেন।
বিবাহিতদের জন্য পাতায়াতে বিশেষ কিছু জায়গা আছে। যেখানে অন্তত একবার হলেও ভ্রমন করা উচিৎ। এর মধ্যে প্রথমেই বলা যায় ‘’সেনচুয়ারি অফ ট্রুথ মিউজিয়াম’’।
৪৩ বছর আগে নির্মিত কাঠের তৈরি এই স্থ্যাপত্য শিল্পটি থ্যাইল্যান্ডের অন্যতম প্রাচীন ধর্ম-দর্শন বহন করছে। এই যায়গা হতে পারে দম্পতিদের জন্য বেশ মুগ্ধকর। এখানে দর্শনার্থী হিসেবে আপনি বক্সিং দেখাসহ হাতি-ঘোড়ার পিঠে উঠে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
ফ্লোটিং মার্কেট পাতায়ায় আগত দম্পতিদের কাছে বিশেষ ভাবে প্রিয় স্থান। পানির উপর ভাসমান এই বাজারে সকাল হতেই মানুষের ভিড়ে ভরে ওঠে। প্রথমবার সঙ্গীসহ পাতায়ায় গেলে এই ফ্লোটিং মার্কেট হতে পারে কেনা কাটার জন্য অন্যতম জায়গা।
কি পাওয়া যায় না এই মার্কেটে!নানা দেশের খাবার-দাবার,পোশাক,রঙ-বেরঙয়ের বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রীসহ অসংখ্যা জিনিসে ভর্তি এই ফ্লোটিং মার্কেট। তবে ছোট নৌকায় করে পুরো মার্কেট ভ্রমন সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেন সবাই।
দম্পতিদের জন্যে আরেক অসম্বম্ভব রোমাঞ্চিত যায়গা পাতায়ার আন্ডারওয়াটার ওয়ার্ল্ড। এটি পানির নিচে অবস্থিত থ্যাইল্যান্ডের প্রথম একুরিয়াম। অত্যাধুনিক এই একুরিয়ামে কার্প জাতীয় অনেক ধরনের মাছ দেখার সুযোগ রয়েছে।
সেই সাথে খুব কাছ থেকে দেখা মিলবে বিশাল শার্ক ও হাঙ্গরের। যা দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, আপনিও ওদের সাথে ভেসে বেড়াচ্ছেন। এই একুরিয়াম সব বয়সি মানুষের বেশ পছন্দের।
মিনি সিয়াম বীচ পাতায়ার বিস্ময়কর জায়গা গুলোর মধ্যে একটি।যেখানে অবাক করার মত অনেক কিছু আপনি দেখতে পারবেন।
সবচেয়ে বেশি যে জিনিসগুলো নজর কাড়বে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্যাংককের ভিক্টরি মনুমেন্ট, ওয়াট অরুন,স্ট্যাচু অফ লিবার্টি, লন্ডনের টাওয়ার ব্রীজ,সিডনীর অপেরা হাউজ,প্যারিসের ল্যা-আর্ক দে ট্রিওম্পে অন্যতম।
অধিকাংশের কাছেই মিনি সিয়াম জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারন হিসেবে এই অসাধারন স্থ্যাপনাগুলোকে উল্লেখযোগ্য ভাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
বিবাহিতদের জন্য আরেকটি বিশেষ দর্শনীয় স্থান হতে পারে কোরাল আইল্যান্ড। মুলত কয়েকটি বীচ একসাথে হওয়ায় এই জায়গার সৌন্দর্য্যে বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
কোরাল আইল্যান্ডে ভ্রমনে আসতে অধিকাংশই দুটি উপায় ব্যবহার করে। এর একটি ফেরি যেটা পাতায়া ওয়াকিং স্ট্রীট থেকে ছেড়ে আসে।আবার কেউ চাইলে পাতায়া বীচ থেকে স্পিড বোটও ব্যবহার করতে পারেন।
ফি ফি আইল্যান্ড থ্যাইল্যান্ডের আকর্ষনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে শীর্ষের একটি। স্বচ্ছ পানির নিচে কোরালএ ভরা এই আইল্যান্ড ভীষণ মুগ্ধকর।
ফি ফি আইল্যান্ড এমন এক জায়গা যেখানে না গেলে আপনি পাহাড়ে ঘেরা নীল জলরাশির অপরুপ সৌন্দর্য্য থেকে ভয়ঙ্কর ভাবে বঞ্ছিত হবেন। এই আইল্যান্ডে বীচ সম্মুখ বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে।যে কারনে রাত্রি যাপনের জন্যও ফি ফি বেশ উপযোগী।
এছাড়াও নং নুচ ভিলেজ, জমসিয়ান বীচ, রিপলি'স বিলিভ ইট অর নট অডিটোরিয়াম মিউজিয়াম,খ্যাও খিয়াও ওপেন যু,জনপ্রিয় টিফানি’স ক্যাবারে শো অন্যতম। তাই নির্দ্বিধায় যে কোন দম্পতি ঘুরে আসতে পারেন পাতায়াসহ থ্যাইল্যান্ডের সুন্দর সব যায়গাগুলোতে।