২০২৩ সাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক সম্ভাবনাময় বছর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবছর যে প্রযুক্তি গুলোর ব্যবহার অতিমাত্রায় দেখা যাবে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মেটাভার্স।
সহজ ভাবে বলতে গেলে, এটি হচ্ছে ত্রিমাত্রিক এক ভার্চ্যুয়াল দুনিয়া। যেখানে সরাসরি উপস্থিত না থেকেও, একে অপরের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজ করা যায়, এমনকি খেলাধুলাও করা যায়।
ইউরোপে মেটাভার্স প্রযুক্তি তৈরি করার জন্য, প্রতিনিয়তই কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল, রোব্লক্স এবং ফোর্টনাইট নির্মাতা কোম্পানি গুলোও মেটাভার্স তৈরিতে কাজ করছে।
এর সাথে সম্পৃক্ত ভি.আর হেডসেট, অগমেন্টেড রিয়েলিটি চশমা, স্মার্টফোন অ্যাপ সহ অন্যান্য ডিভাইস গুলোকে আপডেট করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ধারা গোটা বছর জুড়েই দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। গ্রাহক পর্যায়ে মেটাভার্সের বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য ও সেবার উদ্ভাবন দেখা যাবে, তৈরি হবে নিত্য নতুন সম্ভাবনা।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা A.I - এর ব্যাবহার হবে সর্বোচ্চ।
তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অ্যাপ্লিকেশনকে মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির আদলে তৈরি করে নেওয়াই মূলত এ প্রযুক্তির কাজ।
নির্ভুল তথ্যের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ভিডিও গেমস, নকশা, স্মার্ট গাড়ি, ডেটা সেন্টার ব্যবস্থাপনাসহ, বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, এরই মধ্যে A.I -কে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বাজারে আসতে শুরু করেছে।
যত দিন যাবে, ততই এ প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত ও সহজলভ্য হয়ে উঠবে যা একদিন মানুষের মস্তিষ্কের আদলে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারবে।
এ বছর কৃত্রিম প্রযুক্তিনির্ভর কেনাকাটার ধারা জোরালো হতে পারে। সফটওয়্যারের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজে রোবটের ব্যবহার অধিক দেখা যাবে।
বর্তমানে সময়ের প্রযুক্তি দুনিয়ায়, আরো একটি হট টপিক হচ্ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং।
পুরো বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো, টেকসই কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু করেছে, এবং বাণিজ্যিকভাবে তা বাজারে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কারণ, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে, সুপার কম্পিউটারের থেকেও দ্রুতগতিতে তথ্য যাচাই ও গণনা করা সম্ভব, যা প্রচলিত ক্ল্যাসিক্যাল কম্পিউটারের পক্ষে সম্ভব নয়।
এধরনের উন্নত কম্পিউটার যেসব দেশের কাছে থাকবে, তারা অন্য দেশের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপ করতে সক্ষম হবে।
এ বছর প্রযুক্তিটির বেশ কিছু উন্নয়ন দেখা যাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেনসহ, বিভিন্ন দেশের সরকার এধরনের সুপার-ফাস্ট কম্পিউটার তৈরির পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে চলেছে।
ভবিষ্যৎ ইন্টারনেটের গতিপথ হলো WEB 3.0 । নিজের নিয়ন্ত্রাধীন ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়াই মূলত এ প্রযুক্তির কাজ।
বর্তমানে আমরা যে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি তা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ফেসবুক, অ্যামাজন এবং গুগলের মতো টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে।
তবে ওয়েব 3 ইন্টারনেট ভার্সন চালু হলে, সেখানে বহিরাগত কোনো নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকবে না। সবাই সমানভাবে এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
গত বছর ওয়েব-3 প্রযুক্তি নিয়ে তুমুল আলোচনা হলেও, এ বছর উন্নয়নের চরম রূপ দেখা যাবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
পরবর্তী প্রজন্মের এই ইন্টারনেট-ব্যবস্থা মূলত ব্লক চেইন এবং নন-ফাঞ্জিবল টোকেনের মাধ্যমে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।
চলতি বছরে বাস্তব ও ভার্চ্যুয়াল-জগতের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী প্রযুক্তির উন্নতি হবে বলেও ধারণা করা যাচ্ছে। এটি মূলত ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি এবং থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সমন্বয়ে কাজ করে।
এর সাহায্যে বাস্তব জগতে থেকেও ভার্চ্যুয়াল বিভিন্ন কাজের পরিবেশ তৈরি করা যায়। শুধু তা-ই নয়, সিমুলেশনের সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভার্চ্যুয়ালি বিভিন্ন পণ্য বা সেবার পরীক্ষাও চালানো সম্ভব।
এই ধরনের প্রযুক্তির সুপরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে দুই জগতের মধ্যে সেতুবন্ধ করা পণ্য ও সেবাগুলো পরখ করার সুযোগ মিলবে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের সরকার এধরনের সুপার-ফাস্ট প্রযুক্তি তৈরির পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে।