অন্যান্য


দুর্নীতিবাজদের সেকেন্ড হোম কানাডার বেগম পাড়া, অবৈধ অর্থে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

দুর্নীতিবাজদের সেকেন্ড হোম কানাডার বেগম পাড়া, অবৈধ অর্থে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়

বর্তমান সময়ের একটি ব্যাপক আলোচিত বিষয় হলো কানাডার বেগম পাড়া। যা মূলত দেশের টাকা পাচার করে, সেখানে বসবাসকারী  বাংলাদেশীদের বানানো বিলাসবহুল আবাসস্থল।  

ধারণা করা হয়, দেশটিতে বাড়ির মূল্য আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে, এই পাড়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

বিনিয়োগকারী কোটা চালু করলে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ বিনিয়োগ করে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত, প্রচুর বাংলাদেশী কানাডায় পাড়ি জমায়। 

২০০৭ ও ২০০৮ সালে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হলে দেশ ছাড়ে তারা। এরপর থেকে নিজ দেশের অর্থ সম্পদ লুট করে,  কানাডার অভিজাত এলাকায় বাড়ি গাড়ি কিনে বসবাস করছেন। 

টরন্টোর হাইরাইজ কন্ডোমিনিয়াম, সিএন টাওয়ারের আশেপাশে,
 রিচমন্ড হিলের আপস্কেল হোম, মিসিসাগা এবং 
মার্কহামের মতো অভিজাত এলাকায় এদের বসবাস। 

বাস্তবে কানাডায় বেগম পাড়া নামে, কোনো নির্দিষ্ট এলাকার অস্তিত্ব নেই। দেশী টাকা পাচারকারীদের প্রতীকি নাম হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

দেশীয় বিত্তশালীদের তৈরি করা পাড়াগুলো প্রথম আলোচনায় আসে, ভারতীয় সিনেমা বেগম পুরার মাধ্যমে। যেখানে পরিচালক বেগম পুরার বেগমদের স্বামী ছাড়া সংগ্রামী জীবন যাপন তুলে ধরেন।  

এছাড়াও "টরন্টো স্টারে" ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল
 'কলোনি অব ওয়াইভস থ্রাইভস ইন মিসিসাগা।' 
তারপর থেকেই বেগম পাড়া সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে।  

তবে একজন সংসদ সদস্যের স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল বাড়ির সূত্র খুঁজতে গিয়ে, বাংলাদেশ প্রথম বেগম পাড়ার সাথে পরিচিত হয়।

বহুল আলোচিত এসব পাড়ায় বসবাসকারী, বাংলাদেশী অভিবাসীদের বেশিরভাগই মূলত, ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, দুর্নীতিগ্রস্থ সরকারি চাকুরিজীবী ও রাজনীতিবিদরা। 

২০১৪ সালে, কানাডার সরকার ইনভেস্টমেন্ট ক্যাটাগরি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এর অন্যতম কারণ ছিল এই ক্যাটাগরিতে আসা অভিবাসীদের কর পরিশোধের রেকর্ড। 

দেখা গেছে, কানাডায় বসবাসকারী সাধারণ জনগণদের তুলনায়, অভিবাসীদের কর প্রদানের পরিমাণ অনেক কম। 

বিনিয়োগ কোটায় দেশটিতে যাওয়া বিপুল সংখ্যক অভিবাসী, কোনো কাজ না করেই, কোটি কোটি টাকা মূল্যের ঘর বাড়ি কিনে বসবাস করছে। ফলে দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বাড়িগুলোর দাম। 

সাধারণত কানাডায় বাড়ি কেনা তুলনামূলকভাবে সহজ৷  পাঁচ শতাংশ ডিপেজিট দিয়েও বাড়ি কেনা সম্ভব, যদি ভালো ক্রেডিট রেকর্ড এবং বাড়ির 
বন্ধকী ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকে।  

কিন্তু বাড়িগুলোর মূল্য বেড়ে যাওয়ায়, ভুক্তভোগী হচ্ছে দেশটির খেটে খাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা। 
ইতোমধ্যে, কানাডার বিভিন্ন শহরে অন্তত ১০টি বেগম পাড়া গড়ে উঠেছে।

শুধু কানাডাতেই নয়, বর্তমানে  দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর সহ বেশ কিছু দেশেই কালো টাকা পাচারকারী দল বেগম পাড়া গড়ে তুলেছেন।  

বিগত কয়েক বছর ধরেই, এসব টাকা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন বাংলাদেশী প্রবাসীগণ। 
অর্থ লুটেরাদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন সামাজিক আন্দোলন।  

একই সাথে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার  হচ্ছে রাষ্ট্রও।  দেশী টাকা পাচারকারীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। 

কিন্তু দুদকের পক্ষে মানি লন্ডারদের নামের লিস্ট বের করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। যেহেতু নিজ দেশে অর্থ যাচ্ছে, তাই কানাডা সরকার কালো টাকার মালিকদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

শুধুমাত্র মামলা দায়ের করেই সেই তথ্য পাওয়া সম্ভব। 

অন্যদিকে,  পাচারকারীদের তথ্য ছাড়া মামলা দায়ের সম্ভব নয় বলে, দুদকের কাজের তেমন অগ্রগতি হচ্ছে না।



জনপ্রিয়


অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন

আইডিআরএ ইন্স্যুরেন্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের বীমা খাতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘IDRA Insurance Excellence Award 2025’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দারাজে শুরু হলো ২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও ঝামেলাহীন কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বাংলাদেশে শুরু হলো দারাজের বিশেষ ক্যাম্পেইন ‘২.২ গ্র্যান্ড রমজান বাজার’। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী আয়োজন, যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প

ঐতিহ্যবাহী ফুড এন্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০২৪ এর বিশেষ আয়োজন রাঙ্গামাটিতে

০১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৪ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি।

ইন্ট্রা ডিএস ফুটসালে টানা তৃতীয়বারে মতো চ্যাম্পিয়ন “ডিএস'২০ ব্যাচ”

এ নিয়ে তিনবারের আসরে টানা তিনবারেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করলো তাহসিন সাদাতের দল।