মিস ওয়ার্ল্ড এর জন্য পৃথিবীর নানা দেশ বিখ্যাত হলেও আসল বিশ্বসুন্দরিদের বসবাস পাকিস্তানে। দেশটির হুনজা উপজাতির মেয়েরা সৌন্দর্যের জন্য সারা বিশ্বে বিখ্যাত।
৭০ বছর বয়সেও হুনজা নারীদের রূপ লাবণ্য হয়ে থাকে অষ্টাদশী যুবতীদের মতো। বলা হয়, সত্যিকারের বিশ্ব সুন্দরি হচ্ছে পাকিস্তানের এই উপজাতি মেয়েরা।
বিস্ময়কর এই উপজাতির বসবাস পাকিস্তানের হুনজা উপত্যকায়। কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত এই উপত্যকা নানা কারণেই বিখ্যাত।
তবে সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত এখানকার অধিবাসী হুনজা সম্প্রদায়। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ থেকে আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে তাদের। এর মাঝে নারীদের সৌন্দর্য অন্যতম।
বিভিন্ন দেশের নারীরা যেখানে রূপচর্চার জন্য নানা প্রসাধনী ব্যবহার করেন, খরচ করেন হাজার হাজার টাকা, সেখানে এই সম্প্রদায়ের মেয়েরা প্রাকৃতিক সাজেই হয়ে থাকেন নজরকাড়া সুন্দর।
সাধারন পোশাক আশাকেই তাদের রূপ লাবন্য হয়ে থাকে অনিন্দ। এ কারণে সত্যিকারের বিশ্ব সুন্দরি বলে বিখ্যাত এই উপজাতির মেয়েরা।
কিন্তু পাকিস্তানের এই সম্প্রদায়ের মেয়েরা কিভাবে এতোটা সুন্দরি হয়? তাদের এমন ন্যাচারাল সৌন্দর্যের পেছনে রহস্যটা কী? এমন সব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের এই প্রতিবেদন।
হুনজা সম্প্রদায়ের সৌন্দর্য ও সুস্থতার অন্যতম কারণ হিসাবে বলা হয় তাদের তাদের ভৌগলিক অবস্থানের কথা।
তারা এমন একটি উপত্যকায় বসবাস করে, যেটির চারপাশে রয়েছে তিনটি সুউচ্চ পর্বতমালা। এমনকি হুনজা উপত্যকাও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ফুট উচুতে অবস্থিত।
এত বেশি উচ্চতায় বসবাসের একটা স্বাস্থগত সুবিধা পায় এই সম্প্রদায়ের লোকজন। পাহাড়ি উপত্যকা সাধারণত অনিন্দ সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সতেজ বিশুদ্ধ বাতাসে পরিপুর্ন থাকে।
এরকম পরিবেশ তাদের সুস্থ এবং সতেজ থাকতে সাহায্য করে।
হুনজা সম্প্রদায়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের ডায়েট। গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, এখানকার প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই ভেজিটেরিয়ান।
তাদের খাবারের তালিকায় মাংসের পরিমান থাকে খুবই কম। এর পরিবর্তে বিভিন্ন ধরণের সবুজ শাক সবজি ও ফুলমূল হয়ে থাকে তাদের নিয়মিত খাদ্য। এরকম স্বাস্থকর খাবারের একটা প্রভাব দেখা যায় তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যে।
অন্যদিকে এই সম্প্রদায়ের মানুষ নিয়মিত রোজা রাখার মতো এক ধরণের উপবাস পালন করে। এ সময় তারা খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে শুধুমাত্র ফলের জুস। যা তাদের শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
অনেকের মতে হুনজা উপত্যকার আরেক নাম সুখের উপত্যকা, আসলে তাদের লাইফস্টাইল টাই এমন।
প্রকৃত যেন নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে এই উপত্যাকার মানুষের সেবায়। এখানে খাওয়ার পানির উৎস হচ্ছে হিমবাহ থেকে গলিত পানি।
গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাদের ব্যবহার্য এই পানির মধ্যে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট সহ নানা ধরণের মিনারেল। যা প্রতক্ষ ভুমিকা রাখে তাদের স্বাস্থ ও সৌন্দর্যে।
এই সম্প্রদায়ের নারীদের রূপচর্চার জন্য কিছু নিজস্ব উপাদান রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো এক ধরণের প্রাকৃতিক তেল। নিজেদের ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য এই তেল ব্যবহার করে হুনজা নারীরা।
অন্যদিকে পাকিস্তানের এই অঞ্চলে রয়েছে জাফরান। বিশ্বের সবচেয়ে দামি এই মশলা হুনজা সম্প্রদায়ের রান্নায় ব্যবহৃত হয়। জাফরানের বিভিন্ন স্বাস্থগত গুনাগুন রয়েছে। যা ত্বকের সুস্থতার জন্য খুবই উপকারি।
এছাড়া এই সম্প্রদায়ের মানুষ বিশেষ এক ধরণের লবণাক্ত চা পান করে থাকে। যাতে পাহাড়ি ঝর্ণার পানির সাথে মেশানো হয় 'তুমুরু' নামের বিশেষ এক উপাধান।
গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাদের পান করা চায়ের মধ্যেও রয়েছে বিভিন্ন উপকারি বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখায় ভুমিকা রাখে বিশেষ এই মিশ্রণ।
এসব কারণেই ৭০ বছর বয়সেও হুনজা নারীদের মনেহয় যুবতীদের মতো আকর্ষনীয়।
শুধু সৌন্দর্যেই নয়, সুস্বাস্থের দিক দিয়েও এই সম্প্রদায় পুরো পৃথিবী থেকে এগিয়ে। এখানকার নারীরা ৬০/৭০ বছর বয়সেও সন্তান জন্ম দিতে পারে। অসুস্থ হওয়ার হার খুব কম। আবার তাদের গড় আয়ুও হয়ে থাকে একশো বছরের বেশি।