কেমন হবে যদি আপনার পকেটে থাকা এক হাজার টাকার নোটটি পরিবর্তন করে, কেউ ৪-৫ লাখের একটা বান্ডিল ধরিয়ে দেয়?
শুনতে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে হয়তো। কিন্তু এমন ঘটনা সত্য। পৃথীবিতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে মুদ্রার মান বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।
সেসব দেশে ভ্রমনে গেলে, বাংলাদেশীরা তাদের হাজার টাকার নোট ভাঙ্গিয়ে, স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন।
এমন দেশের তালিকায় একদম শুরুতেই আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের নাম। তেল গ্যাস সহ নানারকম প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দেশটি। এমনকি পর্যটন শিল্পেও রয়েছে অপার সম্ভবনা।
কিন্তু দেশটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা পারমানবিক অস্ত্রের ভান্ডার তৈরি করতে চায়। ফলে তাদের উপর দীর্ঘদিন ধরেই নানারকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে পশ্চিমা বিশ্ব।
এতে শিয়া অধ্যুষিত ইরান ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বহুদিন ধরেই। প্রতিবেশী দেশ গুলো সুন্নি মতাদর্শের হওয়ায়, তারাও সাহায্য করছেনা ইরানকে।
তাদের ইউএস ডলারের রিজার্ভ গিয়ে ঠেকেছে তলানিতে। বর্তমানে বাংলাদেশী ১ টাকার বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪০৪ ইরানিয়ান রিয়াল।
অর্থাৎ কেউ বাংলাদেশ থেকে আড়াই হাজার টাকা নিয়ে গেলে, সে ইরানের একজন মিলিয়নিয়ার। অবশ্য দেশটিতে জিনিস পত্রের দামও অনেক বেশি।
ইরানের পর বাংলাদেশি মুদ্রার সবচেয়ে বেশি বিনিময় হার পাওয়া যায় ভিয়েতনামে। এশিয়ার এই দেশটি সংষ্কৃতি এবং কৃষিখাতে অবদানের জন্যে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত।
ধান উৎপাদনের তালিকায় শীর্ষ সারির দেশ এটি। এমনকি বাংলাদেশও ভিয়েতনাম থেকে চাল সহ নানারকম কৃষী পন্য আমদানি করে।
কিন্তু অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং কৃষিখাতে বৈচিত্রায়নের অভাবে, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের মুদ্রার মান অনেক কমে গিয়েছে।
বাংলাদেশী এক টাকার বিনিময়ে স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২২৬ ডং পাওয়া যায়। অর্থাৎ কয়েক হাজার টাকা খরচ করে এখানেও আপনি মিলিয়নিয়ার বনে যেতে পারবেন।
এরপরেই আছে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের দেশ হিসেবে খ্যাত ইন্দোনেশিয়া। মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশটি এশিয়া মহাদেশের পুর্ব দিকে অবস্থিত।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারনে ইন্দোনেশিয়ার বালি সহ, বেশ কয়েকটি দ্বীপ ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী ভ্রমন পিপাসুদের অন্যতম গন্তব্যস্থল হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশী এক টাকার বিনিময়ে, ইন্দোনেশিয়াতে স্থানীয় মুদ্রায় ১৪৫ রুপিয়া পাওয়া যায়। অর্থাৎ এখানেও একটি হাজার টাকার নোট ভাঙ্গালে লাখপতি হওয়া যাবে।
মুলত দেশটির অর্থনৈতিক কাঠামোর দুর্বলতার কারনেই তাদের মুদ্রার মান এত কম। তবে সেখানকার মানূষের জীবনযাত্রার মান বাংলাদেশের চেয়ে ও উন্নত।
সর্বনিম্ন কারেন্সির লিস্টে এরপরেই আছে আরেক এশিয়ান দেশ কম্বোডিয়ার নাম । কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের ১ টাকা ভাঙ্গালে স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৪০ রিয়েল পাওয়া যায়।
অর্থাৎ এখানে লাখপতি হতে হলে বাংলাদেশের আড়াই হাজার টাকা নিয়ে আসতে হবে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই তালিকায় এরপরেই আছে সাউথ কোরিয়ার নাম।
প্রযুক্তিখাতের শীর্ষে থাকা দেশটিতে ১ টাকা ভাঙ্গালে স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ ঊন পাওয়া যাবে। প্রশ্ন আসতে পারে উন্নত বিশ্বের এই দেশটির মুদ্রা এত সস্তা কেন।
মুলত সাউথ কোরিয়া পুরোপুরি আমদানী নির্ভর একটি দেশ। ফলে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ন্ত্রন অনেক বেশি কষ্টসাধ্য ব্যপার।
তাই এই মুদ্রাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভোলাটাইল কারেন্সি বলা হয়। অর্থাৎ প্রতি মুহুর্তেই পরিবর্তিত হয় তাদের মুদ্রার মান। তবে সেই দেশে জীবন যাত্রার ব্যয় ও অনেক বেশি।
তথ্য বিশ্লেষনে দেখা যায়, মুদ্রার মান কম থাকা এই দেশ গুলোতে ভ্রমনে গেলে, বাংলাদেশীরা অনেক কম খরচেই নিজেদের ভ্রমন ব্যয় সামলাতে পারেন।
আপনার বিদেশ ভ্রমনের পরিকল্পনা থাকলে আপনি এই তালিকার কোন দেশটিতে ভ্রমন করতে চাইবেন? জানাতে পারেন কমেন্ট বক্সে