দেশের রাজধানী কেন পরিবর্তন হয়, বাংলাদেশের কি রাজধানী পরিবর্তন প্রয়োজন
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

ভেবে দেখেছেন কখনো? বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে, যদি সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে? নতুন একটি জায়গাতে, গড়ে তোলা হবে একটি রাজধানী। নতুন ভাবে সেখানে গড়ে উঠবে- অফিস- আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ধীরে ধীরে জনমানবের আনাগোনা বাড়তে থাকবে সেখানে। বিভিন্ন প্রয়োজনে, বিভিন্ন সময়ে, বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের রাজধানী পরিবর্তন করেছে, এমনকি একসময়, আমাদের আজকের দেশের রাজধানী, ঢাকা থেকে পরিবর্তন করে নিয়ে যাওয়া হয় মুর্শিদাবাদে। কিন্তু হঠাত কেন উঠে আসছে, রাজধানী পরিবর্তনের বিষয়? উত্তরটি হলো, দিন দিন বসবাসের এক অযোগ্য শহরে, ঢাকার পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। জনসংখ্যার চাপে, ক্রমেই বেসামাল হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকা। বিশ্বব্যাংক এর তথ্য মতে, প্রায় আড়ায় কোটি জনসংখ্যা, এখন ঢাকাতে। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বাস করা মানুষের, প্রায় ৩৬ ভাগই ঢাকায় বাস করে।কিন্তু কোনো রকম সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই শহরটি গড়ে ওঠায়, এর ফল ভুগতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। এখন রাজধানী ঢাকাকে বাস করার জন্য, অযোগ্য শহরের তালিকাতে, সবার উপরের দিকে পাওয়া যায়। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায়, একটানা শীর্ষে থাকছে ঢাকা আর সাথে আছে, ভয়াবহ যানজট । রাজধানী ঢাকা নগরীর এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, ঢাকা থেকে বাংলাদেশের রাজধানী, অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়েও ভাবতে হবে। যেমনটা ভেবেছে মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তা থেকে রাজধানী সরিয়ে নিচ্ছে, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রাষ্ট্র। তাদের নতুন রাজধানী হতে যাচ্ছে 'নুসানতারা' ,যা নতুন রাজধানী জাকার্তা থেকে, প্রায় ১৩০০ কিমি দূরে। ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান রাজধানী, জাকার্তার অবস্থা ভয়াবহ। চারদিকে গিঞ্জি রাস্তা, মানুষের কোলাহল, যানজট, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় ওঠে যায় পানি। সব মিলিয়ে একেবারে যাচ্ছে তাই অবস্থা এখানকার। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি, বাস করে এখানে। দিনে দিনে বসবাসের জন্য, আরো অনুপযোগী হয়ে ওঠছে শহরটি।অধিক জনবহুল এই জাকার্তা প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত দূষিত হয়ে পড়েছে এবং মাটির নিচের পানির অধিক উত্তোলনের ফলে, আশঙ্কাজনক হারে শহরটি ডেবে যাচ্ছে। জাভা সাগরের এই বৃহত্তম দ্বীপে, মানুষের বসবাস প্রায় এক কোটির বেশি।ব্যাপারগুলো শুনতে, খানিকটা আমাদের দেশের রাজধানীর মতো শোনাতে পারে।আমাদের ঢাকাতে ও যানজট, জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা লেগেই আছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণেও, ঢাকায় বেড়েছে ভূমিকম্প ও বন্যার ঝুঁকি। ঢাকায় রাস্তাঘাট প্রয়োজনের প্রায় অর্ধেক। তারও অধিকাংশই আবার ভাঙাচোরা।এছাড়া পানি, বিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশনের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।এখন বসবাসের অনুপযোগীর দিক দিয়ে, বিশ্বের ১৪০টি শহরের মধ্যে, ঢাকার অবস্থান ১৩৭।এর আগেও বিশ্বের অনেক দেশ, তাদের রাজধানী পরিবর্তনও করেছে অনেক প্রয়োজনে। সরিয়ে নিয়ে গেছে ,সকল প্রাসাশনিক কার্যালয় গুলো নতুন কোনো শহরে। এই দেশ গুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, মিয়ানমার বা নাইজেরিয়ার মতো দেশ। ১৯৩১ সালে, ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে সরিয়ে, নয়াদিল্লিতে নেয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার তখন ভেবেছিল, দিল্লি থেকে ভারত শাসন করা বেশি সহজ হবে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।আবার রিও ডি জানেরিও, এত বেশি জনবহুল হয়ে পড়েছিল যে, ব্রাজিল ১৯৬১ সালে, তাদের রাজধানী শহর সরিয়ে নেয় ব্রাসিলিয়ায়।এটি একটি পরিকল্পিত নগরী। রাজধানী হওয়ার পর এই নগরী দ্রুত বাড়তে থাকে। ব্রাজিলের রাজধানী পরিবর্তনের পরিকল্পনাটি, সফল হয়েছে বলেই ধরা হয়।১৯৯৭ সালে, প্রেসিডেন্ট “নুর সুলতান নাজারবেইভের” সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শহর আলমাতি থেকে, রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হয় আস্তানাতে, যা বর্তমানে ওই প্রেসিডেন্ট এর নাম অনুসারে, নুর সিটি ক্যাপিটাল নামেও পরিচিত। আবার, মিয়ানমার স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ না করলেও, বিদেশি দখলদারির আশঙ্কায়, সামরিক শাসকেরা রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যায়, ইয়াঙ্গুন থেকে নেপিডোতে। এসব কথার মূল ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা নগরীর, এখন যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে, একদিন এখানেও কী ,একই ধরণের সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার হতে পারে? তবে এখন যদি, ঢাকা থেকে বাংলাদেশের রাজধানী অন্য কোথাও সরিয়ে নেয়া হয়, তাহলে সেটি বাংলাদেশের জন্য এখন, খুব বেশি ফল্প্রসু হবে বলে মনে করেন না, দেশের নগর বিশেজ্ঞরা। কেননা পুরো বাংলাদেশেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যাপক হারে, ফলে দেশের অন্য কোথাও রাজধানী স্থাপন করলে, সেটি খুব আহামরি তফাত রাখবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।



