সন্তান জন্ম দিতে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার হাজার রুশ অন্তঃসত্ত্বা নারী। তবে সেখানে সন্তান জন্ম দেয়ার পর আবারও নিজ দেশে ফিরে আসছেন তারা। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত?
সর্বশেষ যে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বা নারী আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমিয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।
তাই মনে করা হচ্ছে, অনাগত সন্তানেরা যেন আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
আর্জেন্টিনার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরপরই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে মস্কোর অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কাছে, সন্তানের নাগরিকত্বের জন্য এখন প্রথম পছন্দের দেশ হচ্ছে আর্জেন্টিনা। কারন এটি তাদেরকে রুশ পাসপোর্টের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা দেবে।
একইসাথে আর্জেন্টিনায় সন্তান জন্ম দিলে, রাশিয়ান বাবা-মায়েদের জন্যও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া গতিশীল হয়।
ভিন্ন দেশে সন্তান জন্ম দিয়ে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জনকে ‘বার্থ টুরিজম’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়।
এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে যাওয়ার জন্য রুশদের ভিসার প্রয়োজন হয় না। এটিও তাদের আর্জেন্টিনায় যাওয়ার আরেকটি কারণ।
বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার পাসপোর্ট খুবই নিরাপদ। এ দেশের পাসপোর্টধারী ১৭১টি দেশে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।
অপরদিকে রাশিয়ার পাসপোর্টধারীরা ৮৭টি দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশ করতে পারেন। এর মধ্যে আর্জেন্টিনাও রয়েছে।
কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে নিষেধাজ্ঞার কারনে, পশ্চিমা দেশগুলোতে আগের মতো সহজে যেতে পারছে না রাশিয়ানরা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে ভিসা সুবিধা চুক্তিও স্থগিত হয়ে যায়।
যার ফলে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ঢুকতে রুশদের অতিরিক্ত কাগজপত্র দেওয়া লাগছে, ভিসা পেতে সময়ও বেশি লাগছে।
রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত আছে এমন ইইউভুক্ত দেশসহ, অনেক দেশ রাশিয়ান নাগরিকদের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়াও বন্ধ রেখেছে।
কিন্তু আর্জেন্টিনায় যেতে এ সকল সমস্যা পোহাতে হয় না রুশদের। এ কারণে তারা ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধাকেই কাজে লাগাচ্ছেন।
এভাবে রুশ নারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায়, ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
এখন পর্যন্ত কতজন রাশিয়ান মহিলা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আর্জেন্টিনায় এসেছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।
তবে ধারণা করা হয়, লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় বিগত কয়েক মাসে পাড়ি জমিয়েছেন, রাশিয়ার পাঁচ হাজারের বেশি অন্তঃসত্ত্বা নারী।
এর মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারী দেশটিতে পৌঁছানো একটি ফ্লাইটে এমন ৩৩ জন রাশিয়ার নারী ছিলেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আর্জেন্টিনায় সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা নিয়েই মূলত আসেন।
এমন পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে।
আর্জেন্টিনায় রুশ নাগরিকদের জন্য ‘বার্থ ট্যুরিজম’ দিন দিন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
এমনকি তাদের ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার এ বিষয়টি, বর্তমানে ব্যবসার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন কেউ কেউ।
রুশভাষার এক ওয়েবসাইটে আর্জেন্টিনায় সন্তান জন্মদানে ইচ্ছুক মায়েদের জন্য, নানা রকম প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
এসব প্যাকেজে আছে- পছন্দমতো সন্তান জন্মদান পরিকল্পনা, এয়ারপোর্ট পিক-আপ, স্পেনিশ ভাষা শিখার ব্যবস্থা।
এছাড়াও আর্জেন্টিনার রাজধানীতে, সেরা মানের হাসপাতালগুলোতে আছে খরচের ওপর ছাড়সহ নানা সুযোগ।
প্যাকেজগুলোর সুবিধা নিতে গুনতে হবে, ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার, এমনকি এর বেশি অর্থ।