
রেকর্ড ভাঙা-গড়া যেন বিটিএস–এর জন্য সাধারণ একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। এবার আরেকটি পুরস্কার জিতে নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভাঙল জনপ্রিয় এ ব্যান্ড দলটি।গত ৪ মার্চ, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নিকেলোডিয়ন কিডস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’। এতে ‘ফেভারিট মিউজিক গ্রুপ’ হিসেবে বিজয়ীর পুরস্কার হাতে উঠেছে বিটিএসের।অবশ্য প্রতিবছরের মতো এই বছরেও কে পাবে এই খেতাব, তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিলো না। সবার মাঝে আগ্রহ ছিলো এই নিয়েই যে, গত তিন বছর ধরে বিজয়ী বিটিএস-ই পাবে নাকি অন্য কারো হাতে উঠতে পারে পুরষ্কারটি। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিজয়ীর পুরস্কার উঠে বিটিএসের হাতেই। এই নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ‘বেস্ট মিউজিক গ্রুপ’র খেতাব পেল বিটিএস। এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো পছন্দের সংগীত দল হিসেবে ‘কিডস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’ জিতল তারা। সংখ্যার বিচারে এটা তাদের সপ্তম শিরোপা জয়। এর আগে আর কোনো সংগীত দল এই পুরস্কার এতোবার জেতেনি। বিটিএসের গড়া ‘গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ আরেকবারের মতো এগিয়ে নিল দলটি। এদিকে, পছন্দের ব্যান্ডের এমন জয়ে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা। সামাজিকমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তায় ভরে উঠেছে। আর সমর্থন জুগিয়ে পাশে থাকার জন্য বিটিএসের পক্ষ থেকে তাদের ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। অবশ্য বিটিএসের নিজেদের রেকর্ড ভাঙার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে, তারা ২০২১ সালে ইউটিউবে একটি মিউজিক ভিডিওর প্রিমিয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি দর্শকের রেকর্ড গড়ে।‘বাটার’ গানের মাধ্যমে করা এই রেকর্ড পূর্বে ছিলো তাদেরই গান ‘ডাইনামাইট’ এর কাছে। ‘বাটার’ গানটি সে বছর একই সাথে প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যে ‘Spotify’-এ সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম করা ট্র্যাক এর রেকর্ডও অর্জন করে। একটি কে-পপ ব্যান্ড দ্বারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা ইউটিউব ভিডিও হয়ে যায় গানটি।৭ সদস্যের বিটিএস ২০১৩ সালে বিগহিট এন্টারটেইমেন্টের অধীনে অভিষেক করে। তাদের প্রথম সিঙ্গেল এলবাম ‘টু কুল ফর স্কুল’ দিয়ে দর্শকদের নজরে আসেন। এরপরে আরো কিছু গান আর অ্যালবাম প্রকাশ করলেও তাদের জনপ্রিয়তার প্রথম ধাপ আসে ২০১৫ সালের গান ‘আই নিড ইউ” এর মাধ্যমে। কোরিয়ান সমস্ত চার্টে শীর্ষে থাকা গানটি বিটিএসকে তাদের প্রথম মিউজিক শো পুরষ্কার এনে দেয়। বলা হয়ে থাকে, এই গানটির মাধ্যমেই তাদের সফলতার শুরু হয়। ব্যান্ডের দ্বিতীয় কোরিয়ান স্টুডিও অ্যালবাম ‘উইংস’ ২০১৬ সালে প্রকাশ পায়, যা দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের প্রথম এক মিলিয়ন অ্যালবাম বিক্রির রেকর্ড এনে দেয়। এই অ্যালবামের পরে ২০১৭ দলটি ‘বিলবোর্ড শীর্ষ সামাজিক শিল্পী’ এর খেতাব জিতে। প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ান শিল্পী হিসেবে বিটিএস এই পুরষ্কার পায়। পরবর্তী তিন বছর ধরে এই খেতাবটা তাদের ঝুলিতেই ছিল। গানের পাশাপাশি নানা ধরণের সামাজিক কাজে নিজেদের সমানভাবে নিয়োজিত রেখেছে এই জনপ্রিয় ব্যান্ডের সদস্যরা। ২০১৮ সালে বিটিএস ইউনাইটেড ন্যাশনে ইউনিসেফের পক্ষে বক্তব্য রাখে। এই বক্তব্যে তারা বৈষম্য এর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিজেকে ভালোবাসার প্রতি জোর দেয়। এটি তাদের নিজস্ব প্রচারণা ‘নিজেকে ভালোবাসি’ এর অংশ ছিলো। আত্মপ্রকাশের পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিটিএস–এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। টুইটারে তাদের অনুসারীর সংখ্যা ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি। ২০২০ সালে প্রথম গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয় বিটিএস। কেবল গানের জন্য জনপ্রিয়তা নয়, বিটিএস গড়ে ৪৯ লাখ ডলার আয় করে দক্ষিণ কোরিয়ার জিডিপিতে দশমিক ৩ শতাংশ অবদান রেখে আসছে।



