একটি নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ৫৪ টি দেশের ১২০ কোটি মানুষ! নির্বাচনের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে এই দেশগুলোর আগামীর অর্থনৈতিক তথা রাজনৈতিক উন্নতি!
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েই এতো জল্পনা কল্পনা! গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি হয়ে গেলো দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন! এখনো শেষ হয়নি ভোট গণনা!
প্রশ্ন হচ্ছে, নাইজেরিয়ার সাথে আফ্রিকা মহাদেশের বাকি দেশগুলোর সম্পর্ক কী আর কেনই বা এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আফ্রিকার জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘ সামরিক শাসন অবসানের পর সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে এটি। এই নির্বাচনের ফলাফলের জন্য যতটা নাইজেরিয়ার মানুষ মুখিয়ে আছে তার চেয়ে বেশি মুখিয়ে আছে সমগ্র আফ্রিকা।
এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় আট কোটি ৭০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছে যা আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাইজেরিয়ার উন্নতি মানে আফ্রিকার উন্নতি আর নাইজেরিয়ার অবনতি মানেই আফ্রিকার অবনতি! কারণ এই নাইজেরিয়াই আফ্রিকার পাওয়ার হাউজ তথা অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু!
প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে আফ্রিকার সব থেকে জনবহুল দেশটিও নাইজেরিয়া। সব কিছুর বিবেচনায় নাইজেরিয়ার এই নির্বাচনের প্রভাব ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে আফ্রিকার আনাচে কানাচে!
ধারণা করা হয়, যদি এই নির্বাচনে যদি নাইজেরিয়ার নির্বাচন কমিশন দূর্নীতির আশ্রয় নেয় তাহলে এর ভুক্তভোগী হবে আফ্রিকার ১২০ কোটি মানুষ!
কেননা নাইজেরিয়াতে এই বছর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এবং এ বছর আরও কয়েকটি আফ্রিকান দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
যদি নাইজেরিয়াতে ভোট কারচুপি বা জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার ঘটনা ঘটে, তবে তার প্রভাব অন্য দেশ গুলোতেও থাকবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রভাবের পাশাপাশি বিশাল এক অর্থনৈতিক প্রভাব আছে নাইজেরিয়ার, যেই কারণে নাইজেরিয়াকে জায়েন্ট অফ আফ্রিকা ও বলা হয়।
মোট ৫৪ টি দেশ আছে আফ্রিকা মহাদেশে, আর দেশ গুলোর মোট জিডিপি আফ্রিকা মহাদেশের জিডিপিতে যে প্রভাব রাখে তার প্রায় ২০ থেকে ৩০ ভাগ অবদানই নাইজেরিয়ার।
এই দেশটির প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে জ্বালানী তেল, এর পাশাপাশি কৃষি পণ্য, জুতা ও কাপড় চোপড়ও রপ্তানি করে দেশটি, যার অধিকাংশই হয় আফ্রিকার অন্যদেশগুলোর সাথে!
এখন যদি আফ্রিকার এই দৈত্যাকার দেশটির শাসন ব্যবস্থাতে পরিবর্তন হয়, সেটি যে কোনো ভাবেই পুরো আফ্রিকাতেই নয় সারা বিশ্বে প্রভাব রাখতে বাধ্য বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
আবার, এতো কিছুর মধ্যেও শুধুমাত্র দূর্নীতির কারণে নাইজেরিয়ার অর্থনীতি প্রায় ধ্বসে পড়েছে। পাশাপাশি বেকারত্বের অভিশাপ এবং দুষ্কৃতীকারীদের উৎপাতে দেশটির শাসন ব্যবস্থা মৃতপ্রায়!
নিরাপত্তার অভাবে নাইজেরিয়াতে শুধুমাত্র গত বছর ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে এই দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট পদে যিনি নির্বাচিত হবেন তার জন্য মূল চ্যালেঞ্জগুলো হবে নতুন মুদ্রা চালু করা, ধ্বসে পড়া অর্থনীতি সামাল দেয়া, তরুণদের কর্মের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা!
২৪ বছর আগে দেশটির রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হওয়ার পর প্রধানত দুটি দলের প্রভাব দেখা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন এপিসি এবং পিডিপি।
দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির উত্তরসূরি হতে নির্বাচনে লড়ছেন ১৮ জন প্রার্থী। প্রার্থীরা হলেন, ক্ষমতাসীন অল প্রগ্রেসিভ কংগ্রেসের সাবেক লাগোস গভর্নর ৭০ বছর বয়সী বোলা টিনুবু,
প্রধান বিরোধী দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি ৭৬ বছর বয়সী আতিকু আবুবাকার ও অ্যানামব্রা রাজ্যের সাবেক গভর্নর ও লেবার পার্টির ৬১ বছর বয়সী পিটার ওবি।
তবে এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী পিটার ওবিকে দেখা গেছে কঠিন এক প্রতিদ্বন্দীতা নিয়ে হাজির হতে।
এবারের নির্বাচনে নাইজেরিয়ার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ চোখে পড়েছে। দেশটিতে ভোটদানের যোগ্যতাসম্পন্ন জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশই তরুণ, যাদের বয়স ৩৫এর নিচে।
ফলে ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ এ যে মাত্র ৩৫% ভোট পড়েছিল, এবার ভোট পড়বে তার থেকে অনেক বেশি। তবে যে ই এই নির্বাচনে জয়ী হোক, তার দিকে যেমন তাকিয়ে থাকবে নাইজেরিয়ার সাধারণ জনগণ, তেমনি গোটা আফ্রিকা মহাদেশ।