রাজনীতি
২৭ জুলাই বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে বিশাল পরিকল্পনা, পাল্টা জবাবে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগও
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা মনে করছেন রাজধানীতে মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীরা পথে পথে বাধা দিতে পারেন। এ জন্য কর্মসূচির অন্তত দুই দিন আগে দূরের জেলার নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে বলা হচ্ছে। দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপি দ্রুত আন্দোলন জমাতে চায়। তাই অনেকটা হঠাৎ ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছে।
অতীতে ঢাকায় যত মহাসমাবেশ হয়েছে তার আগে সরকারি বাধার কারণে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করেও রাজনীতিতে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল।
পরিস্থিতি যা-ই হোক মহাসমাবেশ থেকেও হরতাল-অবরোধে না যাওয়ার পক্ষে দলের প্রভাবশালী একটি অংশ। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থান, রাজধানীর ছয় থেকে সাতটি স্থানে লাগাতার সমাবেশ অথবা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, সরকারের টানা ১৪ বছরের শাসনামলে রাজধানীতে রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল না হওয়ার পেছনে এটি একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এবার ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি সাজানো হচ্ছে।
মহাসমাবেশের পরও ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের নিয়ে টানা কয়েকটি কর্মসূচি পালনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপি আন্দোলনের সফলতা দেখতে চায়। এ ক্ষেত্রে দলের নেতাদের যুক্তি হলো, তফসিল ঘোষণার পর ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তখন অনেক দল নানা প্রলোভনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় অবস্থান নিয়ে কয়েক দিন বড় কর্মসূচি করতে পারলে সরকার, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের আপাত স্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না। বিশেষ করে প্রশাসনে আন্দোলন-ভীতি তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আস্থা বাড়বে।
কূটনীতিক পর্যায়ে যোগাযোগ আছে এমন একজন নেতা বলেন, বিএনপির আন্দোলন নিয়ে পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। গত ১৪ বছরে পশ্চিমাদের এমন আগ্রহ দেখা যায়নি। সে জন্য ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের শক্তি দেখাতে চায়।
এদিকে বিএনপির এই মহাসমাবেশকে স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থাকে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতার অপচেষ্টা বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালেরলের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছে। ফলে এদিন ক্ষমতাসীনরা রাজধানীতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিয়ে রাজপথে থাকবে। এ নিয়ে গতকাল রবিবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যে কেউ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ যদি অশুভ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তখন আওয়ামী লীগ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না।’
আগামী ২৭ জুলাই দুপুরে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে এই শান্তি সমাবেশের আয়োজন করছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচিতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আশংকাজনকভাবে খারাপ হতে পারে বলে ধারণা সাধারণ মানুষের।
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা
নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।

.jpg)
.jpg)






