২৭ জুলাই বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে বিশাল পরিকল্পনা, পাল্টা জবাবে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগও
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকার মহাসমাবেশে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো করতে চায় বিএনপি। এরপর সরকার পতনের দাবিতে রাজধানীকেন্দ্রিক টানা কর্মসূচিতে থাকতে চায় দলটি। তাই মহাসমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের ঢাকায় রেখে দিতে চায় তারা। এমন ভাবনা নিয়ে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বলে দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা মনে করছেন রাজধানীতে মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সরকারি দলের নেতাকর্মীরা পথে পথে বাধা দিতে পারেন। এ জন্য কর্মসূচির অন্তত দুই দিন আগে দূরের জেলার নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে বলা হচ্ছে। দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপি দ্রুত আন্দোলন জমাতে চায়। তাই অনেকটা হঠাৎ ঢাকায় মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছে।অতীতে ঢাকায় যত মহাসমাবেশ হয়েছে তার আগে সরকারি বাধার কারণে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করেও রাজনীতিতে উত্তাপ তৈরি হয়েছিল।পরিস্থিতি যা-ই হোক মহাসমাবেশ থেকেও হরতাল-অবরোধে না যাওয়ার পক্ষে দলের প্রভাবশালী একটি অংশ। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় অবস্থান, রাজধানীর ছয় থেকে সাতটি স্থানে লাগাতার সমাবেশ অথবা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, সরকারের টানা ১৪ বছরের শাসনামলে রাজধানীতে রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল না হওয়ার পেছনে এটি একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এবার ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসূচি সাজানো হচ্ছে।মহাসমাবেশের পরও ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাকর্মীদের নিয়ে টানা কয়েকটি কর্মসূচি পালনের কথা চিন্তা করা হচ্ছে।দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপি আন্দোলনের সফলতা দেখতে চায়। এ ক্ষেত্রে দলের নেতাদের যুক্তি হলো, তফসিল ঘোষণার পর ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তখন অনেক দল নানা প্রলোভনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়।বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দলের নেতাকর্মীরা ঢাকায় অবস্থান নিয়ে কয়েক দিন বড় কর্মসূচি করতে পারলে সরকার, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের আপাত স্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না। বিশেষ করে প্রশাসনে আন্দোলন-ভীতি তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আস্থা বাড়বে।কূটনীতিক পর্যায়ে যোগাযোগ আছে এমন একজন নেতা বলেন, বিএনপির আন্দোলন নিয়ে পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে বেশ আগ্রহ আছে। গত ১৪ বছরে পশ্চিমাদের এমন আগ্রহ দেখা যায়নি। সে জন্য ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের শক্তি দেখাতে চায়।এদিকে বিএনপির এই মহাসমাবেশকে স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থাকে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতার অপচেষ্টা বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। তারা বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালেরলের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির মহাসমাবেশ ডাকা হয়েছে। ফলে এদিন ক্ষমতাসীনরা রাজধানীতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী নিয়ে রাজপথে থাকবে। এ নিয়ে গতকাল রবিবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। .আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যে কেউ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ যদি অশুভ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তখন আওয়ামী লীগ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না।’ আগামী ২৭ জুলাই দুপুরে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে এই শান্তি সমাবেশের আয়োজন করছে। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি এ কর্মসূচিতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আশংকাজনকভাবে খারাপ হতে পারে বলে ধারণা সাধারণ মানুষের।


