রাজনীতি
আওয়ামী লীগ সবসময় হিন্দুদের ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে: নজরুল ইসলাম আজাদ
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, "হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে বিএনপি সবসময় ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা ও সহমর্মিতা নিয়ে পাশে থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হলো, হিন্দু সম্প্রদায় যেন নির্বিঘ্নে তাদের যাবতীয় ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে। বিএনপি সবসময় এ বিষয়ে সহায়তা করবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির শাসনামলে হিন্দু সম্প্রদায়কে কখনোই উপেক্ষা করা হয়নি এবং তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি সবসময় সচেষ্ট থেকেছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, "আওয়ামী লীগ সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে নিজেদের রিজার্ভ ভোট হিসেবে বিবেচনা করে, কিন্তু বাস্তবে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে কোনো কাজ করেনি। কক্সবাজারে হিন্দুদের মন্দিরে হামলা কারা করেছে? নাটোরে, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে হামলা কারা করেছে? আওয়ামী লীগের লোকজনই করেছে। এরপর তারা আবার দাবি করে, হিন্দুদের ভোট আওয়ামী লীগের রিজার্ভ ভোট। এটা তাদের ট্রাম্পকার্ড।"
নজরুল আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে। তারা হিন্দুদের প্রকৃতপক্ষে কোনো সহযোগিতা করতে চায় না, বরং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই হিন্দুদের ব্যবহার করে থাকে।"
দুর্গাপূজা উপলক্ষে নরসিংদীর স্থানীয় সেবাসংঘ সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা বিভাগের আরেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো এবং নরসিংদী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুরে এলাহী। সভায় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাকর্মীরাও সভায় অংশ নেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে বিএনপির শাসনামলে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য বিএনপি যা করেছে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল হিন্দু সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করা এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বিএনপির সময় হিন্দুরা কখনো তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধাপ্রাপ্ত হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগ আমলে হিন্দুরা কখনো তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। যদি সুযোগ পায়, হিন্দুরা ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেবে। বিএনপি বিশ্বাস করে যে, ভোটের অধিকার সবার মৌলিক অধিকার এবং এই অধিকার রক্ষা করতে হবে।"
বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম আজাদ আরও বলেন, "বর্তমান সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং গণতন্ত্রের নামে প্রহসন করছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সমান এবং সংখ্যালঘু বলে কোনো কিছু নেই। আমরা সবাই ভাই ভাই এবং এই চিন্তাভাবনা নিয়ে আমরা রাজনীতি করি।"
নজরুল ইসলাম বলেন, "তারেক রহমান সবসময় সকল ধর্মের মানুষের প্রতি আন্তরিক। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা বিএনপির দায়িত্ব।"
নজরুল ইসলাম আজাদ সভায় উপস্থিত যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান যেভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন, সেভাবে আমাদেরও তাঁর পাশে থাকতে হবে।"
তিনি নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিএনপির নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতে সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিএনপি হিন্দু সম্প্রদায়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে, বিএনপি সবসময় হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সহায়তা করবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা
নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।

.jpg)
.jpg)






