রাজনীতি


আটঘাট বেঁধে জামায়াতের সিরিজ কর্মসূচি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ অক্টোবর ২০২৪, ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

আটঘাট বেঁধে জামায়াতের সিরিজ কর্মসূচি
শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে কোণঠাসা থাকা দলটি এখন ধারাবাহিক কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে নিজেদের শক্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দলকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি, জামায়াত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে একটি ১০ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাবনায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচারব্যবস্থা, আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই প্রস্তাবনা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সংস্কার এবং একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবে।
জামায়াতের কূটনৈতিক তৎপরতাও বর্তমানে চোখে পড়ার মতো। তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন কূটনীতিকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেছে। চীনের রাষ্ট্রদূতসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকগুলো জামায়াতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। দলটি জাপান, ইরান এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক কৌশলে সাহায্য করতে পারে।
জামায়াত আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। এটি হবে শেখ হাসিনার পতনের পর দলটির প্রথম বড় ধরনের সমাবেশ। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের হামলায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা হতাহত হন। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জনগণকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করতে এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে এই সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে।
এই সমাবেশের মাধ্যমে দলটি তার সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে চায় এবং জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়, বিশেষ করে তাদের পক্ষ থেকে প্রচারিত রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবনার আলোকে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই জামায়াত দেশব্যাপী তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ শুরু করে। দলটি মহানগর থেকে শুরু করে থানা ও উপজেলা পর্যায়ে রুকন সম্মেলন, শিক্ষাশিবির এবং সহযোগী সদস্যদের সভার আয়োজন করেছে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা ও নির্বাহী পরিষদের একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শীর্ষ নেতারা দলের তৃণমূল কর্মীদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন। দলের প্রচেষ্টায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নবাগত এবং অগ্রসর কর্মীদের উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণকে।
জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দলটির সংগঠন সম্প্রসারণ ও জনশক্তি মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জামায়াত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য কৌশল নির্ধারণ করছে।
জামায়াতের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দলটি চীন, জাপান, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করছে। রাজনৈতিক চাপ এবং চ্যালেঞ্জের মুখেও জামায়াত বিদেশি মিত্রদের সহায়তায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সচেষ্ট।
জামায়াতের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে, চীনের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন দলটির আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও জোরদার করতে পারে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, দলটি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো, মিছিল, সভা-সমাবেশ, এবং সংগঠন সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের জনগণকে সচেতন করা। বিশেষ করে, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন তাদের পক্ষে কিছুটা হলেও সহায়ক। শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াত নতুনভাবে সংগঠন শক্তিশালী করার সুযোগ পেয়েছে এবং তারা সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুনভাবে শক্তি সঞ্চার করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা, কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, এবং সমাবেশের আয়োজনের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাইছে। দলের ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াত তা

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।