রাজনীতি
ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে দাঁড়াবেন না: আবদুল্লাহ আল জাবের
.webp)
শহীদ ওসমান হাদির মতো যোগ্যতা ও আদর্শে পৌঁছানো পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের কেউ ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কখনো সহানুভূতি বা আবেগনির্ভর রাজনীতি করবে না।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে চলমান অবরোধ কর্মসূচি থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে দুপুর সোয়া ২টা থেকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো শাহবাগ অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চ। গত শুক্রবার থেকে প্রতিদিনই তারা এই কর্মসূচি পালন করে আসছে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, অনেকেই ঢাকা-৮ আসনে ইনকিলাব মঞ্চের কাউকে প্রার্থী করার অনুরোধ জানালেও সংগঠনটি সে পথে যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী প্ল্যাটফর্ম। শহীদ ওসমান হাদিও ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কোনো দিন ক্ষমতার কাছে নিজেকে বর্গা দেবে না, ক্ষমতার মুখাপেক্ষী হবে না। ওসমান হাদি রাজনীতিতে আসেননি ক্ষমতার জন্য, তিনি এসেছিলেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতির রূপরেখা দিতে।
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত কিংবা এনসিপি সবারই নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকবে। তবে জনগণ এখন তাদের কাছে শহীদ হাদি হত্যার বিচার চায়। এই বিচারে কেউ সোচ্চার না হলে জনগণই নির্বাচনে তার জবাব দেবে।
শহীদ ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করার চেষ্টার সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জনগণ আবেগ নয়, অতীত ও বর্তমান হিসাব মিলিয়েই ভোট দেবে। যারা খুনিদের জামিন করিয়েছে বা টক শোতে শহীদ হাদিকে হেয় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়াও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
উপদেষ্টাদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, এই শীতে রাষ্ট্র যেন কম্বলের নিচে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু জনগণ রাষ্ট্রের পাহারাদার হয়ে শাহবাগে দাঁড়িয়ে আছে। ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের নাম প্রকাশ করুন। জনগণ আপনাদের পাহারা দেবে। আর যদি সমঝোতার পথে যান, তাহলে আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না।
শাহবাগ অবরোধ নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিকল্প সড়ক থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের ভোগান্তির দায় চাপানো হচ্ছে। এই শীতে কোনো ভাড়াটে লোক নয়, খুনিদের বিচারের দাবিতে সাধারণ মানুষই শাহবাগে অবস্থান করছে। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
আইন উপদেষ্টার সমালোচনা করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাইয়ের আসামিদের জামিন দেওয়ার ঘটনায় আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায় এড়াতে পারে না। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ দায় সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদেরই নিতে হবে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
.jpg)
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি
টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
.jpg)

.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)