রাজনীতি


২৩ আসনে ২৩ জয়: খালেদা জিয়ার নির্বাচনী ইতিহাস


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

২৩ আসনে ২৩ জয়: খালেদা জিয়ার নির্বাচনী ইতিহাস

বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ভোটের ময়দানে দাঁড়ানো মানেই জয় এই অনন্য নজির গড়ে তিনি পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে মোট ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে তাঁর নামের পাশে আজও কোনো পরাজয়ের রেকর্ড নেই।

 

খালেদা জিয়া এমন এক নেতা, যিনি দল ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক ব্যক্তিগতভাবে কখনোই ভোটে হারেননি। ব্যালটের বাক্সে তাঁর নাম মানেই নিশ্চিত জয় এটি কেবল রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং ইতিহাসে প্রমাণিত বাস্তবতা।

 

স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া একসঙ্গে পাঁচটি আসনে প্রার্থী হন বগুড়া–৭, ঢাকা–৫, ঢাকা–৯, ফেনী–১ ও চট্টগ্রাম–৮। প্রতিটি আসনেই তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশেষ অবস্থান তৈরি করেন।

 

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফেনী–১ ও ২, বগুড়া–৭, সিরাজগঞ্জ–২ ও রাজশাহী–২ আসনে প্রার্থী হয়ে সব কটিতেই জয়ী হন। যদিও ওই নির্বাচন একতরফা হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়, তবে সেই সংসদেই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর বিল পাস হয়। শপথ নেওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করেন এবং সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়।

 

Related posts here

 

এরপর ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জয়যাত্রা থেমে থাকেনি। তিনি বগুড়া–৬, বগুড়া–৭, ফেনী–১, লক্ষ্মীপুর–২ ও চট্টগ্রাম–১—এই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়ে আবারও শতভাগ সাফল্য অর্জন করেন।

 

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া–৬, বগুড়া–৭, খুলনা–২, ফেনী–১ ও লক্ষ্মীপুর–২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাঁচটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

 

২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন একজন প্রার্থীর জন্য সর্বোচ্চ তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সীমা নির্ধারণ করলে খালেদা জিয়া বগুড়া–৬, বগুড়া–৭ ও ফেনী–১ আসনে নির্বাচন করেন। তিনটি আসনেই তিনি জয়লাভ করেন। যদিও ওই নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারেনি, তবুও তাঁর ব্যক্তিগত নির্বাচনী রেকর্ডে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন এক বিশ্লেষণে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন ব্যতিক্রমী জনপ্রিয়তা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন রাজনৈতিক নেতা। তাঁর সংযত ভাষা, আপসহীন অবস্থান এবং আত্মমর্যাদাবোধ দল-মত নির্বিশেষে মানুষের আস্থা অর্জন করেছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হিসাব অন্যরকম হলেও, একটি টেলিভিশন ভাষণ পুরো দৃশ্যপট বদলে দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও বক্তব্য ভোটের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সে কারণেই একাধিক আসনে দাঁড়িয়েও তিনি বারবার জনগণের রায়ে বিজয়ী হয়েছেন।

 

টানা ২৩ আসনে জয় এই ধারাবাহিক সাফল্য খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিণত করেছে এক অজেয় নির্বাচনী চরিত্রে, যাঁর নাম আজও পরাজয়ের কোনো ইতিহাস বহন করে না।

 

সম্পর্কিত

খালেদা জিয়াবিএনপিনির্বাচনী ইতিহাস

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।