রাজনীতি


খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’

ছবি: সংগৃহীত


সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।

 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হবে এমন ধারণা তাদের ছিল না। সরকার গঠনের আগমুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে তার নাম দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে দলীয়ভাবে সমালোচনা করা হয়েছিল; এমনকি তার পদত্যাগও দাবি করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া তাদের জন্য বিব্রতকর।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খলিলুর রহমান। বিভিন্ন ইস্যুতে তার বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

 

রোহিঙ্গা সংকট, কক্সবাজার সীমান্তে তথাকথিত ‘মানবিক করিডর’, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এসব বিষয়ে বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্য সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ২০২৫ সালের মে মাসে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। দলটি লিখিতভাবেও এ দাবি জানায়।

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন, এতে দেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা হয়নি।

 

খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী, নাগরিক নন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি “জোর করে” মন্ত্রিসভায় যাননি। স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একেকজনের একেকজন সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকতে পারে, সেটা পরিবর্তনও হয়।” নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনর্গণনার কথাও উল্লেখ করেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তার মন্ত্রিসভায় কাকে নেবেন, তা তার একান্ত এখতিয়ার। সে ক্ষেত্রে দলের ভেতরে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেতৃত্বের।

 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে দক্ষ ও পেশাদার কূটনীতিক প্রয়োজন। সে বিবেচনায় খলিলুর রহমানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

 

সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকে খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় থেকে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ দৃঢ় হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।

 

অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও তার নিয়োগের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

খলিলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানালা দিয়েই বিশ্ব নতুন বিএনপি সরকারকে দেখবে। ফলে তার ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে বাংলাদেশ প্রথম নীতি অনুসরণ করা হবে।

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তার নিয়োগকে ঘিরে যে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।


সম্পর্কিত

রাজনীতিখলিলুর রহমানবিএনপি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি

টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।