রাজনীতি
খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হবে এমন ধারণা তাদের ছিল না। সরকার গঠনের আগমুহূর্তে সংবাদমাধ্যমে তার নাম দেখে তারা বিস্মিত হয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে দলীয়ভাবে সমালোচনা করা হয়েছিল; এমনকি তার পদত্যাগও দাবি করা হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া তাদের জন্য বিব্রতকর।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খলিলুর রহমান। বিভিন্ন ইস্যুতে তার বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
রোহিঙ্গা সংকট, কক্সবাজার সীমান্তে তথাকথিত ‘মানবিক করিডর’, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি এসব বিষয়ে বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্য সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। ২০২৫ সালের মে মাসে বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। দলটি লিখিতভাবেও এ দাবি জানায়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন, এতে দেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা হয়নি।
খলিলুর রহমানের নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিএনপির কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী, নাগরিক নন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি “জোর করে” মন্ত্রিসভায় যাননি। স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একেকজনের একেকজন সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকতে পারে, সেটা পরিবর্তনও হয়।” নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনর্গণনার কথাও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তার মন্ত্রিসভায় কাকে নেবেন, তা তার একান্ত এখতিয়ার। সে ক্ষেত্রে দলের ভেতরে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেতৃত্বের।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে দক্ষ ও পেশাদার কূটনীতিক প্রয়োজন। সে বিবেচনায় খলিলুর রহমানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সাবেক কূটনীতিকদের কেউ কেউ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে লন্ডনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠকে খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় থেকে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ দৃঢ় হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।
অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও তার নিয়োগের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
খলিলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জানালা দিয়েই বিশ্ব নতুন বিএনপি সরকারকে দেখবে। ফলে তার ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে বাংলাদেশ প্রথম নীতি অনুসরণ করা হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে কতটা ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তার নিয়োগকে ঘিরে যে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা
নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।


.jpg)






