রাজনীতি
দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়—সবার আগে বাংলাদেশ: তারেক রহমান
.webp)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয় সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের মানুষই আমাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস। তাই আমরা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কারা কী ভূমিকা রেখেছে, বাংলাদেশের মানুষ তা ভালোভাবেই জানে। তিনি বলেন, এই দেশের লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন, মা-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যাদের ভূমিকার কারণে এসব ঘটেছে, তাদের বাংলাদেশের মানুষ দেখেই নিয়েছে।
দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে তিনি ধানের শীষকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশের প্রতিটি মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়। শুধু ভোটাধিকার বা কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে, বলেন তিনি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ধর্মীয় উপমার মাধ্যমে তিনি সমালোচনা করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে ‘এই দেব, ওই দেব’ বলছে। তিনি বলেন, যার মালিক মানুষ নয়, যার মালিক একমাত্র আল্লাহ, সেই বিষয় নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানে মানুষকে আগেই ঠকানো।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গত ১৫–১৬ বছরে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাই, নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মঞ্চে উঠে প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তাঁর আগেই জনসভাস্থল নেতা–কর্মীদের উপস্থিতিতে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। তিনি মঞ্চে উঠলে চারদিক থেকে ‘দুলা ভাই, দুলা ভাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ।
সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। মঞ্চে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এবং সিলেট বিভাগের চার জেলার বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।
জনসভায় বারবার উঠে আসে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর নাম। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ইলিয়াস আলীসহ সিলেট অঞ্চলের গুমের শিকার নেতা-কর্মীদের কথা স্মরণ করেন। মাঠের এক পাশে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জন্য আলাদা জায়গাও রাখা হয়।
এর আগে সকাল থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। ধানের শীষ, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে স্লোগানে মুখর থাকে পুরো এলাকা।
সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের ছয়টি স্থানে আয়োজিত নির্বাচনী
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।
.jpg)
নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
.jpg)
পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি
টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
.jpg)
খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।
.jpg)

.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)