রাজনীতি


নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, অস্ট্রেলিয়া–উগান্ডা ম্যাচের সঙ্গে তুলনা আমির হামজার


কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বাদশা আলমগীর

প্রকাশিত:০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, অস্ট্রেলিয়া–উগান্ডা ম্যাচের সঙ্গে তুলনা আমির হামজার

ছবি: দূরবিন নিউজ


আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অস্ট্রেলিয়া–উগান্ডা ক্রিকেট ম্যাচের মতো একপাক্ষিক হবে বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী মহিলা সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

সমাবেশে আমির হামজা বলেন, তাঁর ধারণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে অস্ট্রেলিয়া ও উগান্ডার ম্যাচের মতো ফল একপাক্ষিকই হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করে যেতে হবে এবং ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কুষ্টিয়া সদর আসনের ১৩৮টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামী যে জনসমর্থন ও গণজোয়ার পাচ্ছে, তাতে তারা শতভাগ আশাবাদী। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়া–৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভূমিধস বিজয় নিশ্চিত হবে।

 

নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে আমির হামজা বলেন, সিআরএফ নামের একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে দেশের প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটারের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। একই তথ্যে ধানের শীষের পক্ষে ২৭ শতাংশ এবং এনসিপির পক্ষে ১৭ শতাংশ সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এনসিপি ১১ দলীয় জোটের শরিক হওয়ায় তরুণ ভোটারদের প্রায় ৫৫ শতাংশ জোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

বক্তব্যে অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। ইসলামী দল নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে এবং আড়ালে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে—যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে বলেও তিনি দাবি করেন।

 

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুই বছরের বেশি টিকতে পারবে না—এমন সতর্কতা আগেই দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ধর্মীয় বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, যারা আল্লাহ ও রাসূলের ওপর বিশ্বাস রেখে মানবতা রক্ষায় কাজ করবে, আল্লাহ তাদের জান্নাত দান করবেন। আর যারা ঈমানদার না হয়েও মানবতার পক্ষে দাঁড়াবে, তারা দুনিয়াতেই শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা পাবে।

 

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু সাংবাদিক বক্তব্যের অংশবিশেষ কেটে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন, যা বিভ্রান্তি তৈরি করে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে সবাই দুনিয়াবি শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।

 

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জেলা ও শহর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সম্পর্কিত

আমির হামজারাজনীতিসংসদ নির্বাচনজামায়াত

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, নির্বাচনের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সভা

নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার কিছু আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে শুরু হয়।