রাজনীতি


ঢাকা–১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে: নাহিদ ইসলাম


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার

ঢাকা–১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে: নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার ঢাকার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে এনসিপি–মনোনীত এবং ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী জনসভায় । ছবি: সংগৃহীত


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, এই আসনের অন্যতম প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক। উন্নয়ন না হওয়ার মূল কারণও রাজনৈতিক, আর সেই রাজনৈতিক সমস্যার নাম হলো ভূমিদস্যুতা। নির্বাচিত হলে ঢাকা–১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

 

রোববার ঢাকার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে এনসিপি–মনোনীত এবং ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৩০ বছর ধরে এই এলাকায় ভূমি দখল, খাসজমি দখল, জলাশয় ভরাট ও নদী দখলের একটি সুসংগঠিত ইতিহাস রয়েছে। শত শত মানুষের জমি দখল হয়ে গেছে, শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যাঁরা রাজনীতির মাঠে ছিলেন, তাঁরাই সরাসরি ভূমিদস্যু হিসেবে কাজ করেছেন কিংবা ভূমিদস্যুদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের স্থানীয় নেতারাই বছরের পর বছর ভাগ–বাঁটোয়ারা করে জমি দখল করেছে।

 

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর একজন চলে গেছেন, আরেকজন তাঁর জায়গা নিয়েছেন। এই ‘এক্সচেঞ্জের’ মাধ্যমে তারা সব সময়ই জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করে গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সামনে ভূমিদস্যু, দখলদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার সুযোগ এসেছে।

 

নির্বাচিত হলে এলাকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা হবে এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা–১১ আসন থেকে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

 

বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত জনতার প্রতি শুভেচ্ছা ও সালাম জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তিনি এই এলাকার সন্তান। কোনো জাতীয় পর্যায়ের বক্তব্য দিতে আসেননি; বরং এলাকার মানুষের হয়ে কথা বলতে এসেছেন। তাঁর জন্ম ঢাকার বেরাইদে, শৈশব কেটেছে বাড্ডা–রামপুরা এলাকায়। ঢাকার এত কাছে থেকেও বাড্ডা–ভাটারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। অনেক এলাকায় ঢুকে মনে হয়, এটি ঢাকা নয়, যেন কোনো মফস্‌সল অঞ্চল।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে বাড্ডা–রামপুরা ছিল আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম ‘হটস্পট’। এই এলাকার মানুষ তখন জীবন বাজি রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তিনি বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কয়েক দিন তিনি এই আসনের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। ঢাকা–১১ তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে। জীবনের ২৮ বছরও এই এলাকা তাঁকে আগলে রেখেছে। এখন তিনি সেই ঋণ শোধ করতে চান।

 

ঢাকা–১১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার বলে মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই আসনে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস থাকলেও ভোটার সংখ্যা সাড়ে চার লাখের মতো। এত ঘনবসতির পরও পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা নেই। নেই পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, স্কুল ও সরকারি হাসপাতাল। পুরো আসনে একটি সরকারি হাইস্কুলও নেই, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর।

 

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাটারা–বাড্ডা এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। শিক্ষিত বেকারের হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের প্রায় শতভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।

 

জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সংকট প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ তলিয়ে যায়। বাড্ডার মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকা পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বাকি অংশ অপরিকল্পিত নর্দমা ও খালের ওপর নির্ভরশীল। রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল ও বালু নদ দখল ও ভরাটের ফলে পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা হারিয়েছে।

 

সারা দেশে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু ঢাকা–১১ নয়, সারাদেশেই এই জোট জয়ী হবে। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ১১–দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করতে।

 
 

সম্পর্কিত

নাহিদ ইসলামএনসিপিসংসদ নির্বাচনরাজনীতি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি

টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।