রাজনীতি


নির্বাচন ঘিরে বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা: পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার সদস্য মাঠে


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

নির্বাচন ঘিরে বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা: পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার সদস্য মাঠে

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ভবনেছবি: পুলিশ সদর দপ্তর


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে একটি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার একমাত্র লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

 

আইজিপি জানান, এবারের নির্বাচনে পুলিশের মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, নির্বাচনী নিরাপত্তা তিন স্তরে পরিচালিত হবে। প্রথম স্তরে দেশের ৮৩ হাজার ৭৮৯টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে স্ট্যাটিক ফোর্স মোতায়েন থাকবে, যাতে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে মোবাইল পুলিশ টিম, যারা নিয়মিত টহল ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। তৃতীয় স্তরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

 

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান আইজিপি। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ সদস্যরা বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপারদের অধীন থাকা ড্রোন ক্যামেরাও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হবে।

 

আইজিপি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৯৯৫টি লাইসেন্সকৃত অস্ত্র থানায় জমা নেওয়া হয়েছে।

 

নির্বাচনী নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি। আইজিপি বলেন, নিরাপত্তায় নিয়োজিত সবচেয়ে বড় বাহিনী হচ্ছে আনসার, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ।

 

রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের মাধ্যমে সব বাহিনীর সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘লক্ষ্য একটাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা।’

 

সংবাদ সম্মেলনে তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতার চিত্রও তুলে ধরেন আইজিপি। তিনি জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ৩১৭টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে। সহিংসতা কমিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


সম্পর্কিত

রাজনীতিনির্বাচন

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।