রাজনীতি


গোপন ‘ইসলামী সংগঠন’ থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতা: শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পথচলা


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার

গোপন ‘ইসলামী সংগঠন’ থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতা: শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পথচলা

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির শফিকুর রহমান ছাত্রজীবনে সিলেটের এমসি কলেজ (মুরারিচাঁদ কলেজ)–এ পড়ার সময় এক পর্যায়ে ‘গোপন’ ইসলামপন্থী সংগঠনের সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরে সক্রিয় রাজনীতি করে ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।

 

দলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন বলে উল্লেখ আছে। তবে সে সময় জাসদের রাজনীতিতে সক্রিয় কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য তারা পাননি।

 

১৯৭৬ সালে এইচএসসি পাসের পর তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন। ১৯৭৭ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির সিলেট মেডিকেল কলেজ ও সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর তরুণদের একটি বড় অংশের মতো তিনিও জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে সংগঠনের কিছু কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে সরে যান।

 

তিনি জানান, কলেজ হোস্টেলে অবস্থানকালে একদল শিক্ষার্থীর মাধ্যমে একটি গোপন ইসলামি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেখান থেকেই তিনি নতুনভাবে সংগঠিত রাজনীতিতে যুক্ত হন।

 

১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হন। ২০১০ সালে তিনি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন।

 

২০১১ সালে দলটির তৎকালীন নেতাদের গ্রেপ্তার ও দণ্ডের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট নেতৃত্বশূন্যতার সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

২০১৯ সালের নভেম্বরে দলীয় রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথমবারের মতো জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান। পরবর্তীতে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হন।

 

জামায়াতের রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি সাংগঠনিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

 

দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তিনি দলটিকে নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে আটকে না রেখে সব মহলের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে এটি একটি ভিন্ন মাত্রা।”

 

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, স্বাধীনতার পর জামায়াত নিষিদ্ধ থাকায় অনেকেই ভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে সক্রিয় হন।

 

ছাত্রজীবনের মতাদর্শিক সন্ধান থেকে শুরু করে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছানো শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি আলোচিত অধ্যায়।

 

তথ্য সুত্র: বিবিসি বাংলা


সম্পর্কিত

ইসলামী সংগঠনশফিকুর রহমানজামায়াত

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।