রাজনীতি
গোপন ‘ইসলামী সংগঠন’ থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতা: শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পথচলা
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির শফিকুর রহমান ছাত্রজীবনে সিলেটের এমসি কলেজ (মুরারিচাঁদ কলেজ)–এ পড়ার সময় এক পর্যায়ে ‘গোপন’ ইসলামপন্থী সংগঠনের সংস্পর্শে আসেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরে সক্রিয় রাজনীতি করে ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি।
দলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন বলে উল্লেখ আছে। তবে সে সময় জাসদের রাজনীতিতে সক্রিয় কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য তারা পাননি।
১৯৭৬ সালে এইচএসসি পাসের পর তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজে (বর্তমানে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ) ভর্তি হন। ১৯৭৭ সালে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির সিলেট মেডিকেল কলেজ ও সিলেট শহর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দৈনিক যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর তরুণদের একটি বড় অংশের মতো তিনিও জাসদ ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে সংগঠনের কিছু কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে সরে যান।
তিনি জানান, কলেজ হোস্টেলে অবস্থানকালে একদল শিক্ষার্থীর মাধ্যমে একটি গোপন ইসলামি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেখান থেকেই তিনি নতুনভাবে সংগঠিত রাজনীতিতে যুক্ত হন।
১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সিলেট শহর, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হন। ২০১০ সালে তিনি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হন।
২০১১ সালে দলটির তৎকালীন নেতাদের গ্রেপ্তার ও দণ্ডের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট নেতৃত্বশূন্যতার সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৯ সালের নভেম্বরে দলীয় রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথমবারের মতো জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান। পরবর্তীতে ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও তিনি পুনর্নির্বাচিত হন।
জামায়াতের রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি সাংগঠনিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বৃহত্তর পরিসরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
দৈনিক নয়াদিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তিনি দলটিকে নির্দিষ্ট পরিমণ্ডলে আটকে না রেখে সব মহলের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসে এটি একটি ভিন্ন মাত্রা।”
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, স্বাধীনতার পর জামায়াত নিষিদ্ধ থাকায় অনেকেই ভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে সক্রিয় হন।
ছাত্রজীবনের মতাদর্শিক সন্ধান থেকে শুরু করে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছানো শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি আলোচিত অধ্যায়।
তথ্য সুত্র: বিবিসি বাংলা
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড
সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।








