শুরু হতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল। এ নিয়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে চলছে উন্মাদনা।
সেই উন্মাদনার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে বিশ্বকাপের থিম সং প্রকাশ করেছে ফিফা।
এবারের থিম সং 'লাইট দ্য স্কাই'। ৭ অক্টোবর শুক্রবার ফিফা নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেছে গানটি।
এই গানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন চার দেশের চার অভিনেত্রী ও গায়িকা। যেখানে জায়গা করে নিয়েছেন বলিউড ডান্সার, মরক্কোর সুন্দরী নোরা ফাতেহি। আছেন আমিরাতের বালকিস ফাথি, ইরাকের রাহমা মেজের এবং মরক্কোর মানাল।
কেবল কণ্ঠ মেলানো নয়, এই চারজন গানটির মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ও করেছেন। গানটিতে আছে বিভিন্ন ভাষার মিশ্রণ। আছে ইংরেজি, হিন্দি ও মরক্কোর আরবি ভাষা।
হিন্দি ও মরক্কোর আরবি ভাষায় সুর মিলিয়েছেন নোরা। এ গানে তাকে কালো সিলভার রঙের পোশাকে বেশ লাস্যময়ী দেখাচ্ছিল। শিল্পীদের মধ্যে প্রথম সারিতে অবস্থান করছিলেন তিনি।
হলিউড সেননেশন জেনিফার লোপেজ ও ‘ওয়াকা ওয়াকা’খ্যাত তারকা শাকিরার পর এবার ফিফা বিশ্বকাপে পারফর্ম করবেন এ মরোক্কান সুন্দরী।
এর মাধ্যমে ভারত এবং বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো কেউ বিশ্বকাপ ফুটবলে পারফর্ম করতে যাচ্ছে।
গানটি প্রযোজনা করছে ‘রেডওয়ান’। যারা এর আগে ফিফার জন্য শাকিরার গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ও ‘লা লা লা’ গানগুলো প্রযোজনা করেছিলো।
বিশ্বে নারীদের ক্ষমতা বোঝানোই নতুন গানের থিম। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপের নারী রেফারিদের কথাও বলা হয়েছে গানে।
তবে দর্শকদের খুব একটা পছন্দ হয়নি ফিফার নতুন থিম সং। এ নিয়ে নিয়ে ভক্ত মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই গান তেমন বিশ্ব মাতাতে পারবে না।
শাকিরার গানে যেভাবে কুপকাত হয়েছিল সারাবিশ্ব, সেই উন্মাোদনা দেখা যাচ্ছে না নতুন গানে। এবারের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অবশ্য একাধিক গান প্রকাশ করবে ফিফা।
চলতি বছর ‘হায়া হায়া’ শিরোনামে আরো একটি গান প্রকাশ হয়েছিল। ইংরেজিতে 'হায়া হায়া' এর মানে দাঁড়ায় 'বেটার টুগেদার'। এই গানের মাধ্যমে বিশ্বকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে ফিফা।
৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের গানটি গেয়েছেন নাইজেরিয়ান পপ স্টার ডেভিড আদেলেকে, যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিনিদাদ কারডোনা ও কাতারি গায়িকা আয়শা।
প্ৰথমবার ফিফা বিশ্বকাপের থিম সং একাধিক গানকে মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা এক সঙ্গে গেয়েছেন।
১৯৬২ বিশ্বকাপ থেকে নিয়মিত থিম সং বের করছে ফিফা। যা সারা বিশ্বের ভক্তদের জন্য একটি দারুণ আকর্ষণ।
কখনো তা ইংলিশ, কখনো স্প্যানিশ আবার কখনো গাওয়া হয়েছে আয়োজক দেশের স্থানীয় ভাষায়। মূলত বিশ্বকাপকে আরো রঙ্গিন করে তুলতেই এমন ভাবনা ছিল ফিফার।
বিশ্বকাপের থিম সংয়ের বিষয়টি আসলেই মনে পড়ে যায় কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরার কথা। ২০১০ সালে ওয়াকা ওয়াকা গেয়ে বিশ্ব মাতিয়ে তুলেছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে শাকিরার গাওয়া 'লা লা লা' গানটি এতটাই ঝড় তোলে যে, এর সুর কানে বাজলে ২০১৪' বিশ্বকাপের স্মৃতি রোমন্থনে ফিরে যাবে যে কেউ। যদিও ব্রাজিল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ছিল না এটি।
২০১৪'র মতো তার আরো একটি উদাহরণ ২০০৬ বিশ্বকাপ। সেবার "দ্যা টাইম অব আওয়ার লাইভস" শিরোনামের গানটিকে থিম সং করেছিল ফিফা।
তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরার গাওয়া 'হিপ ডন্ট লাই' গানটি, এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যায় যে, তাতে ঢাকা পড়ে অফিসিয়াল সংটি।
বিশ্বকাপে শাকিরা গান করেছেন তিনটি। এর মধ্যে দু'টোকেই স্বীকৃতি দেয়নি ফিফা। তবে ২০১০ সালে এই সুপারস্টারকে দিয়েই অফিসিয়াল সং করায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সেবার ফ্রেশলেগ্রাউন্ডের ফিচার করা 'ওয়াকা ওয়াকা' শিরোনামের গানটি বক্স অফিসে রীতিমত ঝড় তোলে।
আগামী ২১ নভেম্বর কাতারে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফাইনাল হবে ১৮ ডিসেম্বর। বিশ্বকাপের আসর কতটা মাতিয়ে তুলবে ফিফার নতুন থিম সং, সেটিই এখন দেখার বিষয়।