বেশিরভাগ ফুটবলারই গোল করার পর দৌড় বা লাফ দিয়ে, জার্সি খুলে কিংবা মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে উদযাপন করে থাকেন।
কিন্তু মেসিকে সে ধরনের উদযাপন খুব একটা করতে দেখা যায় না। গোল করলেই আকাশের দিকে দুই হাত উঁচিয়ে উদযাপন করেন এ আর্জেন্টাইন তারকা।
ফুটবল বিশ্বে মেসির এ উদযাপন বেশ বিখ্যাত। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না যে এর পেছনে কারণটা কি। মূলত এর মধ্য দিয়ে নিজের প্রয়াত দাদীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন মেসি।
মেসির অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন তার দাদী সিলিয়া অলিভেইরা। তার বয়স যখন মাত্র ১০ বছর তখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর পর চরম শোকাহত হন মেসি।
তবে বাল্যকালে প্রিয়জনকে হারালেও এখনও তাকে ভুলেন নি ফুটবলের বরপুত্র। তিনি মনে করেন, দাদী মারা গেলেও উনার ছায়া এখনও তার মাথার ওপর রয়েছে।
মেসি শুনতে পান ওপর থেকে তাঁর নাম ধরে আজও গলা ফাটাচ্ছেন সিলিয়া। উপর থেকে সব সময় তাকে আশীর্বাদ করছেন।
তাই প্রতিবার গোল করার পর হাত উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন নিজের কৃতিত্ব দেখান তিনি।
এছাড়া মেসি আরো জানান, কেবল দাদীই নন, এর মাধ্যমে তিনি একই সাথে ঈশ্বরের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। এ জীবনে ঈশ্বর যা দিয়েছেন সবকিছুর জন্যে।
দাদির প্রতি মেসির ভালোবাসাটা সব সময়ই অন্য রকম। কারণ, দাদির হাত ধরেই তাঁর ফুটবল মাঠে নামা।
লিওনেল মেসির বাবা জর্জে মেসি ছিলেন একজন সাধারণ ফ্যাক্টরির কর্মী ও মাতা সেলিয়া মারিয়া কাচ্চিতিন্ন সাধারণ গৃহিনী।
আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের রয়েছে দুই বড়ো ভাই মাতিয়াস মেসি ও রদ্রিগেস মেসি এবং এক বোন মারিয়া সোল। ছোটবেলা থেকেই মেসি তার ভাইদের সাথে ফুটবল খেলতে মাঠে যেতেন।
দাদি সবসময় চাইতেন মেসি বড় ফুটবলার হয়ে উঠুক। দাদির উৎসাহেই বাবা তাকে ফুটবল খেলার সরঞ্জাম কিনে দেয়। আর মাত্র চার বছর বয়সে মেসিকে ফুটবল ট্রেনিং ক্লাবে ভর্তি করে দেন।
মেসিকে অনুশীলনেও নিয়ে যেতেন তাঁর দাদি। ছোট্ট নাতিকে দলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কোচের কাছেও গিয়েছেন তিনি।
মেসির বয়স অল্প ছিল বলে স্থানীয় ক্লাবের কোচ তাঁকে একদমই দলে নিতে রাজি হননি। দাদির জোরাজুরিতেই কোচ তাঁকে দলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কিন্তু বার্সা তারকা ১০ বছর বয়সে থাকতে ভালোবাসার দাদিকে হারান। এরপর মাত্র ১১ বছর বয়সে হরমোন ডেফিসিয়েন্সি নামের এক রোগ ধরা পরে আর্জেন্টিনার এই ফুটবলারের।
অল্প বয়সে এই রোগের কারণে তার শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার কমে যায়। এরপর নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে আজ তিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়।
শুধু মেসিই নয়, তার ছেলে থিয়াগো গোল করার পর একইরকমভাবে উদযাপন করে। যদিও এর পিছনে আলাদা কোন কারন নেই। বাবাকে দেখেই এমন উদযাপন করতে শিখেছে সে।
কাতারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লুসাইল স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখে মেসিরা।
দুটি গোল করেন আলভারেজ। অন্য গোলটি করেন লিওনেল মেসি। আলভারেজের দুই গোলেও অবদান আছে এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের।
২০১৪ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন লিওনেল মেসি, কিন্তু ফিরতে হয়েছে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে।
তাই ভক্ত অনুরাগীদের প্রার্থনা, এবার বিশ্বকাপ জিতেই বর্ণময় কেরিয়ার শেষ হোক। মেসি নিজেও তার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের শেষ বিশ্বকাপটা রাঙ্গাতে।