আর মাত্র একটি ম্যাচ, এরপরেই জানা যাবে কে হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের নতুন চ্যাম্পিয়ন। তাই সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের আলোচনায় এখন কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা।
শুধু দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের শক্তিমত্তা নয়, আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি কারা পরিচালনা করবেন, তা নিয়েও।
এবার ফিফা সেই প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দিয়েছে৷ শিরোপা নিষ্পত্তির ম্যাচে বাঁশি বাজানোর গুরুদায়িত্ব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মারসিনিয়াককে।
ফিফা রেফারি চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা এই ৪১ বছর বয়সীকে ফাইনাল ম্যাচের দায়িত্ব দিয়েছেন। ১৯৮১ সালের ৭ জানুয়ারি পোল্যান্ডের প্লকে জন্ম নিয়েছিলেন সাইমন মারসিনিয়াক।
২০০৯ সালে পোল্যান্ডের লীগে ম্যাচ পরিচালনা করার মধ্যে দিয়ে উচ্চ স্তরের ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। চার বছর পর ২০১৩ সালে ফিফার প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এই পোলিশকে।
চলতি কাতার বিশ্বকাপে এর আগে আরো দুইটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন সাইমন মারসিনিয়াক। নভেম্বরের ২৬ তারিখে গ্রুপ ডি-এর ফ্রান্স বনাম ডেনমার্ক ম্যাচে প্রথমবার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
পরবর্তীতে রাউন্ড অব সিক্সটিনে আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দুই ম্যাচ মিলিয়ে মোট ৫টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন এই রেফারি।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো লাল কার্ড দেখাতে হয়নি তাঁকে। তাঁর পরিচালিত ম্যাচে দেখা যায়নি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।
এছাড়া ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে সাইমন মারসিনিয়াক আর্জেন্টিনা এবং আইসল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে রেফারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
সে ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের পক্ষে একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন মারসিনিয়াক। আবার সেই আসরে জার্মানি বনাম সুইডেন ম্যাচে রেফারিং করেছিলেন তিনি।
২০১৪ সাল থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে রেফারি হিসেবে ইউয়েফায় ক্যারিয়ার শুরু করেন সাইমন মারসিনিয়াক। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এবারের আসরের দুইটি হাই ভোল্টেজ ম্যাচে ইতোমধ্যে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলান এবং ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটনে অনুষ্ঠিত অ্যাতেলেটিকো মাদ্রিদ ও পোর্তো ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছিলেন মারসিনিয়াক।
পেনাল্টি বক্সে ডাইভ দেয়ার জন্য পোর্তোর স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিকে সেই ম্যাচে লাল কার্ডও দিয়েছিলেন তিনি। সবমিলিয়ে হাই ভোল্টেজ ফুটবল ম্যাচে রেফারিং করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিতে মারসিনিয়াকের সহকারী হিসেবে থাকছেন তার স্বদেশি পাভেল সোকোলনিৎসকি ও টমাস লিস্তকিয়েভিচ।
এছাড়া চতুর্থ রেফারি হিসেবে দেখা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের ইসমাইল এলফাথকে।
অন্যদিকে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি এর গুরুদায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাইমন মারসিনিয়াকের আরেক স্বদেশী টমাস কিভিয়াটকস্কিকে।
রেফারিং নিয়ে বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না কাতার বিশ্বকাপের; এত এত উন্নত প্রযুক্তি আর ক্যামেরার ব্যবহার সত্ত্বেও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট মিলছে না।
গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত বিভিন্ন ম্যাচেই খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেছিলেন ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিয়ে।
বিশেষ করে আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল-মরক্কো এবং আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের বিতর্ক বেশ আলোড়ন তৈরি করেছিল।
এসবের তুলনায় কাতার বিশ্বকাপের দুইটি ম্যাচেই কোন ধরনের বিতর্ক তৈরি ছাড়াই নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছেন সাইমন মারসিনিয়াক। তিনি ছাড়া হাতেগোনা কয়েকজন রেফারি এই অসম্ভব কাজটি সম্ভব করতে পেরেছেন।
তাই বিশ্বকাপের ফাইনালের মত বহুল আকাঙ্খিত ম্যাচে সাইমন মারসিনিয়াকের মত অভিজ্ঞ রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া একটি প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা রঙিন করার জন্য লিওনেল মেসির সামনে এখন একমাত্র বাঁধা কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স।
অন্যদিকে পেলের পর সবচেয়ে কমবয়সী ফুটবলার হিসেবে টানা দুইটি বিশ্বকাপ জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন এমবাপ্পে।
তাই আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্সের এই লড়াই হবে রোমাঞ্চে ভরপুর। দুইটি দলই বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ইতিহাস গড়া থেকে মাত্র অল্প কিছু দূরে রয়েছে।
শুধু বিশ্বকাপ ট্রফি নয়, বরং গোল্ডেন বল, গোল্ডেন বুটের মত গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার গুলোর ফলাফলও নির্ভর করছে এই ম্যাচের উপর।