ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করছেন মেসি -এমবাপ্পে - নেইমার রোনালদোরা, খেলার মাঠে তারাই সময়ের সেরা।
কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে কেমন ছিলেন বিশ্বজয়ী এই তারকারা? তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতাই বা কেমন? তা নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের এই প্রতিবেদন।
রবিবার বিশ্বকাপ জেতার মাধ্যমে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হবার দৌড়ে এগিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি। তার শ্রেষ্ঠত্বের বিপরীতে আর কোন যুক্তি তেমন শোনা যাচ্ছে না। তবে ফুটবলে সেরা হলেও পড়াশোনার ক্ষেত্রে খুবই সাধারন ছিলেন লিওনেল মেসি।
১১ বছর বয়স পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় একটি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তার স্কুলের নাম ছিলো কোলেজিও জেনারেল লাস হেরাস স্কুল।
এরপর ১৩ বছর বয়সে স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করেন মেসি। তখন আর্জেন্টিনা ছেড়ে চলে আসেন স্পেনের বার্সালোনায়।
স্পেনে থাকাকালীন বার্সালোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়াতে প্রশিক্ষন নিয়েছেন তিনি। এ সময় একটি এলিমেন্টারি স্কুলে পড়াশোনাও করেছেন এই তারকা। পড়াশোনার ক্ষেত্রে আর দশজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতোই ছিলেন লিওনেল মেসি।
অন্যদিকে মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পড়াশোনা খুব একটা হয়নি। নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া এই তারকার বাবা ছিলেন উদ্যানতত্ত্ববিদ, আর মা ছিলেন রাঁধুনি।
অভাব সঙ্গী থাকলেও ছোটবেলায় একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন রোনালদো। তবে ১৪ বছর বয়স হতেই পড়ালেখা ছেড়ে নাম লেখান ফুটবলে।
এরপর মাত্র ১৬ বছর বয়সে সুযোগ পান ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তখন থেকে ফুটবলের সাথেই জড়িয়ে আছেন তিনি। পড়াশোনা টা আর হয়ে উঠেনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা এমবাপ্পে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই তারকা ক্রীড়া পরিবারের সন্তান। তার বাবা ছিলেন একজন ফুটবল কোচ, আর মা ছিলেন হ্যান্ডবল খেলোয়াড়।
কিলিয়ান এমবাপ্পে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ছোটবেলায় ভর্তি হয়েছিলেন একটি বেসরকারি স্কুলে।
তবে মেধাবী হলেও নিয়ম মানার ক্ষেত্রে অমনোযোগী ছিলেন এমবাপ্পে। ১১ বছর বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান তিনি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের বর্তমান তারকা নেইমার জুনিয়র। বলা হয় ব্রাজিলের সবাই ফুটবল পারে। নেইমারের পরিবারও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়।
তার বাবাও ছিলেন ফুটবলার। ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে জন্ম নেয়া নেইমার ছোটবেলায় রাস্তায় ফুটসাল খেলতেন। শৈশবে নেইমার একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে খেলাধুলার মতো পড়াশোনায় কখনোই আগ্রহী ছিলেন না তিনি।
মেসি নেইমার রোনালদো দের কারোই বলার মতো কোন ডিগ্রি নেই। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন বেলজিয়ামের তারকা রোমেলু লুকাকু।
পাবলিক রিলেশন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ইংরেজি, স্প্যানিশ, ডাচ, ফ্রেঞ্চ এবং পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলতে পারেন লুকাকু।
অন্যদিকে সেনেগালের মুসলিম ফুটবলার সাদিও মানের জীবন অনুপ্রেরণায় ঠাসা। সেনেগালের ছোট এক শহরে জন্ম নেয়া এই তারকার বাবা ছিলেন মসজিদের ইমাম।
সাদিও মানে ছোটবেলায় ফুটবল খেলতে চাইতেন, তবে এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়াতেন তার ধার্মিক বাবা।
১৫ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান সাদিও মানে। ফুটবল খেলার জন্য হাজির হন সেনেগালের রাজধানী শহরে।
বর্তমানে কোটি টাকা কামাই করা এই তারকার ছোটবেলা কেটেছে খুবই দুর্দশায়। ক্ষুদা নিবারনের জন্য মাঠে কাজ করতে হত তাকে। খালি পায়ে ফুটবল খেলতেন, পড়াশোনা করার কোন সুযোগ পাননি তিনি।
সাদিও মানে নিজেই বলেছেন, তাকে পড়াশোনা করানোর মতো সামর্থ বাবা মায়ের ছিলো না। তাই স্কুলে যাওয়া হয়নি কখনো।
নিজের শৈশবের কথা ভুলে যাননি এই তারকা। তার মতো অবস্থা যাতে আর কারো না হয়, সেজন্য নিজের এলাকায় স্কুল ও হাসপাতাল তৈরি করেছেন সাদিও মানে।